এই জওয়ান কি যুদ্ধে তাঁর দুটি পা খুইয়েছেন?

ছবিটি কোনও সেনা জওয়ানের নয় বরং পেশাগতভাবে বডি বিল্ডার এবং মডেল আনন্দ আর্নল্ডের।

একটি ফেসবুক পেজ – ইন্ডিয়ান আর্মি ভারতীয় সেনা, গত সপ্তাহে একজন হুইল চেয়ারে বসা বডি বিল্ডারের ছবি শেয়ার করে এবং তার সাথে ক্যাপ্সান দেয় যে ব্যক্তি একজন ইন্ডিয়ান আর্মির জাওয়ান। ক্যাপ্সানে এটাও উল্ল্যেখ করা থাকে যে ব্যক্তি আসলে একটি যুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁর পা দুটি হারিয়েছেন। "আমাদের ভারত মাকে রক্ষা করার সময় এই জওয়ান তাঁর পা হারিয়েছেন। তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য, দয়া করে জয় হিন্দের সাথে কমেন্ট করুন। আমরা জানি যে এই দেশপ্রেমিক ছবি শেয়ার করা হবে না।"

পোস্টটি শেয়ার করার সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর কমেন্ট এবং রিয়্যাকশান দেন ইউজাররা। ছবিটি ইতিমধ্যে ৯০০ বারেরও বেশি শেয়ার করা হয়েছে।


পোস্টের এক ঝলক এখানে দেখে নিন।


পোস্টের আর্কাইভ ভার্সন এখানে দেখে নিন।

অথচ, ছবিটি কোনও সেনা জওয়ানের নয় বরং পেশাগতভাবে বডি বিল্ডার এবং মডেল আনন্দ আর্নল্ডের।


আমারা একটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করি ছবিটির এবং জানা গেছে যে তিনি আসলে উত্তর ভারতের আনন্দ আর্নল্ড। আনন্দের অনুপ্রেরণা আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগার এবং তাই তিনি তাঁর স্টেজ নেম আনন্দ আর্নল্ড রেখেছেন।

২০১৮ সালে তিনি হুইলচেয়ার বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়ন হয়ে ছিলেন।

আমরা আন্তর্জাতিক হুইলচেয়ার বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়ন্স অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে আনন্দ আর্নল্ডের সংক্ষিপ্ত বায়ো পেয়েছি।


এখানে লিঙ্ক দেখে নিন।


ক্যান্সারের কারণে ১৫ বছর বয়সে আনন্দের পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু তিনি আশা হারান না। তিনি ১৮ বছর বয়সে প্রশিক্ষণ শুরু করেন। আনন্দকে এই ওয়েবসাইটে উদ্ধৃত করা হয়েছিল, "১৫ বছর বয়সে ক্যান্সারের প্রভাবের কারণে আমার পা অকেজ হয়ে যায়। শরীরচর্চা শুরু করার জন্য আমার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওার চিকিৎসার পর তিন বছর অপেক্ষা করতে হয়। এখন আমি ২৫, এবং আমি কাজ চালিয়ে যেতে চাই। আমি বেশ কয়েকটি শিরোনাম জিতেছি, যেমন: মি ইন্ডিয়া (দুইবার); জনাব উত্তর ভারত; এবং মিঃ পাঞ্জাব (নয় বার)। "

তিনি ভারতীয় সেনা বাহিনীর সাথে কোন সম্পর্ক তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে উল্লেখ করেননি। হুইলচেয়ার বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়ন্সেও তাঁর কোনো সংযোগ লেখা নেই।

বুম সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পাঞ্জাব বাসিন্দা আর্নল্ডকে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে এবং তিনি উত্তর দিলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হবে।

Updated On: 2020-06-01T11:10:11+05:30
Show Full Article
Next Story