কেজরিওয়ালের বক্তৃতার সাজানো ভিডিও ভাইরাল

ঐক্যবদ্ধ ভারত সমাবেশে কেজরিওয়ালের দেওয়া বক্তৃতার কয়েকটি সাজানো ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার হয়েছে

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এই সপ্তাহে ভুয়ো খবর বাহিনীর সমবেত আক্রমণের শিকার । কলকাতায় অনুষ্ঠিত ঐক্যবদ্ধ ভারত জমায়েতে তাঁর ভাষণের কয়েকটি সাজানো ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে ।

ফেসবুক ভিডিও —“মোদী এবং শাহ পাকিস্তানকে ধ্বংস করে দেবে”

ব্যাপকভাবে শেয়ার হওয়া ফেসবুকের এই ভিডিওটিতে কেজরিওয়ালকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “যত ভাবছি, ততই আমার সারা শরীর কাঁপছে যে, যদি মোদী এবং শাহ ২০১৯-এ আবার ক্ষমতায় ফেরে, তাহলে পাকিস্তান আর টিকে থাকবে না, পাকিস্তান ধ্বংস হয়ে যাবে” ।

এই ভিডিওটি এ পর্যন্ত ৪৫ হাজার জন দেখেছে এবং ফেসবুকে ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে । আমরা ভিডিওটি বেশ কয়েকবার চালিয়ে দেখি যে যখনই পাকিস্তানের নাম উচ্চারিত হচ্ছে, তখনই বক্তার গলার স্বরে একটা আশ্চর্য পরিবর্তন হচ্ছে এবং পিছন থেকে রকমারি হট্টগোল শোনা যাচ্ছে । কলকাতায় অনুষ্ঠিত সমাবেশটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং তার মধ্যে কেজরিওয়ালের সমগ্র ভাষণটির অ-সম্পাদিত ভিডিওটি তেলুগু সংবাদ-চ্যানেল এপি২৪x৭-এ ধরা আছে ।

এই ভিডিওটিতেই ৫টা ২৮ মিনিটে ভাষণের মূল অংশটি রয়েছে, যেটি ব্যবহার করে ভাইরাল হওয়া ভুয়ো ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে । মূল ভাষণটিতে কেজরিওয়ালকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “যদি ২০১৯-এ মোদী এবং শাহ ক্ষমতায় ফিরে আসেন, তাহলে এই দেশ আর বাঁচবে না, এ দেশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে” । ভুয়ো ভিডিওটিতে দেশ শব্দটির জায়গায় পাকিস্তান শব্দটি জুড়ে দেওয়া হয়েছে । এটা ঠিক যে কেজরিওয়াল তাঁর ভাষণে পাকিস্তান শব্দটি উচ্চারণ করেছেন, কিন্তু তার প্রসঙ্গ সম্পূর্ণ আলাদা । ৫টা ১৭ মিনিটে তাঁকে বলতে শোনা যাচ্ছে—“পাকিস্তান গত ৭০ বছর ধরে ভারতকে ভাগ করার খোয়াব দেখে আসছে । পাকিস্তান ৭০ বছরে যা করতে পারেনি, মোদী এবং শাহ ৫ বছরেই তা করতে সফল হয়েছেন” । পাকিস্তানের ধ্বংস হওয়া নিয়ে কোনও শব্দ কেজরিওয়াল উচ্চারণ করেননি, যেমনটা নাকি ভুয়ো ভিডিওতে দেখানো হয়েছে ।

অল্টনিউজও এই ভুয়ো ভিডিওটিকে নস্যাত্ করে দিয়েছে ।

টুইটার ভিডিও—কেজরিওয়াল চাঁদা চাইছেন


টুইটারে শেয়ার হওয়া আর একটি ভুয়ো ভিডিওয় কেজরিওয়ালকে বলতে শোনা যাচ্ছে—“যাঁরা প্রকৃত দেশপ্রেমী, সত্যিই দেশের কথা ভাবেন, তাঁদের একটা কথা মনে রাখতে হবে l তাঁদের সকলকে টাকা দান করতে হবে । যাঁরা গরিব, তাঁরা মাসে ১০০ টাকা করে দিন, যাঁরা আর একটু সচ্ছল, তাঁরা ১০০০ টাকা করে দিন, যাঁরা আরও একটু সচ্ছল, তাঁরা মাসে ১০০০০ টাকা করে দিন, আর যাঁরা আরও সচ্ছল, তাঁরা মাসে ১ লক্ষ টাকা করে দিন”।

এই ভিডিওটিও আমরা খুঁটিয়ে পরীক্ষা করলাম । দেখলাম—ঠিক ফেসবুক ভিডিওটির মতোই যখনই কেজরিওয়াল দেশের স্বার্থে জনসাধারণকে টাকা দান করার আহ্বান জানাচ্ছেন, তখনই তাঁর গলার স্বর অদ্ভূতভাবে পাল্টে যাচ্ছে, অন্যরকম শোনাচ্ছে এবং পিছন থেকে নানা কোলাহলের শব্দ ভেসে আসছে । এবারও আমরা তাঁর মূল ভাষণের ভিডিওটি পরীক্ষা করলাম । দেখলাম—আসল ভিডিওটির ৮টা ৯ মিনিটে দেওয়া যে বক্তব্যকে টুইটারের ভুয়ো ভিডিও অপব্যবহার করেছে, সেখানে কেজরিওয়াল চাঁদা তো চাইছেনই না, বরং তাঁকে বলতে শোনা যাচ্ছে—“২০১৯ সালে মোদী ও অমিত শাহকে হটাতে যা কিছু করা দরকার, করুন” ।

আমরা গুগল-এও কেজরিওয়াল ডোনেশন চাইছেন, এই মর্মে হেডিং দিয়ে সন্ধান চালাই এটা জানতে যে, শনিবার কলকাতার জনসভায় তাঁর ভাষণে জুড়ে দেওয়া কথাগুলোর উত্স কী ? আমরা দেখি যে কেজরিওয়ালের একটি পুরনো ভিডিও থেকে ওই অংশটি তুলে শনিবারের ভাষণে জুড়ে দেওয়া হয়েছে । পুরনো ভিডিওটিতে কেজরিওয়াল তাঁর দল আম আদমি পার্টির (AAP) স্বেচ্ছাসেবকদের এক সভায় “আপ কা দান, রাষ্ট্র কা নির্মাণ” নামক চাঁদা তোলার অভিযানে বক্তৃতা প্রসঙ্গে ওই কথা বলছেন ।

এই ভিডিওটিতে কেজরিওয়াল দলীয় স্বেচ্ছাসেবকদের চাঁদা দিতে বলছেন ঠিক ওই শব্দগুলিই ব্যবহার করে, যেগুলি তাঁর শনিবারের ভাষণে জাল করে জুড়ে দেওয়া হয়েছে ।
সুতরাং কেজরিওয়াল তাঁর শনিবারের ভাষণে সমবেত জনসাধারণের উদ্দেশে এ ধরনের কোনও চাঁদা দানের কথা বলেননি । ১৯ জানুয়ারি কলকাতায় যে ঐক্যবদ্ধ ভারত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, তাতে সারা দেশের আঞ্চলিক দলগুলির নেতৃবৃন্দ এক মঞ্চে এসে জড়ো হয়েছিলেন বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএর বিরুদ্ধে একটা ঐক্যবদ্ধ জোট গড়ে তোলার লক্ষ্যে । সমাবেশের লক্ষ্য যদিও ছিল নরেন্দ্র মোদীকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে হটানোর জন্য একজোট হওয়া, তবু বিকল্প জোটের প্রতিনিধিত্ব কে করবেন, সেই প্রশ্নে কোনও ঐকমত্য বিরোধী নেতারা জনসাধারণের কাছে তুলে ধরতে পারেননি ।

Show Full Article
Next Story