দিল্লি পুলিশের ছেলের মহিলাকে মারধোরের ছবি গুজরাটের স্কুলের ঘটনা বলে চালানো হচ্ছে

২০১৮ সালে ওই একই ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। দিল্লি পুলিশের ছেলে এক বেসরকারি সংস্থার অফিসে একজন মহিলাকে মারছে এই ঘটনাটি বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছিল।

বিচলিত করার মতো একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। তাতে এক পুলিশের ছেলেকে নৃশংস ভাবে একজন মহিলাকে মারতে দেখা যাচ্ছে। সঙ্গে দেওয়া হয়েছে এক বিভ্রান্তিকর ক্যাপশান। তাতে বলা হয়েছে, লোকটি গুজরাটের ভালসাদে আরএমভিএম স্কুলের শিক্ষক।

ওই ৩০ সেকেন্ডের ক্লিপটিতে ভয়ঙ্কর মারের দৃশ্য তুলে রাখা আছে। লোকটি মহিলাকে মারতে মারতে হিন্দিতে বলে, “ওর নাম আর উচ্চারণ করবে না।” অন্য একটি লোককে বলতে শোনা যায়, “রোহিত…বন্ধ কর।” সম্ভবত, যে ভিডিও তুলছে, সেটি তারই কন্ঠস্বর। কিন্তু মহিলাটিকে বাঁচাতে কেউই এগিয়ে আসে না।

বুম ভিডিওটি আপলোড করছে না, কারণ তাতে রয়েছে নৃশংস সব মারের দৃশ্য।
ভিডিওটি ফেসবুকে হিন্দি ক্যাপশন সহ শেয়ার করা হচ্ছে। তাতে বলা হয়েছে যে, ঘটনাটি গুজরাটের ভালসাদে আরএমভিএম নামক এক স্কুলে ঘটেছে। অতীতে বেশ কয়েকটি আলাদা আলাদা ভিডিও যাতে হিংসার দৃশ্য দেখানো হয়েছিল, ভাইরাল হওয়ার জন্য সেগুলিতেও একই ক্যাপশন ব্যবহার করা হয়েছিল।

(মূল হিন্দিতে পোস্ট: “आप के whatsapp पे जितने भी नंबर एवं ग्रुप हैं एक भी छूटने नही चाहिए, ये वीडियो सबको भेजिए ये वलसाड के RM VM SCHOOL का टीचर है इसको इतना शेयर करो की ये टीचर और स्कूल दोनों बंद हो जाए। वीडियो वायरल होने से काफी फ़र्क पड़ता है ओर कार्यवाही होती है जिसे दया न आये वो अपना मुंह (टाइपिंग) बंद रखे।”)

বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্টটির স্ক্রিনশট।

তথ্য যাচাই

ওই একই ভিডিও ২০১৮ সালেও ভাইরাল হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমগুলি তখন জানিয়েছিল যে, দিল্লির এক বেসরকারি সংস্থার অফিসে এক দিল্লি পুলিশ কর্মীর ছেলেকে একজন মহিলাকে মারধর করতে দেখা যাচ্ছে ভিডিওটিতে।

সংবাদ প্রতিবেদনগুলিতে লোকটিকে দিল্লি পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টারের ছেলে রোহিত টোমার বলে চিহ্নিত করে।

‘হিন্দুস্থান টাইমস’-এ ৪ সেপ্টেম্বর তারিখে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, “পুলিশ বলছে টোমারের বন্ধু ভিডিওটি তোলে পশ্চিম দিল্লিতে অবস্থিত একটি বেসরকারি সংস্থার অফিসে। ভিডিওটি এক মহিলা প্রচার করেছেন। তবে যাঁকে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে তিনি নন। যিনি ভিডিওটি ছড়িয়েছেন, তিনি এক সময় রোহিত তোমারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।”

‘ইন্ডিয়া টুডে’র এক রিপোর্টে বলা হয়, ভিডিওতে যে মহিলাকে দেখা যাচ্ছে তাঁর সন্ধান পাওয়া গেছে এবং তিলক নগর পুলিশ স্টেশনে অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। মহিলাটি পুলিশকে জানান যে, তোমার তাঁকে এক বিপিওতে ধর্ষণ ও মারধোর করে এবং তার বন্ধু ঘটনাটির ভিডিও তোলে।

তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিং ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে ঘটানাটি সম্পর্কে ট্যুইট করেন। উনি বলেন, উনি দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে ঘটনাটির পুর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে বলেছেন।



Claim Review :  আরএমভিএম স্কুলের শিক্ষক এক মহিলাকে নৃশংসভাবে মেরেছেন
Claimed By :  FACEBOOK POST
Fact Check :  FALSE
Show Full Article
Next Story