'দিল্লিতে ৮০০ জন নিখোঁজ' খবরটি বিভ্রান্তিকর দাবি সহ শেয়ার করা হচ্ছে
বুম দেখে, পুলিশি তথ্যের উপর ভিত্তি করে ৮০৭ জন নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা সঠিক হলেও, তা কোনও 'উদ্বেগজনক বৃদ্ধি' নির্দেশ করে না।

গত বেশ কিছুদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়া নানা উদ্বেগজনক পোস্টে ছয়লাপ, যেখানে বলা হচ্ছে ২০২৬ সালের প্রথম ১৫ দিনেই রাজধানী দিল্লি (Delhi) থেকে ৮০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এসব পোস্টে প্রায়ই দিল্লিতে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হ্যাশট্যাগ যুক্ত করা হচ্ছে এবং এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন নিখোঁজের ঘটনায় হঠাৎ ও নজিরবিহীন বৃদ্ধি ঘটেছে, যা জনমানসে ভয়ের সৃষ্টি করছে।
বুম যাচাই করে দেখে, দাবিটি বিভ্রান্তিকর। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা ৮০৭ জন হওয়া তথ্যগতভাবে সঠিক হলেও, তা অস্বাভাবিক কোনও বৃদ্ধির প্রমাণ দেয় না। বরং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে যতজন নিখোঁজ হয়েছেন, সেই সংখ্যা আগের বছরগুলোর তুলনায় কম।
ভাইরাল দাবি
এক্স, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাল পোস্টগুলোতে বলা হচ্ছে, “মাত্র ১৫ দিনেই দিল্লিতে ৮০০ জন নিখোঁজ হয়েছেন।” কিছু ক্যাপশনে আবার এমন ইঙ্গিতও রয়েছে যে নিখোঁজ ব্যক্তিদের ডার্কওয়েবে বিক্রি করা হচ্ছে (লিঙ্ক)। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও বিষয়টি শেয়ার করে পরিস্থিতিকে “অস্বাভাবিক” বলে উল্লেখ করেছেন।
কী পেলাম আমরা অনুসন্ধানে
আমাদের তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে ঐতিহাসিক প্রবণতা এবং উদ্ধারের হার সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট ছাড়াই ভাইরাল এই সংখ্যাগুলি শেয়ার করা হচ্ছে।
১. দিল্লি পুলিশের যাচাইকৃত পরিসংখ্যান অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয় না: বুম দিল্লি পুলিশের ওয়েবসাইটে থাকা নিখোঁজ ব্যক্তিদের ডেটাবেস পরীক্ষা করে। সেখানে দেখা যায়, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ৮০৭টি নিখোঁজ ডায়েরি নথিভুক্ত হয়েছে। তবে বিস্তারিত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে পরিষ্কার হয়, এমন সংখ্যা অস্বাভাবিক কোনও ঘটনার প্রমাণ নয়।
- দৈনিক গড়: ১৫ দিনে ৮০৭টি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে গড় করলে প্রতিদিন প্রায় ৫৪ জন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটে।
- ঐতিহাসিক তুলনা: এটি পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় একটি হ্রাস। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৫ সালের পুরো বছরে মোট ২৪,৫০৮ জন নিখোঁজ হয়েছিলেন, যা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬৭ জন।
২. সরকারি তথ্যের বিশ্লেষণ (প্রতিদিনের গড়, ২০১৬ - ২০২২): দিল্লির নিখোঁজ ব্যক্তিদের সরকারি তথ্য সারণি (২০১৬-২০২২) বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ২০২২ সালের শুরুর দিকে দৈনিক নিখোঁজ হওয়ার হারটি প্রকৃতপক্ষে পূর্ববর্তী চার বছরে রেকর্ড করা দৈনিক গড়ের চেয়ে কম।
৩. উদ্ধারের হার উপেক্ষিত: ভাইরাল পোস্টগুলিতে পুলিশ রেকর্ডে থাকা ‘শনাক্তকৃত’ বা খুঁজে পাওয়ার পরিসংখ্যান এড়িয়ে গিয়ে কেবল ‘নিখোঁজ’ সংখ্যাটিই তুলে ধরা হচ্ছে। তথ্য থেকে দেখা যায়, শনাক্ত করার প্রচেষ্টা চলমান এবং সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উদ্ধারের হার ধারাবাহিকভাবে ৬০% থেকে ৮০% এর মধ্যে রয়েছে। ২০২৬ সালের ১ থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে নিখোঁজ হিসেবে নথিভুক্ত ৮০৭ জনের মধ্যে ২৩৫ জনকে, অর্থাৎ ২৯.১%, একই পাক্ষিকের মধ্যেই খুঁজে বের করা হয়েছে।
৪. দাবি প্রত্যাখ্যান দিল্লি পুলিশের: দিল্লি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা সঞ্জয় ত্যাগী নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার দাবিটিকে ভিত্তিহীন এক গুজব বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ত্যাগীর মতে, পূর্ববর্তী বছরগুলোর জানুয়ারি মাসের তুলনায় ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে নিখোঁজ ব্যক্তির মামলার সংখ্যা কমেছে।






