পরিবারের সদস্য ৯, ভোট পেয়েছেন ৫? না, জলন্ধরের প্রার্থী আসলে পেয়েছেন ৮৫৬ ভোট

বুম নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে জানতে পারে নীতু সুত্তেরান ওয়ালা আসলে পেয়েছেন ৮৫৬ ভোট, পাঁচটি নয়

সোশাল মিডিয়ার পোস্টে দাবি করা হয়েছে যে, জলন্ধর কেন্দ্রের এক নির্দল প্রার্থীর পরিবারে ৯ জন সদস্য থাকা সত্ত্বেও উনি মাত্র ৫ ভোট পেয়েছেন। ওই দাবিটি মিথ্যে।

বৃহস্পতিবার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায়, ভোট গণনাকেন্দ্র থেকে নীতু সুত্তেরান ওয়ালা কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে আসছেন। কারণ, তাঁর ধারণা হয়েছিল তিনি মাত্র ৫ ভোট পেয়েছেন।

ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে সুত্তেরান ওয়ালা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন আর তাঁকে ইন্টারভিউ করছেন স্থানীয় রিপোর্টাররা।



ক্লিপটি কিছুক্ষণের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। সঙ্গে দেওয়া ক্যাপশনে বলা হয়, “এই নির্দল প্রার্থী ৫ ভোট পেয়েছেন, অথচ তাঁর বাড়িতেই আছেন ৯ জন সদস্য।”

(ইংরেজি হরফ ব্যবহার করে হিন্দিতে লেখা হয়, “ইস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ক্যান্ডিডেট কো টোটাল ৫ ভোটস পঢ়ি হ্যায় অওর ইসকে ঘর মে ৯ লোগ হ্যাঁয়।”)

ফেসবুকে ভাইরাল

ফেসবুকে ভাইরাল-হওয়া ক্লিপ

বেশ কয়েকজন সোশাল মিডিয়া ব্যবহারকারী, ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’য় প্রকাশিত এক রিপোর্টের শিরোনাম শেয়ার করেন। সুত্তেরান ওয়ালার কথা উদ্ধৃত করেই ওই শিরোনামে লেখা হয়, ‘আমার পরিবারে ৯ সদস্য, কিন্তু আমি মাত্র ৫ ভোট পেলাম।’

ওনার দেওয়া বয়ান উদ্ধৃত করে টাইমস অফ ইন্ডিয়া লেখে, “আমার পরিবারে ৯ জন সদস্য আছে। কিন্তু আমি ভোট পেলাম মাত্র পাঁচটা।এটা আমার কাছে খুবই বেদনাদায়ক। আমার রাস্তার সকলে আমায় ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন। কিন্তু আমি মাত্র ৫ ভোট পেলাম। এক মাস আমার দোকান বন্ধ রেখে আমি মানুষের মধ্যে কাজ করলাম। কিন্তু তারা আমায় ভোট দিল না,” কাঁদতে কাঁদতে বলেন নীতু। তিনি আরও বলেন যে, ভবিষ্যতে আর কোনও নির্বাচনে দাঁড়াবেন না উনি।

প্রতিবেদনটির শেষের আগের প্যারাগ্রাফে বলা হয় যে, সুত্তেরান ওয়ালা ৮৫৬ ভোট পেয়েছিল, কিন্তু শিরোনামটির স্ক্রিনশটই ভাইরাল হয় সোশাল মিডিয়ায়।



তথ্য যাচাই

বুম নির্বাচন কমিশনের ওয়বেসাইট খুলে দেখে। সেখান থেকে জানা যায়, সুত্তেরান ওয়ালা আসলে ৮৫৬ ভোট পায়, ৫ নয়।

অনুমান করা হচ্ছে, প্রথম রাউন্ডের গণনা শেষ হতেই সুত্তেরান ওয়ালা হাল ছেড়ে দেন।

‘দ্য ট্রিবিউন’ তার প্রতিবেদনে জানায়, “প্রথম রাউন্ডের শেষে উনি এতটাই ভেঙ্গে পড়েন যে, আরও কয়েক রাউন্ড গণনা যে তখনও বাকি আছে, সেটা তাঁর খেয়ালই ছিল না। উনি বেশ জোরেই কাঁদছিলেন। সান্ত্বনা দেওয়া যাচ্ছিল না তাঁকে। এবং বলছিলেন ভবিষ্যতে কখনওই আর নির্বাচনে দাঁড়াবেন না।”

Show Full Article
Next Story