২০১৯-এর নির্বাচনে বিজেপি এক-তৃতীয়াংশ সাংসদকে মনোনয়ন দেয়নিঃ ৬০ শতাংশের বয়স ছিল ৫০-এর উপরে

আমাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী যে ২৬ জন সাংসদের বয়স ছিল ৭০-এর উপরে, দল তাঁদের টিকিট দেয়নি

বুম-এর বিশ্লোষণে দেখা যাচ্ছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে যে ২৭২ জন সাংসদ জয়ী হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ৯১ জনকে বিজেপি এবারের নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়নি ।

২৭২-এর মধ্যে ৯১ জন অর্থাত্ ৩৩.৪৫ শতাংশ সাংসদকে বিজেপি এবারের নির্বাচনে প্রার্থী মনোনীত করেনি, তাদের জায়গায় নতুন প্রার্থীরা টিকিট পেয়েছেন ।

ওই ৯১ জন নতুন প্রার্থীর মধ্যে ৮৪ জনই ২০১৯-এর নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন, পরাজিত হয়েছেন মাত্র ৭ জন ।

আসন-ওয়ারি মানচিত্র

২০১৪ থেকে ২০১৯

যে তিন রাজ্যে সর্বাধিক সংখ্যক সাংসদকে বিজেপি এবার মনোনয়ন দেয়নি, সেগুলি হলঃ উত্তরপ্রদেশ (২২জন), মধ্যপ্রদেশ (১৫ জন) এবং গুজরাট (১০ জন)l টিকিট না পাওয়া ৯১ জন পুরনো সাংসদের ৫১ শতাংশ (৪৭ জনই) এই তিন রাজ্যের ।

বাদ-পড়া এমপি-র সংখ্যা

উল্লেখযোগ্য যে সব সাংসদ এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি, তাঁদের মধ্যে ২০১৪য় মধ্যপ্রদেশের বিদিশা থেকে নির্বাচিত সুষমা স্বরাজ রয়েছেন, যিনি স্বাস্থ্যের কারণে এবার নিজেই দাঁড়াতে চাননি ।

অন্যজন হলেন অগ্রণী দলিত নেতা উদিত রাজ, যিনি ২০১৪ সালে নয়াদিল্লি পশ্চিম কেন্দ্র থেকে দাঁড়ালেও এবার আর দলের টিকিট পাননি এবং ক্ষুব্ধ হয়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন ।

সাংসদদের বয়ঃসীমা কমিয়ে আনা হয়েছে

২০১৯ সালের এপ্রিলেই দলীয় সভাপতি অমিত শাহ ঘোষণা করে দেন যে, বিজেপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে , ৭০ বছরের বেশি বয়সী কোনও রাজনীতিককে লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী করা হবে না ।

টিকিট-বঞ্চিত প্রাক্তন সাংসদের সংখ্যা

এবার বাদ-পড়া বিজেপি সাংসদদের মধ্যে ৫৬ জনই (৬০ শতাংশ) পঞ্চাশোর্ধ্ব এবং ৪ জনের বয়স ৪০-এরও কম ।

আমাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৭০-এর বেশি বয়সের ২৬ জন সাংসদকে বিজেপি এবার টিকিট দেয়নি ।

তাঁদের মধ্যে যেমন গুজরাটের গান্ধীনগর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা লালকৃষ্ণ আডবাণী রয়েছেন, তেমনই রয়েছেন কানপুর কেন্দ্র থেকে ২০১৪ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মুরলীমনোহর যোশী ।

মোদী ফ্যাক্টর

আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, বিদায়ী লোকসভার জয়ী দলীয় সাংসদদের এক-তৃতীয়াংশকে এবার টিকিট না দেওয়ার পিছনে কোনও সুনির্দিষ্ট রণনীতি নেই, তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আবেদন যাবতীয় স্থানীয় চাপ ও বাধ্যবাধকতাকে অতিক্রম করতে সহায়ক হয়েছে বলে মনে হয় ।

বিজেপির রাজনীতি ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষক শিবম সিংয়ের সঙ্গে বুম কথা বলেছে, যাঁর মতে জয়ী সাংসদদের টিকিট না দেওয়ার কোনও নেতিবাচক প্রভাব ভোটে পড়েনি, যেহেতু এবার জনসাধারণ মোদী ফ্যাক্টরকেই ভোট দিয়েছেন ।

২০১৯-এর লোকসভা নর্বাচনে বিজেপি বিপুল জয় অর্জন করে, ২০১৪-র নির্বাচনের ২৭২টি আসন থেকে ৩০২টি আসনে উত্তরণ ঘটিয়ে ।

তার প্রাপ্ত ভোটের শতাংশও ২০১৪-র ৩১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৭ শতাংশে পৌঁছয়, আর বিজেপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের (এনডিএ) প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ ৩৮ শতাংশ (৩৩৬টি আসন) থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ শতাংশে (৩৫৩টি আসন) ।

Next Story