এই বিভ্রম ছবি গুলিতে কি মানসিক চাপ পরিমাপ করা যায়

মনোবিদ আকিওসি কিটাওকা এগুলি তৈরি করলেও এগুলি দিয়ে স্ট্রেস পরিমাপ করা যায়না।

সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া বার্তায় জাপানি মনোবিদ আকিওসি কিটাওকার 'ইলিউসান আর্ট' বা বিভ্রম শিল্পের ছবি শেয়ার করে মিথ্যে দাবি করা হয়েছে সেটির দিকে তাকালে 'স্ট্রেস' মাপা যায়।

ওই বার্তাটিতে একটি 'বিভ্রম শিল্পে'র ছবি দেওয়া হয়েছে যেখানে নীল রঙের উপর চারটে হলুদ, বেগুনি ও কালো রঙের সংমিশ্রনে কয়েকটি গোলাকার বৃত্ত রয়েছে। প্রতিটি বৃত্তে রয়েছে তিনটি বৃত্ত। ছবিটির দিকে তাকালে দর্শকের বিভ্রম হয় যেন চাকতিগুলি ঘুরছে।

ইংরেজিতে ভাইরাল হওয়া মেসেজটিতে লেখা হয়েছে, ''জাপানি মনোবিদ আকিওসি কিটাওকার ছবি তৈরি করেছেন এমন নকশায় যা দেখলে দর্শকের মনের অবস্থা নির্ধরণ করতে পারবে। মূলত তুমি যদি এই ছবিগুলির দিকে তাকাও আর স্থির মনে হয় তাহলে (ফুরফুরে), আসতে আসতে সরলে (স্বল্প-চাপ) এবং দ্রুত সরলে (উচ্চ-চাপ)। তোমার ফলাফল?

(ইংরাজিতে মূল বার্তাটি: Japanese Psychiatrist Akiyoshi Kitaoka created images designed to help viewers of the images determine their state of mine. Essentially, if you look at thsese iamges and they appear to be still (RELAXED), moving slowly (MID-STRESS) and faster moving around (HI-STRESS) and faster moving around (HI-STRESS). Your result???

বুমের হোয়াটসঅ্যাপ হেল্পলাইন ৭৭০০৯৬০৬১১১ এই বার্তটি পঠিয়ে এটার সত্যতা জানতে চেয়েছেন। এভাবে আদেও মানসিক চাপ পরিমাপ করা য়ায় কিনা?

বুমের হেল্পলাইনে আসা বার্তাটি।

বুম সার্চ করে দেখেছে একই বয়ানে এই ছবি সহ বার্তাটি ফেসবুকেও ছড়িয়েছে।

পোস্টটি আর্কাইভ করা আছে এখানে

তথ্য যাচাই

বুম জাপানের কিয়োটোর রিটশুমিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিদ্যার অধ্যাপক আকিওসি কিটাওকার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তিনি বুমকে বলেন,

"মানসিক চাপের সঙ্গে ভিশুয়াল ইলুউশান বা বিভ্রম ছবির কোনও সম্পর্ক নেই। এই ছবি গুলি দেখে মানের অবস্থা বা মানসিক চাপ মাপা সম্ভব নয়।"

আকিওসি কিটাওকা, ইলিউশান শিল্পী ও মনোবিদ্যার অধ্যাপক, রিটশুমিকান বিশ্ববিদ্যালয়, কিটাওয়া


রিটশুমিকান বিশ্ববিদ্যালের ওয়েবসাইটেও দেখা যাবে আকিওসি কিটাওকার আঁকা এধরেনের আরও অনেক ছবি। তিনি বুমকে জানান, কোরেল ড্র দিয়ে তিনি এঁকেছেন এই ছবি। ছবিগুলি একরকমের ইলিউশান আর্ট বা বিভ্রম শিল্পকলা

আকিওসি কিটাওকা মনোবিদ্যা পড়ান সেকারনে এই ধরনের ভ্রান্ত গুজবের উংপত্তি হলেও হতে পারে। আর মানসিক চাপ সংক্রান্ত সমস্যায় ছবিতে চটজলদি পরীক্ষার চেষ্টা না করে দক্ষ মনোবিদের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

তার টুইটার ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেখা যাবে তার বেশ কিছু বিভ্রম শিল্পকলা চিত্র।



Updated On: 2020-07-25T17:10:08+05:30
Claim Review :   ছবি দেখে মাপা যায় মানসিক চাপ
Claimed By :  FACEBOOK POST AND WHATSAPP MESSAGE
Fact Check :  False
Show Full Article
Next Story