হায়দরাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতিবাদের ভিডিওকে গুজরাতের বলা হল

বুম দেখে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি তেলেঙ্গানার। সেখানে পরিযায়ী শ্রমিকরা বাড়ি ফেরার অনুমতির দাবিতে প্রতিবাদে শামিল হন।

হায়দরাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থার দাবিতে প্রতিবাদের ভিডিও গুজরাতের আমদাবাদের ঘটনা বলে শেয়ার করা হয়েছে।

বুম অনুসন্ধান করে দেখেছে যে যদিও গুজরাতেও পরিযায়ী শ্রমিকরা প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন, কিন্তু ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওটি হায়দরাবাদের। ৩ মিনিট ১১ সেকেন্ডের এই ভিডিওটিতে শ্রমিকদেরকে একটি ফ্লাইওভারের তলায় প্রতিবাদ করতে দেখা যায় এবং পুলিশকে পাশে দাঁড়িয়ে ফোনে পুরো ঘটনাটি রেকর্ড করতে দেখা যায়।

এই ভিডিওটিকে এমন সময়ে সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করা হচ্ছে, যখন একই সপ্তাহে গুজরাতের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকরা লকডাউনের মধ্যে বাড়ি ফিরে আসার জন্য প্রতিবাদে অবস্থান করেছে। এই মুহূর্তে ভারতে তৃতীয় দফার লকডাউন চলছে। যা শুরু হয়েছিল গত ২৫ মার্চ, ২০২০। বিভিন্ন রাজ্যে এরই মধ্যে লকডাউনে কিছু শিথিলতা আনা হয়েছে এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের নিজের রাজ্যে বা জেলায় ফেরার জন্য যানবাহনের ব্যব্যস্থা করা হয়েছে।

গোটা দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই পরিযায়ী শ্রমিকরা প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন এবং তাঁদের বাড়ি ফেরার ব্যব্যস্থা করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিজেদের রাজ্যে ও জেলায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার বন্দবস্ত করা সত্ত্বেও তারা কোথাও কোথাও প্রতিবাদে লিপ্ত হচ্ছেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের করা একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী গুজরাত থেকে ৬৭টি ট্রেন ইতিমধ্যে ৮০,৪০০ জন শ্রমিককে নিয়ে যাত্রা করেছে।

ভাইরাল ভিডিওটির সাথে থাকা ক্যাপশনকে অনুবাদ কররলে দাঁড়ায়, "গুজরাতের আমদাবাদে শ্রমিকরা রাস্তায় নামলেন।"

(মূল হিন্দি ক্যাপশন: "अहमदाबाद (गुजरात)में सड़को पर निकले मजदूर")

ভাইরাল পোস্টটির আর্কাইভ সংস্করণ দেখা যাবে এখানে

বুম একই ক্যাপশন দিয়ে ফেসবুকে সার্চ করে দেখে যে ভিডিওটি মিথ্যে দাবির সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে।



টুইটারেও ভিডিওটা ভাইরাল হয়েছে।

ভাইরাল টুইটের আর্কাইভ সংস্করণ দেখা যাবে এখানে

আরও পড়ুন: পরিযায়ী শ্রমিকদের থেকে রেলপুলিশ ঘুষ নিচ্ছে বলে ছড়ালো ২০১৯ সালের ভিডিও

তথ্য যাচাই

বুম অনুসন্ধান করে জানতে সক্ষম হয় যে এই ভাইরাল ভিডিওটি নিশ্চিতভাবেই হায়দরাবাদের, এবং এটা ভাইরাল পোস্টের দাবি মতো গুজরাটের নয়।

ভিডিওতে বুম একজন পুলিশকর্মীকে শনাক্ত করে যার গায়ে থাকা নীল জ্যাকেটে "হায়দরাবাদ সিটি পুলিশ" কথাটি সংক্ষিপ্ত রূপে লেখা রয়েছে। এই সূত্র ব্যবহার করে বুম সংবাদ প্রতিবেদন খুঁজতে থাকে, এবং দেখতে পায় যে ভিডিওটি তেলঙ্গানার হায়দরাবাদ শহরের, গুজরাতের আমদাবাদের নয়।


প্রায় এক হাজারেরও বেশি পরিযায়ী শ্রমিক রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর জন্য হায়দরাবাদের টোলিচৌকি অঞ্চলে একত্রিত হন একটি গুজবের বশবর্তী হয়ে। এশিয়ানেট নিউজের ২০২০ সালের ৪ মে-র প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে যে তাঁদের মধ্যে গুজব ছড়িয়েছিল যে, সরকার তাঁদেরকে নিজেদের রাজ্যে পাঠানোর জন্য বিশেষ ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা করেছে। দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস একটি প্রতিবেদনে এক পরিযায়ী শ্রমিকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে, "আমাদের কোনও কাজ নেই, ফলে আমরা না খেয়ে রয়েছি। আমি একটা হোটেলে কাজ করতাম আমার সঙ্গে আরও অনেকে থাকত যারা নির্মাণ ক্ষেত্রে কাজ করত। এখন সব বন্ধ থাকার ফলে রোজগারের কোনও পথ নেই। এখানে আমাদের বেঁচে থাকার কোনও রাস্তা নেই।"

বুম এই ঘটনার উপর সাক্ষী টিভির ২০২০ সালের ৩ মে একটি ভিডিও প্রতিবেদন দেখতে পা্য। এই প্রতিবেদনে বুম ভাইরাল হওয়া ভিডিওর একই দোকান, নীল জ্যাকেট পরা পুলিশ এবং সেই একই জায়গাকে শনাক্ত করতে পারে।


ভাইরাল হওয়া এই একই ভিডিও ক্লিপ সহ টুইটারে অনেকেই টুইট করেছেন। তাঁরা বর্ণনা করেছেন যে এই দৃশ্যটা হায়দরাবাদের টোলিচৌকিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের একটি প্রতিবাদের।


দুটি ভিডিওতেই পিছনে একই দোকানকে দেখা যাচ্ছে। এটা থেকে নিশ্চিত ভাবে বোঝা যায় যে ভিডিও দুটি একই জায়গায় রেকর্ড করা হয়েছিল। এছাড়া বুম ভাইরাল ভিডিওতে থাকা একটি দোকানকে জিওলোকেট করতে সমর্থ হয়। 'লুকস' নামের এই দোকানটিকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে এবং গুগল ম্যাপেও সেটিকে একই জায়গায় দেখা যাচ্ছে। এ থেকে বোঝা যায় ভিডিও দুটি একই জায়গার।



এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত তেলেঙ্গানায় ১১৩৩ জন কোভিড-১৯ আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে এবং ২৯ জন মারা গেছেন। কোভিড-১৯ এর সাম্প্রতিকতম খবর জানতে বুমের লাইভ ব্লগে চোখ রাখুন।

আরও পড়ুন: করোনা আতঙ্কে নয়া দোসর ফালাকাটার বাঘ, বিভ্রান্তির মূলে পুরনো ছবি-ভিডিও

Updated On: 2020-05-13T10:30:55+05:30
Claim :   ভিডিওতে গুজরাতের আহমেদাবাদে রাস্তায় নেমে পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতিবাদ করতে দেখা যাচ্ছে
Claimed By :  Facebook Posts
Fact Check :  False
Show Full Article
Next Story
Our website is made possible by displaying online advertisements to our visitors.
Please consider supporting us by disabling your ad blocker. Please reload after ad blocker is disabled.