চীনের অরুণাচল দখল দাবিতে ছড়াল ভারতীয় সেনা অফিসারের ডিপফেক ভিডিও
বুম দেখে, ২০২৩ সালের এক ভিডিওকে বিকৃত করে ভাইরাল ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।

সম্প্রতি ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা গিরীশ কালিয়ার (Girish Kalia)সম্পাদিত একটি ভিডিও ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে দাবি করা হয়, কালিয়া অরুণাচল (Arunachal Pradesh) প্রদেশের কিছু অংশ চীনের দখল করার কথা স্বীকার করেছেন এবং ভারতীয় বাহিনীকে চীনা সেনাদের পরিবর্তে জেন জি প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে বুম যাচাই করে দেখে, ভাইরাল ভিডিওটি ২০২৩ সালের অক্টোবরের এক পুরনো ফুটেজ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। আসল ভিডিওতে কালিয়াকে জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর অনুপ্রবেশের চেষ্টা নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। এছাড়া, একটি এআই-ভিত্তিক ভয়েস ডিটেকশন টুলও ভাইরাল ভিডিওর অডিওকে সম্ভাব্য ডিপফেক হিসেবে শনাক্ত করেছে।
গত ২৩ অক্টোবর অরুণাচল প্রদেশের পূর্ব সিয়াং জেলায় এনএইচপিসির সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। এর জেরে পাসিঘাটে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং জনসমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ২৫ অক্টোবর, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে আইটিবিপির মহাপরিচালক শত্রুজিৎ কাপুরের বক্তব্য উল্লেখ করে জানানো হয়, অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারতীয় ও চীনা সেনাদের মধ্যে সাম্প্রতিক মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশ মন্ত্রক জানায়, চীনা সেনারা সীমান্তে প্রচলিত টহলদারির ধরণ থেকে সরে এলে সাধারণত এধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়।
ভাইরাল দাবি
ভিডিওটি পোস্ট করে ফেসবুকে ক্যাপশন হিসেবে লেখা হয়, "অরুণাচল নিয়ে বিস্ফোরক দাবি! চিনের নিয়ন্ত্রণে বহু এলাকা? সাংবাদিক সম্মেলনে কী বললেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল গিরিশ কালিয়া!"
পোস্টটি দেখতে ক্লিক করুন এখানে ও তার আর্কাইভ দেখতে এখানে।
কী পেলাম আমরা অনুসন্ধানে: ভাইরাল ভিডিওটি ডিপফেক
১. আসল ভিডিও: বুম দেখে, আসল ভিডিওটি ২৭ অক্টোবর, ২০২৩ তারিখের। ভাইরাল ভিডিওর একটি কীফ্রেম ব্যবহার করে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে আমরা ওই তারিখে সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশিত ভিডিওটি সমেত একটি পোস্ট খুঁজে পাই।
আসল ভিডিওতে মেজর জেনারেল গিরীশ কালিয়াকে জম্মু ও কাশ্মীরের কুপওয়ারায় সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলতে দেখা যায়। সেই সময় তিনি ২৮ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ছিলেন।
২. এআই ডিটেকশন টুলের ফলাফল: ভাইরাল ভিডিওর অডিওর সত্যতা যাচাই করতে আমরা হিয়া ডিপফেক ভয়েস ডিটেক্টর ব্যবহার করি। টুলটি অডিওটির প্রামাণিকতার স্কোর ১০০-এর মধ্যে ১৮ দিয়েছে, যা নমুনাটিতে ডিপফেক থাকার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।






