ভুয়ো সাম্প্রদায়িক দাবিতে ছড়াল নদীয়ায় মূর্তি ভাঙার ঘটনা
বুমকে মৃৎশিল্পী জয়ন্ত দাস ও শান্তিপুর পুলিশ উভয়েই জানান, ঘটনায় অভিযুক্তরা হিন্দু এবং সাম্প্রদায়িক কোনও কারণে তা ঘটেনি।

সম্প্রতি নদীয়ার শান্তিপুরে (Santipur) এক মৃৎশিল্পীর কারখানায় তৈরি করা ঠাকুরের মূর্তি ভেঙে তছনছ করে দেওয়ার বেশ কিছু ছবি ভাইরাল হয় সমাজমাধ্যমে।
ঘটনার পর বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য ভাঙা মূর্তির কিছু ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দাবি করেন, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের রাজত্বে এভাবেই "সনাতন ধর্মের উপর আক্রমণ" করা হয়েছে বাংলায়। সেই পোস্টে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস-শাসিত বাংলায় "হিন্দু বিদ্বেষের" উল্লেখও করা হয়।
দাবিটি যাচাই করতে বুম মৃৎশিল্পী জয়ন্ত দাস ও শান্তিপুর পুলিশের সাথে কথা বলে। উভয়েই বুমকে নিশ্চিত করে জানান ঘটনায় অভিযুক্তরা হিন্দু এবং সাম্প্রদায়িক কোনও কারণে মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনাটি ঘটেনি।
ভাইরাল দাবি
বিজেপির আইটি সেল প্রধান ছাড়াও বেশ কিছু ব্যবহারকারী ঘটনাটি 'মৌলবাদী শক্তির কাজ' বলে ফেসবুকে পোস্ট করেন। ফেসবুকে ভাইরাল এক গ্রাফিকের ক্যাপশন হিসেবে লেখা হয়, "শান্তিপুরে মৌলবাদী তান্ডব! মৃৎশিল্পীর ওয়ার্কশপে ভাঙা পড়ল ৫০ দেবী মূর্তি। মৃৎশিল্পী জয়ন্ত দাসের ওয়ার্কশপের বাইরে রাখা প্রায় ৫০-৬০টি কালী এবং সরস্বতী দেবীর মাটির মূর্তি ভেঙে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা"।
পোস্টটি দেখতে ক্লিক করুন এখানে ও তার আর্কাইভ দেখতে এখানে।
আমরা কী পেলাম অনুসন্ধানে: ঘটনার সাথে সাম্প্রদায়িকতার সম্পর্ক নেই
১. মৃৎশিল্পীর বক্তব্য: ঘটনাটির বিষয়ে জানতে বুম প্রথমে সম্পর্কিত সংবাদ প্রতিবেদন খোঁজার চেষ্টা করে। শান্তিপুরে মূর্তি ভাঙা সংক্রান্ত কীওয়ার্ড সার্চ করে আমরা বেশ কিছু স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদন খুঁজে পাই যেখানে ঘটনায় অভিযুক্তদের নাম অমিত দে ও অসিত দে বলে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে গত ৬ ও ৭ জানুয়ারি প্রকাশিত নিউজ১৮ বাংলা ও ইটিভি ভারত বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নদীয়ার শান্তিপুরে মৃৎশিল্পী জয়ন্ত দাস ও তার ছেলে পলাশ দাসের মূর্তি তৈরির কারখানায় ঘটনাটি ঘটে। ৬ জানুয়ারি সকালবেলা কারখানায় গিয়ে মূর্তি ভাঙার ঘটনাটি দেখা যায়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে জানা যায়, অমিত দে ও অসিত দে মূর্তিগুলি ভাঙার সঙ্গে জড়িত।
বুম এরপর বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে মৃৎশিল্পী জয়ন্ত দাসের সাথে কথা বলে। ঘটনার সাথে জড়ান সাম্প্রদায়িক দাবিটি খণ্ডন করে জয়ন্ত বুমকে জানান, অভিযুক্তরা অন্য কোনও সম্প্রদায়ের নন। জয়ন্ত বলেন, "সাম্প্রদায়িক কোনও কারণে ঘটনাটি ঘটেনি। মূর্তিগুলো কারা ভেঙেছে তা জানতে আমরা কারখানার উল্টোদিকের এক বাড়িতে লাগানো সিসিটিভি ফুটেজ দেখি। ওই ফুটেজেই আমরা অমিত দে ও অসিত দে-কে দেখতে পাই। দুজনেই এই এলাকার এবং আমাদের পরিচিত। আমরা ওদের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছি।"
২. সাম্প্রদায়িক দাবি খণ্ডন পুলিশের: ঘটনার বিষয়ে জানতে বুম শান্তিপুর থানার সাথেও যোগাযোগ করে। শান্তিপুর থানার তরফে সাম্প্রদায়িক দাবিটি খণ্ডন করে জানান হয়, তারা অভিযুক্ত অমিত দে ও অসিত দে-র বিরুদ্ধে মৃৎশিল্পীর অভিযোগ পেয়েছেন এবং উভয় অভিযুক্তই বর্তমানে পলাতক।
তাছাড়া রানাঘাট পুলিশের ফেসবুক পেজের তরফেও এবিষয়ে সেখানকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লাল্টু হালদারের এক বক্তব্য পোস্ট করা হয়। ওই পোস্টে মৃৎশিল্পী ও অভিযুক্ত অমিত দে-র মধ্যে বচসার পর মূর্তি ভাঙার ঘটনাটি ঘটে বলে উল্লেখ করা হয়।







