পাকিস্তানি ক্রিকেট সমর্থকরা কি সত্যিই বলেছেন “আমরা পাকিস্তান চাই না, আমাদের বিরাট কোহলি দাও”?

আসল ছবি, যেটি ২০১৬ সালের অগস্টে কাশ্মীরে প্রতিবাদ চলাকালীন তোলা হয়েছিল, তাতে দেখা যাচ্ছে একটি ব্যানারে লেখা, “আমরা স্বাধীনতা চাই”।

কাশ্মীরের প্রতিবাদীদের একটি ছবি, যাতে তাঁদের হাতে থাকা ব্যানারে ‘আজাদি’ বা স্বাধীনতার দাবি করা হয়েছিল, ফোটোশপে সেই ছবিটিকে পাল্টে দেওয়া হল। ব্যানারে লেখা হল, আমরা কাশ্মীর চাই না, আমাদের বিরাট কোহলি দাও। ২০১৯ সালের আইসিসি ওয়ার্ল্ড কাপে ভারত পাকিস্তানকে হারানোর পর থেকেই এই ছবিটি শেয়ার করা হয়ে চলেছে। ছবিটিতে মিথ্যে দাবি করা হয়েছে যে পকিস্তানি ক্রিকেট ভক্তরা কাশ্মীরের বদলে ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরা্ট কোহলিকে চান।

বুম দেখে যে আসল ছবিটি ২০১৮ সালের। তাতে একদল কাশ্মীরি প্রতিবাদীকে দেখা যাচ্ছে, যাঁরা পাকিস্তানের পতাকা হাতে স্বাধীনতার দাবি করছেন।





লেখক ও শিক্ষাজীবী মধু কিশওয়ার, যিনি আগেও ফেক নিউজ টুইট করেছেন, এই ছবিটি শেয়ার করেন। ক্যাপশনে লেখেন, আগে পাকিস্তানিরা স্লোগান দিত, মাধুরী দিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে নাও। এখন তাদের আকাঙ্ক্ষা পাল্টেছে। হতাশাও নতুন। কিশওয়ারের পোস্টটিতে যে মিথ্যে দাবি করা হয়েছে, বুম আগেও তা জানিয়েছে



তথ্য যাচাই

বুম অনুসন্ধান করে জেনেছে যে এই ভাইরাল হওয়া ছবিটিতে যে ব্যানারটি দেখা যাচ্ছে, তা ফোটোশপে বসানো, এবং ছবিতে যাঁদের দেখা যাচ্ছে, তাঁরা কাশ্মীরের বাসিন্দা, পাকিস্তানের ক্রিকেট ভক্ত নন।

রুশ সার্চ ইঞ্জিন ইয়ানডেক্স ব্যবহার করে রিভার্স সার্চ করে বুম ইন্ডিয়া টুডে-র ২০১৬ সালের একটি সংবাদ প্রতিবেদনের সন্ধান পায়, যেখানে কাশ্মীরের বিক্ষোভের খবর ছিল।

প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, “কাশ্মীরি আনরেস্ট: ইউথস রেইজ প্রো-পাকিস্তান স্লোগানস ইন দ্য ভ্যালি”। সেই প্রতিবেদনটির সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশিত হয়েছিল যাতে বিক্ষোভকারীদের পাকিস্তানের পতাকা ও পাকিস্তানপন্থী গ্লোগান লেখা ব্যানার হাতে দেখা যাচ্ছে।


ইন্ডিয়া টুডে-র প্রতিবেদনের সঙ্গে প্রকাশিত আসল ছবি

আসল ছবির ব্যানারে লেখা ছিল “উই ওয়ান্ট আজাদি”। আমাদের কাশ্মীর চাই না, শুধু বিরাট কোহলিকে দিয়ে দাও, এ রকম কোনও দাবি সেখানে ছিল না।

২০১৮ সালের একটি টুইটে এই একই নকল ছবিটি দেখা যাচ্ছে। ফলে বোঝা যায়, ছবিটা বেশ কিছু দিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে।



Claim Review :  আমরা কাশ্মীর চাই না, আমাদের বিরাট কোহলি দাও
Claimed By :  FACEBOOK POSTS
Fact Check :  FALSE
Show Full Article
Next Story