Connect with us

কোকা কোলা কি বলেছিল আমাদের কোলা খেও না?

কোকা কোলা কি বলেছিল আমাদের কোলা খেও না?

সোশাল মিডিয়ায় ছড়ানো ভিডিওটিতে মূল ভিডিওটির ভাষ্য বিকৃত করে যোগ করা হয়েছে।

সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল-হওয়া এক ভিডিওতে বলা হয়েছে যে কোকা কোলা কোম্পানি তাদের তৈরি সামগ্রী খাওয়ার ব্যাপারে সাবধান করে দিয়েছে।

ভিডিওটিতে একটি পুরুষ কন্ঠস্বরকে কোকা কোলা খাওয়ার নেতিবাচক দিকগুলি নিয়ে অলোচনা করতে শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে যখন সেগুলি পান করার ফলে সাধারন মানুষের মধ্যে মোটা হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে।

ভিডিওটির সঙ্গ দেওয়া ক্যাপশানে বলা হয়েছে, “কোকা কোলার নতুন বিজ্ঞাপন বলছে ‘কোক পান করবেন না’ সচেতনতা ক্যাম্পেন। এ কথা সোশাল মিডিয়ায় বলার জন্য অনেক সাহস লাগে। কিন্তু কোকা কোলার কোনও উপায় নেই…সময় বদলাচ্ছে…দেখা প্রয়োজন। এটা দেখা জরুরি। কোকা কোলা কোম্পানি প্রকাশ্যে তাদের তৈরি সমগ্রী পান না করার কথা বলছে। দেখার যোগ্য।”

একই ক্যাপশন সহ ভিডিওটি হোয়াটসঅ্যাপ আর ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওটিতে বলা হয়েছে যে, তাদের বেশিরভাগ পণ্যে ক্যালরির পরিমাণ কমালেও, সেগুলি এখনও বেশ ক্ষতিকারক, যার ফলে কিডনির সমস্যা দেখা দিতে পারে।

Related Stories:

ভিডিওটিতে ভাষ্যকারকে আরও কিছু স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর অভ্যাস সম্পর্কে বলতে শোনা যায়, যেমন ধূমপান ও সেই সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন।

শেষে ভাষ্যকার বলেন যে, কোকা কোলা কোম্পানি মানুষজনকে কোক পান না করার পরামর্শ দিচ্ছে, কারণ সেটি তাদের ও তাদের পরিবারগুলিকে মেরে ফেলছে। ভাষ্যকার আরও বলেন যে, আমেরিকায় মানুষের মোটা হয়ে যাওয়ার জন্য কোক আংশিকভাবে দায়ী।

তথ্য যাচাই

আসল ভিডিওটির ভাষ্যকার এক মহিলা। নকল ভিডিওতে ওই নারীকন্ঠ সরিয়ে বসানো হয়েছে পুরুষকন্ঠ।

বুম মূল ভিডিওটির সন্ধান পায়। এবং সেটি যে আসল, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে কোকা কোলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

কোকা কোলা জানায় যে আসল ভিডিওটির ভাষ্যকার একজন মহিলা।

২০১৩ সালে ওই বিজ্ঞাপনটি প্রথম প্রচার করা হয়।

আসল ভিডিওটিতে বলা হয় যে, কোকা কোলা তাদের পণ্যে ক্যালরির পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করেছে। আরও জানানো হয় যে, আমেরিকার স্কুলগুলির জন্য এখন অন্য ধরনের জল আর কম ক্যালরির চিনি ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপনটি আরও বলে যে, কোকা কোলা এখন অল্প আর শূন্য-ক্যালরির ১৮০ পণ্য প্রস্তুত করে। মানুষের মেটা হয়ে যাওয়ার প্রবণতা রুখতে কম্পানি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ওই বিজ্ঞাপন প্রচারিত হওয়ার সময়, কোম্পানিটিকে বিস্তর সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়। আর তখনই মিথ্যে ভাষ্য সমেত ওই ভুয়ো ভিডিও প্রকাশ্যে আসে।

ওই ডাব-করা ভিডিও সম্পর্কে তাঁদের বিশদ মতামত জানতে চাইলে, কোকা কোলা কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করে।

স্থুলতা

অতীতে কোকা কোলা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিল। কারণ, তাদের উচ্চক্যালরি-সম্পন্ন পানীয় মানুষের মোটা হওয়ার প্রবণতা বাড়িয়ে তুলছিল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে স্থুলতা হল মানুষের শরীরে অতিমত্রায় স্নেহ জমে যাওয়া, যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে।

২০১৬ সালে সারা বিশ্বে ৬৫ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্থুলতার সমস্যা চিহ্নিত করা হয়।

(বুম হাজির এখন বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে। উৎকর্ষ মানের যাচাই করা খবরের জন্য, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের টেলিগ্রাম এবং হোয়াটস্‍অ্যাপ চ্যানেল। আপনি আমাদের ফলো করতে পারেনট্যুইটার এবং ফেসবুকে|)


Continue Reading

Shachi Sutaria is a fact-checker at BOOM. She has previously worked as a health research analyst at AMS Consulting, Lucknow for various national and international clients. She is a post- graduate in Public Health- Health administration from Tata Institute of Social Sciences, Mumbai.

Click to comment

Leave a Reply

Your e-mail address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

Recommended For You

To Top