জেফ্রি এপস্টিনের সাথে জোহরান মামদানির ভাইরাল ছবিগুলি AI দিয়ে তৈরি
বুম যাচাই করে দেখে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করে ছবিগুলি তৈরি করা হয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগ (United States Justice Department) জেফ্রি এপস্টিন-সম্পর্কিত এক নতুন নথি প্রকাশ করার পর প্রয়াত যৌন অপরাধী এপস্টিন ও তার সহযোগী গিস্লাইন ম্যাক্সওয়েল-এর সাথে নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ও তার মা, চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ারকে দেখতে পাওয়ার দাবিতে কিছু ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে নেট দুনিয়ায়।
নতুন মেয়রকে নিশানা করে ছবিগুলোতে দেখানো হয়, ছোট মামদানি ও এপস্টিনের পাশে কিছু বিখ্যাত মানুষ যেমন বিল ক্লিনটন এবং বিল গেটসও রয়েছেন।
বুম যাচাই করে দেখে, দাবিটি ভুল। যদিও নথিতে মীরা নায়ারের নাম ২০০৯-এর এক সিনেমা স্ক্রীনিং'র পরের পার্টির সাথে জড়িয়েছে, তবে ভাইরাল ছবিগুলি AI দিয়ে বানানো ভুয়ো ছবি।
ভাইরাল দাবি
ছবিগুলো এক্স ও ফেসবুকে এমন দাবিতে শেয়ার করা হচ্ছে যে মেয়র ও তার মা এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ ছিল। এক পোস্টে লেখা হয়, “মনে হচ্ছে জেফ্রি এপস্টিন নিউ ইয়র্ক মেয়র জোহরান মামদানির শৈশবের একটি বড় অংশ ছিলেন।” কিছু পোস্ট এমন অভিযোগও তোলে যে এপস্টিন মামদানির জনক হতে পারেন।
অনুসন্ধানে আমরা যা পেলাম
বুমের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভাইরাল এই ছবিগুলি পুরোটা বা বড় অংশেই বানানো এবং বাস্তবের কোনও দৃশ্য অথবা ঘটনার সাথে সম্পর্কিত নয়।
১. ছবিগুলি কোথা থেকে এসেছে: এই ছবিগুলি প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি প্যারোডি অ্যাকাউন্ট ছড়ায় (এখানে এবং এখানে), যেটি মিম এবং দৃশ্যমূলক বিষয় তৈরি করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের জন্য পরিচিত। এই অ্যাকাউন্টটির শেয়ার করা ছবিগুলিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের একসাথে থাকার ভুয়ো ছবি তুলে ধরা হয়।
২. SynthID জলছাপ দিয়ে শনাক্তকরণ: বুম ছবিগুলি গুগলের SynthID ডিটেক্টরের মাধ্যমে পরীক্ষা করে দেখে, যা নির্দেশ করে যে "বিষয়বস্তুর বেশিরভাগ বা পুরোটাই গুগলের এআই মডেল ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদিত হয়েছে।"
৩. DAU বিশ্লেষণও একই ফলাফল জানায়: বুম তাদের অংশীদার ডিপফেকস অ্যানালাইসিস ইউনিটের (DAU) সাথে পরামর্শ করে, যারা একাধিক এআই শনাক্তকরণ টুলের মাধ্যমে ছবিগুলি বিশ্লেষণ করে। তাদের বিশ্লেষণ আমাদের অনুসন্ধানকে সমর্থন করে এবং বিশেষভাবে ছবিগুলির মেটাডেটার মধ্যে SynthID জলছাপের উপস্থিতি শনাক্ত করে।
৪. নথি প্রকাশ সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর প্রসঙ্গ: ছবিগুলির সময়কাল জেফ্রি এপস্টিন সম্পর্কিত তদন্তমূলক নথি জনসাধারণের জন্য প্রকাশের সময়ের সাথে মিলে যায়। যদিও সরকারি নথিপত্রে ২০০৯ সালের একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পরবর্তী অনুষ্ঠানের সূত্রে মীরা নায়ারের কথার উল্লেখ রয়েছে, তবে ভাইরাল হওয়া এআই-নির্মিত ছবিগুলিতে চিত্রিত নির্দিষ্ট বৈঠক বা সম্পর্কগুলোর অস্তিত্বের সমর্থনে নথিগুলোতে কোনও প্রমাণ নেই।






