নেপালে মসজিদের আগুন লাগানোর সাম্প্রদায়িক দাবিতে ছড়াল শ্রীনগরের ভিডিও
বুম দেখে, ভিডিওটিতে এবছর এপ্রিল মাসে শ্রীনগরের হায়দারপোরায় এক মাদ্রাসায় হওয়া অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য দেখা যায়।

সম্প্রতি একটি অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে দাবি করা হয়, নেপালে (Nepal) হিন্দুরা একটি মসজিদে (Mosque) আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
বুম যাচাই করে দেখে, ভিডিওটি শ্রীনগরের। ভাইরাল ওই ভিডিওতে এবছর এপ্রিল মাসে শ্রীনগরের হায়দারপোরায় এক মাদ্রাসায় হওয়া অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়।
কিছুদিন আগেই সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনায় উত্তপ্ত হয় নেপাল, ঘটে বেশ কিছু প্রাণহানির ঘটনা। হিংসা রুখতে নেপালের বেশ কিছু শহরে জারি করা হয় কারফিউ। সাম্প্রতিক ঘটা হিংসার প্রেক্ষিতেই সাম্প্রদায়িক দাবিতে ভাইরাল হয় অগ্নিকাণ্ডের এই ভিডিও।
ভাইরাল দাবি
ভিডিওটি পোস্ট করে এক ব্যক্তি ক্যাপশন হিসেবে লেখেন, "এবার মসজিদ মুক্ত নেপাল,নেপাল থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হচ্ছে মসজিদ।"
পোস্টটি দেখতে ক্লিক করুন এখানে ও তার আর্কাইভ দেখতে এখানে।
কী পেলাম আমরা অনুসন্ধানে: ভিডিওটি নেপালের নয়, শ্রীনগরের এক অগ্নিকাণ্ডের
১. ভিডিওতে দেখতে পাওয়া ঘটনা শ্রীনগরের অগ্নিকাণ্ডের: বুম প্রথমে ভাইরাল ভিডিও থেকে কিছু কী-ফ্রেমকে ভেঙে রিভার্স সার্চ করে ভিডিওটিতে দেখতে পাওয়া অগ্নিকান্ড সংক্রান্ত বেশ কিছু সংবাদ প্রতিবেদন খুঁজে পায়। অগ্নিকান্ড সংক্রান্ত গত ১০ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে নিউজ ১৮ উর্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি শ্রীনগরের হায়দারপোরায় অবস্থিত দারুল উলুম নামক এক মাদ্রাসায় ঘটে।
ওই সংবাদ প্রতিবেদনে ঐতিহাসিক মাদ্রাসাটিতে আগুন লাগার কারণ অজ্ঞাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
২. অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সংক্রান্ত কাশ্মীরের সংবাদ প্রতিবেদন: সম্পর্কিত কীওয়ার্ড সার্চ করে আমরা এরপর ১১ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত কাশ্মীরী সংবাদমাধ্যম গ্রেটার কাশ্মীরের এক প্রতিবেদন খুঁজে পাই। উক্ত রিপোর্টে বলা হয়, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত ও সমন্বিত উদ্ধার তৎপরতার ফলে হায়দারপোরায় অবস্থিত ‘জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল উলুম’-এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৪০০-এরও বেশি শিশুকে রক্ষা করা গেছে।
ওই রিপোর্টে বুদগামের সিনিয়র পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট কে কে হরিপ্রসাদ-কে উল্লেখ করে বলা হয়, মাদ্রাসা ভবনটির উপরতলায় ক্ষয়ক্ষতি হলেও সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়ায় আগুন আর ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।






