এটি 'সড়ক-২' ট্রেলার 'ডিসলাইক' পাওয়ায় মহেশ ভাটের রেগে যাওয়ার দৃশ্য নয়

বুম দেখে মহেশ ভাটের মেয়ের বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য ও অবসাদের ওপর একটি আলোচনা চক্রের ক্লিপ এটি।

চিত্রপরিচালক মহেশ ভাট একজন রিপোর্টারের ওপর রাগ প্রকাশ করার একটি পুরনো ও সম্পর্কহীন ক্লিপ এই মিথ্যা দাবি সমেত শেয়ার করা হচ্ছে যে, তাঁর সাম্প্রতিক ছবি 'সড়ক-২' ইউটিউবে ১.১ কোটি 'ডিসলাইক' পাওয়াতে উনি মেজাজ হারিয়েছেন।

ভাইরাল ক্লিপে ভাটকে একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে দেখা যাচ্ছে। প্রশ্নটি অস্পষ্টভাবে শোনা যায়। সাংবাদিকটিকে দেখা যায় না, কিন্তু তাঁকে প্রশ্ন করতে শোনা যায়: "তার মানে, আপনি আসলে কোনও উত্তর চান না?" তাই শুনে, পরিচালক উত্তেজিতভাবে বলেন, কোনও উত্তর নেই।
ক্লিপটি শেয়ার করা হচ্ছে এমন এক সময় যখন সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর, স্বজনপোষণ ও 'ফিল্ম পরিবারগুলি' থেকে আসা অভিনেতাদের সমালোচনা করা নিয়ে বিতর্ক চলছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে, ওই ধরনের ছবি বয়কট করার এক অনলাইন ক্যাম্পেনও শুরু হয়। তার ফলে, সড়ক-২ ছবির ট্রেলার মুক্তি পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে সেটি ইউটিউবে ১১ মিলিয়ন বা ১.১ কোটি ডিসলাইক পায়। ছবিটি প্রযোজনা করেছেন মহেশ ভাট, আর তাতে অভিনয় করেছেন তাঁর মেয়ে আলিয়া ভাট আদিত্য রায় কাপুর।
পোস্টটির সঙ্গে দেওয়া ক্যাপশনে বলা হয়, "দেখুন, ১০ মিলিয়ন (১ কোটি) ডিসলাইক পাওয়ায় মহেশ ভাটের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। এটা হিন্দু ঐক্যের ফল। থামবেন না বন্ধুরা।"
ভিডিও দেখা যাবে এখানে, আর্কাইভের করা আছে এখানে
(হিন্দিতে লেখা ক্যাপশন: सड़क- 2 के #10_मिलियन (1 करोड़ ) डिसलाइक मिलने के बाद देखो कैसे पगला गया है महेश भट्ट हिन्दुओं की एकता का परिणाम, रुकना नहीं है मित्रों)
ভাইরাল ক্লিপটি বুমের হোয়াটসঅ্যাপ হেল্পলাইন নম্বরেও (৭৭০০৯০৬১১১) আসে।




তথ্য যাচাই
'মহেশ ভাট + দেয়ার আর নো আনসার্স' (মহেশ ভাট + কোনও উত্তর নেই), এই কি-ওয়ার্ডগুলি দিয়ে সার্চ করলে, ডিসেম্বর ২০১৯-এর কিছু লেখা সামনে আসে। দেখা যায়, ভাইরাল ক্লিপটি হল একটি অনুষ্ঠানের কাটছাঁট করা অংশ। ওই অনুষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য ও অবসাদের ওপর শাহীন ভাটের বই লঞ্চ করা বা বাজারে আনা হয়। আলিয়া ভাট ও শাহীন ভাট সহ তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহেশ ভাট।
গুগোল সার্চের ফল
"তার মানে, আপনি আসলে কোনও উত্তর চান না?" – এই প্রশ্ন শুনে চিত্রনির্মাতা মহেশ ভাট তাঁর মেজাজ হারান। আলিয়া ভাটের বোন শাহীন ভাটের লেখা মানসিক স্বাস্থ্য ও অবসাদের ওপর ব্ই প্রকাশের অনুষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানটি ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ এনডিটিভির একটি
প্রতিবেদনে
দেখানো হয়। এনডিটিভির রিপোর্টটির সঙ্গে দেওয়া মহেশ ভাট ও আলিয়া ভাটের ছবির সঙ্গে ভাইরাল ক্লিপটির ছবি মিলে যায়।

ওই ঘটনাটির ওপর প্রতিবেদন

তাছাড়া ওই অনুষ্ঠানের পুরো আলোচনাটির একটি ভিডিওও আমরা দেখতে পাই। ৪ ডিসেম্বর ২০১৯-এ মুভি টকিজ সেটি ইউটিউবে আপলোড করে। তার ক্যাপশনে বলা হয়, "আলিয়া ভাট, পুজা ভাট ও শাহীন ভাট সম্পূর্ণ আবেগপূর্ণ মুহূর্ত @আই হ্যাভ নেভার বিন হ্যাপিয়ার বুক লঞ্চ।"
এখানে ৪৫.৪৯ টাইমস্ট্যাম্পে যা ঘটে, ভাইরাল ক্লিপেও তাই ঘটতে দেখা যায়। ভাট তাঁর মেয়ে শাহীন সম্পর্কে কথা বলছিলেন। উনি বলেন, শাহীন যখন অবসাদের বিরুদ্ধে লড়ছিলেন, তখন উনি কোনও এক বন্ধুকে ফোন করে কাঁদতেন এবং "কোনও উত্তর খুঁজতেন না"। তার পরেই এক সাংবাদিক মহেশ ভাটকে জিজ্ঞেস করেন, "তার মানে, আপনি আসলে কোনও উত্তর চান না?" এই প্রশ্ন শুনে রেগে যান ভাট।

৪৫.৫০ টাইমস্ট্যাম্পে, ভাটকে চেঁচিয়ে বলতে শোনা যায়, "কোনও উত্তর নেই (retenders ???) দাবি করে তাদের কাছে উত্তর আছে। আর তারা সেগুলিকে প্রাতিষ্ঠানিক করে তোলে এবং বন্দুকের বাঁটের জোরে সেগুলি চাপিয়ে দেয়।"
শাহীন ভাট তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করতে গিয়ে বলে ওঠেন, "পাপা!"। কিন্তু মহেশ ভাট বলতেই থাকেন। তাঁর পাশে বসে থাকা সোনি রাজদানও তাঁকে শান্ত করার চেষ্ট্ করেন।
এর পর আলিয়া ভাট মাইকে বলেন, "আমি আগেই সবধান করেছিলাম এমনটা ঘটবে।" কিন্তু মহেশ ভাট থামেন না। "আমি আমার সন্তানদের সামনে কখনওই ভান করি না যে, আমার সেই সব গুণ আছে যেগুলি সম্পর্কে অনেকে বড়াই করে। তাই তারা আমার সঙ্গে নিজেদের বেমানান মনে করে না। ৭১-এ আমিই বেমানান," বলেন ভাট। ভাইরাল ক্লিপেও একই কথা শোনা যায়।
বুম আগে একটি ফিল্মের ট্রেলারের স্বরূপ উদ্ঘাটন করেছিল। শাহ রুখ খানের এক অনুগামীর তৈরি একটি ট্রেলারকে অভিনেতার আসন্ন ফিল্ম 'পাঠান'-এর আসল ট্রেলার বলে চালানো হয়। আর সোশাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের একাংশ ট্রেলারটি ডিসলাইক করে ছবিটি বয়কট করার আহ্বান জানান।

Updated On: 2020-08-21T11:47:01+05:30
Claim Review :   সড়ক-২ ট্রেলারে ১ কোটি ডিসলাইকের প্রতিক্রিয়াতে মহেশ ভাটকে ক্ষুব্ধ হতে দেখা যাচ্ছে
Claimed By :  Facebook Posts
Fact Check :  False
Show Full Article
Next Story