পাবজি আসক্ত নাবালক বলে ক্যান্সার রোগীর ছবি শেয়ার করা হচ্ছে

বুম দেখে, ছবিটি আসলে রক্তের ক্যান্সারে আক্রান্ত কর্নাটকের এক কিশোরের।

একটি ক্যান্সার আক্রান্ত কিশোরের একগুচ্ছ ছবি এবং একটি সম্পর্কহীন ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করা হচ্ছে এই ভুয়ো দাবি সহ যে, ছেলেটি জনপ্রিয় অনলাইন গেম ''প্লেয়ার আননোন ব্যাটলগ্রাউন্ডস"-এ (পাবজি) আসক্ত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে।

ছবিতে মাথা কামিয়ে দেওয়া এক কিশোরকে তার মা-বাবার সঙ্গে দেখা যাচ্ছে, যারা দৃশ্যতই উদ্বিগ্ন। ভাইরাল হওয়া পোস্টটিতে একটি ভিডিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে দেখা যাচ্ছে, অপারেশনের টেবিলে শুয়ে থাকা এক রোগী তার হাতের আঙুল নাড়িয়ে একটি কাল্পনিক মোবাইল ফোনে খেলছে, যা দেখার পর চিকিৎসকরা তার হাতে একটা আসল মোবাইল ফোন ধরিয়েও দিচ্ছেন।

ফোটো এবং ভিডিও-র সঙ্গে যে ক্যাপশনটি হিন্দিতে শেয়ার করা হচ্ছে, তার বাংলা অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, "পিইউবিজি গেম খেলতে গিয়ে এই মানসিক অসুস্থতা সৃষ্টি হয়েছে। দয়া করে আপনার ছেলেমেয়েদের এই গেম খেলতে দেবেন না।"

ফেসবুকের এই পোস্টটি এখন আর দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না, সম্ভবত এটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।


তথ্য যাচাই

বুম এই ছবিগুলির খোঁজখবর চালিয়ে একটি প্রতিবেদনের সন্ধান পেয়েছে, যাতে এই ছবি ছাপা হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে "মিলাপ" নামে একটি সংগঠন, তার ২০১৯ সালের ২৫ অক্টোবরের রিপোর্টে, যার শিরোনাম ছিল, "আমারদুর্ঘটনার পর ছেলে আমাকে নতুন জীবন দিয়েছিল, অথচ আজ সে নিজেই ক্যান্সারে মৃত্যুপথযাত্রী,আর আমি সম্পূর্ণ অসহায়।" প্রতিবেদনে ছেলেটিকে কর্নাটকের বাসিন্দা সুজন বলে শনাক্ত করা হয়েছে, যে ব্লাড ক্যান্সারে ভুগছে।

মিলাপের প্রতিবেদনটির স্ক্রিনশট।

প্রতিবেদনটিতে সুজনের বাবা সঞ্জীবকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, "৯ দিন, মাত্র ৯টা দিন ও কলেজে ক্লাশ করতে পেরেছে। তার পরেই ওর ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে।" প্রতিবেদনটিতে সুজনের দূরারোগ্য লিউকিমিয়ার চিকিৎসারর জন্য অর্থসংগ্রহ করার চেষ্টা করা হয়েছে, এবং তার হাসপাতাল ব্যাঙ্গালুরুর মজুমদার শ ক্যান্সার সেন্টারের সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট নথিপত্র।

ফেসবুকে অনুসন্ধান চালিয়ে বুম কন্নড় ভাষাতেও একটি পোস্টের খোঁজ পেয়েছে, যাতে এক দাতাকে সুজনের বাবাকে অর্থদান করতে দেখা যাচ্ছে। সুজনের রোগ ধরা পরার পর আরও কতজন সাহায্যের প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে এসেছেন, সে কথাও পোস্টটিতে বলা হয়েছে।


ভাইরাল হওয়া ভুয়ো পোস্টটিতে যে ভিডিওটি ঢোকানো হয়েছে, তার উত্স বুম খুঁজে পায়নি। তবে ভিডিওটি যে ইউটিউবে এবং মালয়ালি ভাষার বিভিন্ন ব্লগে কিশোরদের ক্ষতিকর অনলাইন গেমের প্রতি আসক্তির কুপরিণাম প্রতিপন্ন করতে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তা আমরা লক্ষ্য করেছি।

অনলাইন গেম পিইউবিজি খেলার আসক্তি কারও মানসিক স্বাস্থ্য বিপন্ন করেছে, এ ধরনের কোনও সংবাদ-রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি। তবে এই খেলায় মত্ত কিশোরদের খেলতে বাধা দিলে তারা অনেক সময় চরম আচরণ করে, এমন রিপোর্ট রয়েছে।

Updated On: 2020-02-27T16:41:11+05:30
Claim Review :  ছবির দাবি পাবজি আসক্তির কারণে যুবকের মানসিক অসুস্থাতা
Claimed By :  Facebook Pages and Twitter Users
Fact Check :  False
Show Full Article
Next Story