BOOM

Trending Searches

    BOOM

    Trending News

      • ফ্যাক্ট চেক
      • বিশ্লেষণ
      • ফাস্ট চেক
      • আইন
      • Home-icon
        Home
      • Authors-icon
        Authors
      • Contact Us-icon
        Contact Us
      • Methodology-icon
        Methodology
      • Correction Policy-icon
        Correction Policy
      • ফ্যাক্ট চেক-icon
        ফ্যাক্ট চেক
      • বিশ্লেষণ-icon
        বিশ্লেষণ
      • ফাস্ট চেক-icon
        ফাস্ট চেক
      • আইন-icon
        আইন
      Trending Tags
      TRENDING
      • #Mamata Banerjee
      • #Narendra Modi
      • #Operation Sindoor
      • #Pahalgam Terrorist Attack
      • #Rahul Gandhi
      • Home
      • বিশ্লেষণ
      • ১৫ বছর ধরে ভুয়ো তথ্য প্রচার...
      বিশ্লেষণ

      ১৫ বছর ধরে ভুয়ো তথ্য প্রচার ভারতীয় সংস্থার, কি বলছে ইউরোপীয় তদন্ত

      এই রিপোর্টে রয়েছে ভুয়ো প্রচার চালানোর জন্য কীভাবে অচল সংস্থা, থিঙ্কট্যাঙ্ক, গণমাধ্যমকে পুনঃজীবিত করা হয়েছে ।

      By - Archis Chowdhury |
      Published -  12 Dec 2020 8:21 PM IST
    • ১৫ বছর ধরে ভুয়ো তথ্য প্রচার ভারতীয় সংস্থার, কি বলছে ইউরোপীয় তদন্ত

      ব্রাসেলসের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডিসইনফোল্যাবের একটি তদন্তের ফলে জানা গেল, কী ভাবে ১৫ বছর ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং রাষ্ট্রপুঞ্জকে লক্ষ্য করে ভুয়ো তথ্য দেওয়া হয়েছে এবং ১১৬টি দেশ জুড়ে প্রায় ৭৫০-র বেশি ভুয়ো সংবাদ মাধ্যমের সাহায্যে ভারতের স্বার্থরক্ষা এবং চিন ও পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে খারাপ ভাবে তুলে ধরার কাজ করে চলেছে।

      এটি এই ধরনের দ্বিতীয় রিপোর্ট। এর নাম দেওয়া হয়েছে ' ইন্ডিয়ান ক্রনিকলস'। এই তদন্তে উঠে এসেছে, দিল্লির শ্রীবাস্তব গ্রুপ নামে একটি ব্যবসায়িক সংস্থা এই ভুয়ো তথ্য সম্প্রচারের কেন্দ্রে রয়েছে।

      REVEALED: Indian Chronicles – how a massive 15-year influence operation successfully targeted the EU & UN with 750+ fake local media and 10+ zombie-NGOs.

      Executive Summary & full report: https://t.co/W3IAxQTOqZ
      Here are the facts 👇 (1/n) pic.twitter.com/eXW6bh48gv

      — EU DisinfoLab (@DisinfoEU) December 9, 2020
      গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে, যাতে সেই সময় ৬৫টি দেশ জুড়ে ২৬৫টি ভুয়ো সংবাদ মাধ্যম, সন্দেহজনক অসরকারি সংস্থা এবং থিঙ্ক ট্যাঙ্কের কার্যকলাপ কথা উল্লেখ করা হয় এবং শ্রীবাস্তব গ্রুপের কথা তাতে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়। এই সংস্থাটি যখন ২৭ জন অতি-দক্ষিণপন্থী ইউরোপীয়ান সাংসদকে কাশ্মীরে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে, তখনও তারা নজরে এসেছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডিসইনফোল্যাব ইপি টুডে নামের একটি সন্দেহজনক ওয়েবসাইট দেখতে পায়, যা ভারত সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থন পাওয়ার জন্য মিথ্যে প্রচার চালানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর ওই রিপোর্টে উল্লিখিত অন্যান্য ওয়েবসাইটের মত ইপি টুডেকেও আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই তদন্তের ব্যাপারে
      এখানে
      পড়তে পারেন।
      ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডিসইনফোল্যাবের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আলেক্সজান্ডার আলাফিলিপ বুমকে জানান, "শুরুতেই বলে নেওয়া ভাল, দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও বিষয়ে অনুসন্ধান করার কোনও উদ্দেশ্য আমাদের ছিল না। আমরা যখন ইপি টুডের নাম এই বিষয়ে জড়িত আছে দেখি, তখন আমরা অনুসন্ধান করতে শুরু করি।"
      সাম্প্রতিকতম রিপোর্ট থেকে জানা গেছে শ্রীবাস্তব গ্রুপ ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্যদের দিয়ে ভারতের বিভিন্ন বিষয়কে সমর্থন করে উত্তর সম্পাদকীয় লেখাত যা এ রকমই আর একটি ওয়েবসাইট ইউরোপীয় ইউনিয়ন ক্রনিকলে প্রকাশিত হত। এইসব উত্তর-সম্পাদকীয় নিবন্ধ অনেক সময়ই পাকিস্তান বা চিন বিরোধী বিষয়ে লেখা হত। ওই গ্রুপ পরিচালিত বিভিন্ন সন্দেহজনক ওয়েবসাইটেও এই লেখাগুলো প্রকাশিত হত। ভারতের বৃহত্তম ভিডিও নিউজ এজেন্সি এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল ওই উত্তর সম্পাদকীয় থেকে বিভিন্ন অংশ উদ্ধৃত করে প্রকাশ করত, এবং ওইসব উদ্ধৃতি আবার টাইমস অব ইন্ডিয়া, বিজনেস ওয়ার্ল্ড, জি৫, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এবং আউটলুকের মত ভারতের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হত।
      আলাফিলিপ বলেন, "আমরা এএনআই এবং শ্রীবাস্তব গ্রুপের মধ্যে কোনও প্রত্যক্ষ যোগসূত্র খুঁজে পাইনি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ক্রনিকল এ বছরের ৬ মে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১১ মে'র মধ্যে ৩ টি উত্তর-সম্পাদকীয় নিবন্ধ প্রকাশ করে। আর ১২ মে এএনআই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ক্রনিকলকে স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম হিসাবে উদ্ধৃত করতে শুরু করে।" ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্যদের লেখা এ ধরনের উত্তর-সম্পাদকীয় নিবন্ধ এএনআই প্রকাশ করেছে, যার প্রায় অন্তত ১৩টি উদাহরণ ওই রিপোর্টে দেওয়া হয়েছে।
      রিপোর্টে তাদের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাপারে কথা বলার জন্য বুম এএনআই'র সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তাদের কাছ থেকে উত্তর পেলেই তা এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
      শেষ পর্যন্ত এএনআই-এর প্রধান সম্পাদক একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন, যাতে বলা হয়েছে, "পাকিস্তান ও তার সহযোগীরা ফেক নিউজ সংক্রান্ত সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ এনে এএনআই-এর বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। এই অভিযোগের পিছনে কোন রাজনীতি আছে, তা আমাদের সহযোগী ও গ্রাহকরা বিলক্ষণ বোঝেন, এবং তাঁরা আমাদের সংবাদের গভীরতা ও ব্যাপ্তিতে বিশ্বাস করেন।"

      An attempt has been made by Pakistan & its proxies to hurt ANI's credibility by hurling wild accusations of fake news. Our partners and subscribers fully understand the politics that is behind all this, and continue to repose faith in the depth reach & credibility of our coverage

      — Smita Prakash (@smitaprakash)
      মৃতসঞ্জীবনী
      ব্যাপক ভাবে বিস্তৃত ভুয়ো সংবাদ ওয়েবসাইট চালানোর সঙ্গে সঙ্গে এরা অকেজো সংবাদ মাধ্যম, বিভিন্ন সংস্থা এবং থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এমনকি একজন মৃত প্রফেসরকে পুনর্জীবিত করে তুলেছে। দ্য কমিশন টু স্টাডি দ্য অর্গানাইজেশন অব পিস (সিএসওপি) সে রকমই একটি সংস্থা, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডিসইনফোল্যাবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ১৯৩০'র দশকে তৈরি সিএসওপি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনুমোদন পাওয়ার অল্প কিছু দিনের মধ্যেই ১৯৭০-এর দশকে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ২০০৫ সালে এটি তার প্রাক্তন চেয়ারম্যান, বিংশ শতাব্দীর অন্যতম আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ প্রয়াত প্রফেসর লুই বি শন সমেত আবার নতুন করে বেঁচে ওঠে।
      ওই রিপোর্টে লেখা হয়, "আশ্চর্যজনক ভাবে আমরা দেখতে পাই, এই সংস্থাটি শুধু যে নতুন করে বেঁচে উঠেছে তাই নয়, এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান— যাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক আইনের প্রপিতামহ বলা হয়— সেই লুই বি শন ২০০৭ সালে একটি রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার সংস্থারএক বৈঠকে যোগ দিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়। আরও দাবি করা হয় যে ২০১১ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে 'ফ্রেন্ডস অব গিলগিট-বালটিস্তানে'র আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেন। অথচ লুই বি শন ২০০৬ সালে মারা গেছেন"।
      রিপোর্টে আরও বলা হয়, কী ভাবে এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন অসরকারি সংস্থা ও থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ইউএন হিউম্যান রাইটস কমিশনে একটি লবি হিসাবে কাজ করত, এবং মোদী সরকারের পক্ষে সমর্থন গড়ে তুলত ও অন্য দিকে পাকিস্তানি সরকার ও সম্প্রতি চিনের বিরুদ্ধে মত সংগঠন করত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে ভারতকে সমর্থন করার জন্য প্রায় ১০টি রাষ্ট্রপুঞ্জ-অনুমোদিত অসরকারি সংস্থাকে পুনরজ্জীবিত করা হয়েছে। ওই সব সংস্থার কয়েক্টির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ছিল, কিছু একেবারেই বন্ধ আর ক্যানার্স ইন্টারন্যাশনাল পার্মানেন্ট কমিটি এমন কিছু সংস্থাও আছে, যাদের ঘোষিত উদ্দেশ্যর সঙ্গে এই প্রচারের কোনও সম্পর্ক থাকার কোনও কারণ নেই।
      তাদের রিপোর্টের একটি প্রতিবেদনে ইইউ ডিসইনফোল্যাব লেখে, "২০০৭ অবধি কাজ করেছে ক্যানারস ইন্টারন্যাশনাল। এটির কাজের ক্ষেত্র ছিল ক্যানিং ইন্ডাস্ট্রি। কিন্তু নতুন করে কাজ শুরু করার পর খাদ্যদ্রব্যের সঙ্গে এর আর কোনও সম্পর্কই ছিল না। এই সংস্থা তখন মূলত জেনেভার ছাত্রদের রাষ্ট্রপুঞ্জে পাঠাত পাকিস্তানের ব্যাপারে কথা বলার জন্য। এমনকি এরা রাষ্ট্রপুঞ্জে মানবাধিকারের উপর বিভিন্ন অনুষ্ঠানও পরিচালনা করে।"
      আরও পড়ুন: কৃষক বিক্ষোভ: নূন্যতম সহায়ক মূল্য কী আর কেন তা নিয়ে বিক্ষোভ?

      নিশানায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও রাষ্ট্রপুঞ্জ

      ভারতের স্বার্থরক্ষার জন্য এবং মোদী সরকারের পক্ষে সমর্থন জোগাড় করার উদ্দেশে এই নেটওয়ার্ক মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং রাষ্ট্রপুঞ্জকে লক্ষ্য করে কাজ করছিল।
      ইউএনএইচআরসিতে থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এবং এনজিওগুলি বিভিন্ন অনুমোদিত সংস্থার হয়ে কথা বলতে শুরু করে এবং জেনিভা থেকে পাকিস্তান ও চিনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সমর্থন জোগাড় করতে থাকে। ব্রাসেলেসে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্যদের বিভিন্ন জায়গা দেখাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল আর ভারতকে সমর্থন করে লেখা তাদের উত্তর সম্পাদকীয় এএনআইতে প্রকাশিত হচ্ছিল। রিপর্টে লেখা হয়, "টাইমস অব জেনেভা এবং ৪টি অন্য সংবা্দ সংস্থা আমাদের আগের তদন্ত দেখে তাদের কার্যকলাপ বন্ধ করে দেয়। এএনআই একমাত্র সংবাদ সংস্থা যারা জেনেভার এইসব সন্দেহজনক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কার্যকর্ম সম্পর্কে খবর প্রকাশ করতে থাকে।" তদন্তে আরও প্রকাশিত হয় যে, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত সংস্থাগুলি জেনেভা ও ব্রাসেলেসে তাদের হয়ে কথা বলার জন্য প্রচুর ইন্টার্ন নিয়োগ করত। বিভিন্ন ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদেরই সাধারণত ইন্টার্ন হিসাবে নিয়োগ করা হত। ওই রিপোর্টে বলা হয়, "আমাদের অনুমান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ক্রনিকলের সঙ্গে যারা যুক্ত, তারা রাষ্ট্রপুঞ্জে কথা বলার জন্য ইন্টার্নদের ব্যবহার করত যাতে তাদের কাজকর্ম গোপন থাকে এবং ভারতের সঙ্গে সহজে তাদের যোগাযোগ খুঁজে না পাওয়া যায়। বিরাট তথ্য চালাচালির কাজের ক্ষেত্রে এই ইন্টার্নদের সাধারণ মানুষের কাছে শুধুমাত্র এই সংস্থার মুখ হিসাবে ব্যবহার করা হত।"
      ইউরোপীয় ইউনিয়ন'র বৈদেশিক বিষয়ের মুখপাত্র পিটার স্টানো বিবিসিকে জানিয়েছেন যে ব্রাসেলেসে নথিভুক্ত অসরকারি সংস্থাগুলির বৈধতা এবং অর্থনৈতিক বিষয় বেলজিয়ান কর্তৃপক্ষের দেখার কথা এবং সেই সঙ্গে ভুয়ো তথ্যের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের লড়াই জারি রাখার দায়িত্বও তাদের। এই দায়িত্বের অংশ হিসাবেই তিনি ইপি টুডের উদাহরণ দেন।
      ইউএনএইচআরসির মুখপাত্র রোনাল্ডো গোমেজ বিবিসিকে বলেন, যে কোনও বিষয় নিয়ে কথা বলার অধিকার অসরকারি সংস্থাগুলির আছে, এবং কোনও নিয়ম যদি তার পরিপন্থী হয়, তবে তা বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হবে।
      এই গ্রুপের কাজকর্ম শুধুমাত্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা রাষ্ট্রপুঞ্জের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। রিপোর্টে আরও বলা হয় যে, "আমাদের দ্বিতীয় দফার তদন্তে যদিও আমরা পুরো ব্যাপারটা অনুসন্ধান করে দেখতে পারিনি, কিন্তু ইন্ডিয়ান ক্রনিকলস কানাডাতেও অনেকগুলি ভুয়ো সংস্থা ও ভুয়ো সংবাদ মাধ্যম তৈরি করে। কানাডায় বসবাসকারী দক্ষিণ এশিয়ার মানুষরা ছিলেন যাদের লক্ষ্য। এরা এমনকি নিউইয়র্কে বিক্ষোভের আয়োজন করে এবং বাংলাদেশ ও মলদ্বীপেও তারা ভুয়ো সংবাদমাধ্যম তৈরি করে।"
      শ্রীবাস্তব গ্রুপের সম্পর্কে কি জানা যায়?
      যখন তারা ২৭ জন ইউরোপিয় সাংসদকে অসরকারি ভাবে শ্রীনগরে নিয়ে যায়, তখনই শ্রীবাস্তব গ্রুপ প্রথম নজরে আসে। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা অবলুপ্ত হওয়ার পর ভারতীয় বা বিদেশি রাজনীতিকরা সেই প্রথম কাশ্মীর যান এবং তার ফলে এই ঘটনার দিকে সবার নজর পড়ে। ৩৭০ ধারা অবলুপ্ত হওয়ার পর কাশ্মীরে দীর্ঘ দিন কারফিউ, লকডাউন ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছিল। এই সফরের কিছু মাস পর ইইউ ডিসইনফোল্যাব তাদের প্রথম রিপোর্ট প্রকাশ করে যাতে তারা শ্রীবাস্তব গ্রুপের নাম বার বার উল্লেখ করে এবং জানায় যে ব্রাসেলস এবং জেনেভায় লবি করা ও ভুয়ো তথ্যের ছড়ানোর কাজ আসলে কোনও 'ভারতীয় প্রভা্বশালী নেটওয়ার্কের' কাজ।
      এই রিপোর্টে অঙ্কিত শ্রীবাস্তবকে এই ক্যাম্পেনের একজন বড় হোতা বলে উল্লেখ করা হয়। তাঁর ব্যক্তিগত মেইল আইডি থেকে প্রায় ৪০০টি ডোমেনের নাম কেনা হয় যা পরে ভুয়ো সংবাদমাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করা হয়। ওই পরিবারের এর এক সদস্য ড প্রমীলা শ্রীবাস্তবের নামও রিপোর্টে উঠে এসেছে।
      ২০০৯ সালের একটি ঘটনা এই রিপোর্টে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাঞ্জাবী লেখক এবং শিশুরোগবিশেষজ্ঞ ড হরশিন্দর কাউর রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি অনুষ্ঠানে ভারতে নারীদের কী ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয় সে বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে পাঞ্জাবে কন্যাভ্রূণ হত্যার কথা উল্লেখ করেন। এই বিষয়ের উপর তাঁর আট বছরের গবেষণা করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ওই অনুষ্ঠানের পর কাউর দাবি করেন যে জনৈক পি শ্রীবাস্তব তাঁকে ভয় দেখান। পি শ্রীবাস্তবও ওই অনুষ্ঠান অংশ নিয়েছিলেন এবং তিনি নিজেকে সিনিয়র সরকারি অফিসার হিসাবে পরিচয় দেন। ওই অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পর সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন'র পক্ষ থেকে কাউরকে জেরা করা হয়।
      কাউর সম্প্রতি বিবিসিকে নিশ্চিত ভাবে জানিয়েছেন যে ওই মহিলাই আসলে প্রমীলা শ্রীবাস্তব।
      এটি দ্বিতীয় রিপোর্ট, যাতে শ্রীবাস্তব গ্রুপের আসল চেহারা বেরিয়ে এসেছে। কিন্তু ভারত বা ইউরোপ কোথাওই এই গ্রুপের বিরুদ্ধে বিশেষ কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। ইপি টুডের মাধ্যমে আগে ভুয়ো খবর প্রচারিত হত এবং তারদের কজকর্ম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ক্রনিকল তাদের জায়গা নিয়ে নেয়।
      আলাফিলিপ বিবিসিকে জানান, "আমরা মনে করি ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর কুফল সুদূরপ্রসারী হতে পারে এবং আমরা চাই এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হোক। একই লোকেদের একই ধরনের গর্হিত কাজ করার ব্যাপারে যদি সামনের বছর আবার একটি রিপোর্ট প্রকাশ করতে হয়, তবে তা কর্তৃপক্ষের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হিসেবেই পরিগণিত হবে।"
      আপনারা এখানে পুরো রিপোর্টটি ডাউনলোড করতে পারেন।
      আরও পড়ুন: বিশ্লেষণ: 'ত্রাতা সহোদর' ও জিন ঘটিত রোগনির্ণয় কিছু নৈতিক প্রশ্ন

      Tags

      Asian News InternationalANISrivastabaPM ModiEU DisinfoLabMembers of European ParliamentBharatiya Janata PartyUnited NationsEuropean Union
      Read Full Article
      Next Story
      Our website is made possible by displaying online advertisements to our visitors.
      Please consider supporting us by disabling your ad blocker. Please reload after ad blocker is disabled.
      X
      Or, Subscribe to receive latest news via email
      Subscribed Successfully...
      Copy HTMLHTML is copied!
      There's no data to copy!