UGC বিধি নিয়ে প্রতিবাদ দাবিতে ছড়াল অসম্পর্কিত বিক্ষোভের ভিডিও
বুম যাচাই করে দেখে নয়া ইউজিসি-র বিধির সাথে প্রতিবাদের ভিডিও দুটির কোনও সম্পর্ক নেই।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের দুটি ভিডিওর এক কোলাজ পোস্ট করে সম্প্রতি দাবি করা হয় তাতে নয়া ইউজিসি-র (UGC) বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদের দৃশ্য দেখা যায়।
বুম যাচাই করে দেখে ভিডিওগুলি নতুন ইউজিসি-র বিধি সংক্রান্ত প্রতিবাদের দৃশ্যের নয়। অসম্পর্কিত দুটি প্রতিবাদের ঘটনার ভিডিও পোস্ট করে বিভ্রান্তিকর দাবিটি করা হয়েছে।
সম্প্রতি জাতিগত বৈষম্য বিরোধী ইউজিসি-র নতুন নিয়মবিধিকে কেন্দ্র করে উষ্মা তৈরি হয়েছে উচ্চবর্ণের পড়ুয়াদের মধ্যে। ইউজিসি-র নয়া নিয়মের বিরোধিতায় উচ্চবর্ণ সমাজের ছাত্র ও যুবকরা দিল্লি, লখনউ, এলাহাবাদ, বারাণসী ও চন্দৌলি সহ দেশের একাধিক শহরে বিক্ষোভ দেখান। ইউজিসি-র নতুন নিয়মবিধিকে নিয়ে বারাণসী ও চন্দৌলিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও অমিত শাহের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়, আর বিহারের নবাদায় তাঁদের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
ভাইরাল দাবি
ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশন হিসেবে লেখা হয়, "বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমতা প্রসারের নিয়মাবলী, ২০২৬ জারি করেছে, যার মাধ্যমে ভারতের সমস্ত কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্য বিরোধী ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, কিন্তু এই পদক্ষেপের ফলে ছাত্র গোষ্ঠী এবং সামাজিক সংগঠনগুলি প্রতিবাদ এবং আপত্তি জানিয়েছে, যারা যুক্তি দেয় যে এই নিয়মগুলি প্রতিনিধিত্ব, পদ্ধতিগত ন্যায্যতা এবং সাংবিধানিক সমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে।"
পোস্টটি দেখতে ক্লিক করুন এখানে ও তার আর্কাইভ দেখতে এখানে।
অনুসন্ধানে আমরা কী পেলাম: প্রতিবাদের ভিডিওগুলি অসম্পর্কিত
১. ২০২৫ সালের ছত্তীসগড়ের ভিডিও: ভিডিওটির কিছু ফ্রেমকে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে,আমরা প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক বিকাশ উপাধ্যায়ের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখের একটি পোস্ট খুঁজে পাই, যাতে ভাইরাল ভিডিওটির অনুরূপ দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। এর থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়, ভিডিওটি সাম্প্রতিক নয়, বরং এই ইউজিসি নিয়ম প্রবর্তনের আগেকার।
পোস্টটির ক্যাপশন হিসেবে লেখা হয়, ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় আদালতের সিদ্ধান্তের পর, কংগ্রেস ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে ছত্তীসগড়ের রায়পুরে বিজেপির বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। আমরা দেখতে পাই, ভাইরাল ভিডিওতে মোদী এবং শাহের ছবিতে কালি ছিটিয়ে দেওয়া ব্যক্তি হলেন কংগ্রেস নেতা বিকাশ উপাধ্যায়, যিনি রায়পুর পশ্চিমের প্রাক্তন বিধায়ক। ভাইরাল ভিডিওটির একটি অংশ তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখের আরেকটি পোস্টেও দেখা যায়।
এছাড়াও সম্পর্কিত কীওয়ার্ড সার্চ করে আমরা রায়পুরে কংগ্রেসের বিক্ষোভ সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি মিডিয়া রিপোর্টও খুঁজে পাই। দৈনিক ভাস্কর, এনডিটিভি, দ্য প্রিন্ট, নবভারত টাইমস এবং অমর উজালার প্রতিবেদন অনুসারে, দিল্লির একটি আদালত ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ইডির অর্থ তছরুপের অভিযোগে আমল নিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর, কংগ্রেস কর্মীরা ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে রায়পুর সহ বেশ কয়েকটি স্থানে তাদের বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
প্রতিবেদনগুলিতে বলা হয়, রায়পুরে বিক্ষোভের সময় কংগ্রেস কর্মীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের পোস্টার কালো করে দেন।
২. SIR সংক্রান্ত পশ্চিমবঙ্গে প্রতিবাদের ভিডিও: দ্বিতীয় ভিডিওটির কিছু মূল ফ্রেমকে রিভার্স সার্চ করে আমরা একই দৃশ্যসমেত এক ইনস্টাগ্রাম পোস্ট খুঁজে পাই যেখানে প্রতিবাদের ঘটনাটি পশ্চিমবঙ্গের হরিহরপাড়ার বলে উল্লেখ করা হয়। বাংলায় এরপর সম্পর্কিত কীওয়ার্ড সার্চ করে আমরা একই ভিডিওসমেত উত্তরবঙ্গ সংবাদের ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক পোস্ট খুঁজে পাই যেখানে পোস্টটির ক্যাপশন হিসেবে লেখা হয়, "এসআইআর-এর প্রতিবাদে উত্তাল হরিহরপাড়া, মোদি-শায়ের কুশপুত্তলিকা দা*হ তৃণমূলের"।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরিহরপাড়ায় ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকেলে SIR-এর নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগে তীব্র প্রতিবাদে বিধায়ক নিয়ামত শেখের নেতৃত্বে বিরাট প্রতিবাদ ও ধিক্কার মিছিল হয়। এছাড়াও ওই প্রতিবেদনে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ ও নির্বাচন কমিশনারের কুশপুতুল দাহ করে বিক্ষোভে বিভিন্ন তৃণমূল নেতা উপস্থিত ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়।






