বিজেপি আমলে উত্তরপ্রদেশে শংকরাচার্যের উপর লাঠিচার্জ বলে ছড়াল ২০১৫-র ভিডিও
বুম দেখে ভাইরাল ভিডিওটি ২০১৫ সালের যখন উত্তরপ্রদেশে অখিলেশ যাদবের নেতৃত্বে সমাজবাদী পার্টির সরকার ছিল।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তরাখণ্ডের জ্যোতির্মঠের স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর (Swami Avimukteshwaranand Saraswati) উপর উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) পুলিশের লাঠিচার্জের (police lathicharge) একটি পুরনো ভিডিও বিজেপি (BJP) সরকারের আমলে ঘটা সাম্প্রতিক ঘটনার দাবিতে ভাইরাল হয়েছে।
বুম দেখে ভিডিওটি ২০১৫ সালের বারাণসীতে তোলা এবং সেসময় উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টির সরকার ছিল, বিজেপি সরকার নয়।
স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী সম্প্রতি খবরের শিরোনামে আসেন যখন তিনি অভিযোগ করেন প্রয়াগরাজে আয়োজিত মাঘ মেলায় মৌনি অমাবস্যার দিন তাকে সংগমের জলে স্নান করতে পুলিশ বাধা দিয়েছে বলে।
ভাইরাল দাবি
একটি ফেসবুক পেজের তরফে ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে ক্যাপশনে দাবি করা হয়, "এটা বাংলাদেশ নয়! এটা বিজেপি-শাসিত উত্তরপ্রদেশ! দেখুন, কীভাবে শংকরাচার্যকে মারা হচ্ছে! হিন্দু ধর্মের কথা বলা শুভেন্দুরা কোথায়? বাংলাদেশের ঘটনা নিয়ে যারা এত অভিনয় করল, তারা নিজেদের শাসিত রাজ্যেই সাধুর উপর আক্রমণ করছে! মুখোশ খুলে গেছে! বিজেপি মানেই হিন্দু-বিরোধী! এদের উচিত শিক্ষা দেবে বাংলার জনগণ!"
পোস্টটি দেখুন এখানে। আর্কাইভ দেখুন এখানে।
অনুসন্ধানে আমরা কী পেলাম
১. ২০১৫ সালের ভিডিও: বুম ভাইরাল ভিডিওর কিফ্রেমের রিভার্স ইমেজ সার্চ করে স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর ফেসবুক পেজ 1008.Guru-তে ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫-র একটি পোস্টে ভাইরাল ভিডিওর একটি দীর্ঘতর সংস্করণ দেখতে পায়। এর থেকে স্পষ্ট হয় ঘটনাটি সাম্প্রতিক নয় বরং ২০১৫ সালের।
ফেসবুক পেজটিতে একই তারিখের একাধিক পোস্টে শংকরাচার্য ও তার অনুগামীদের উপর পুলিশি লাঠিচার্জের ভিডিও দেখা যায়। এছাড়াও, এধরণের কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদনও আমরা পায়নি যা ভাইরাল দাবিকে সমর্থন করে। আমরা দেখি ২০১৫ সালে উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি শাসিত সরকার ছিল। ২০১৭ সালে যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে উত্তরপ্রদেশে বিজেপি সরকার গঠিত হয়।
২. ঘটনার বিস্তারিত: আমরা ঘটনার বিস্তারিত জানতে কিওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে ইউটিউবে আজতকের ২০১৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরের একটি প্রতিবেদন পাই। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তৎকালীন এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বারাণসীতে গঙ্গা নদীতে মূর্তি বিসর্জনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। এরপর, ধর্মীয় সংগঠনটি গঙ্গায় গণেশ মূর্তি বিসর্জন দিতে চাইলে পুলিশ তাকে বাধা দেয় এবং সেখান থেকে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।







