হরিণকে নাগপাশে ধরা অজগর সাপের ভিডিওটি শুকনা দার্জিলিংয়ের ঘটনা নয়

বুম দেখে দার্জিলিংয়ের শুকনা নয়, ২৯ মে ২০২০ মূল ঘটনাটি ঘটেছিল থাইল্যান্ডের ছোনবুরি প্রদেশের খাও খেও মুক্ত চিড়িয়াখানায়।

পিচ রাস্তার এক পাশে একটি অজগর সাপের এক হরিণকে নাগপাশে বেঁধে খাদ্য গ্রহণের রোমহর্ষক ভিডিওকে সোশাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর দাবি সহ শেয়ার করা হচ্ছে। সোশাল মিডিয়া পোস্টে মিথ্যে দাবি করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার কার্শিয়াং মহাকুমার অধীন শুকনাতে ঘটেছে এই ঘটনা।

বুম যাচাই করে দেখে ২৯ মে ২০২০ মূল ঘটনাটি ঘটে পূর্ব থাইল্যান্ডের ছোনবুরি প্রদেশের খাও খেও মুক্ত চিড়িয়াখানায়।

২৫ সেকেন্ডের সময়ের গাড়ির ভেতর থেকে তোলা ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির দৃশ্যে দেখা যায়, পিচ রাস্তার একপাশে একটি হরিণকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরেছে প্রকাণ্ড একটি অজগর সাপ। দূর থেকে এক ব্যক্তি গাছের ডাল নিয়ে সাপটিকে আঘাত করে হারিণটাকে মুক্ত করার চেষ্টা করেন। পুনরায় গাছের ডালের আঘাতে সাপটি হরিণটিকে আলগা করলে চটজলদি হরিণটি মুক্ত হয়ে চম্পট দেয়। আর পাশের ঝোঁপে সেঁধিয়ে যায় অজগর সাপটি।

ফেসবুকে ভিডিওটি শেয়ার করে ক্যাপশন লেখা হয়েছে, "আজকে শিলিগুড়ির শুকনায় রাস্তার পাশে একটি হরিণকে অজগর সাপ আস্টে পিষ্টে বাধে, তারপর স্থানীয় মানুষেরা বাঁচায় হরিণটিকে।"

পোস্টটি দেখা যাবে এখানে। আর্কাইভ করা আছে এখানে
একই ক্যাপশন সহ ফেসবুকে ভিডিওটি অনেকেই শেয়ার করেছেন।

গণমাধ্যমে ভুয়ো দাবি

শুকনার ঘটনা বলে সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলা গণমাধ্যমের একাংশ। ভিডিওটি নিয়ে নিউজ১৮ বাংলা তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম লিখেছে, "হরিণকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরেছে প্রকাণ্ড এক অজগর, শিলিগুড়ির শুকনার ভিডিও ভাইরাল।" এনডিটিভি বাংলাও প্রতিবেদনে দাবি করেছে শুকনার ঘটনা এটি।

বুম "পাইথন হরিণকে জড়ানো" ইংরেজিতে কিওয়ার্ড দিয়ে গুগল সার্চ করে দেখে ঘটনাটি আদেও দার্জিলিং-এর শুকনার ঘটনা নয় যেমনটি বাংলা গণমাধ্যম ও ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়েছে।
বুম দেখে বিষয়টি নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে ২০২০ সালের মে মাসের শেষে ও এপ্রিল মাসে শুরুতে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ২৯ মে ২০২০ মূল ঘটনাটি ঘটে পূর্ব থাইল্যান্ডের ছোনবুরি প্রদেশের খাও খেও মুক্ত চিড়িয়াখানায়।
৩০ মে ২০২০ থাইল্যান্ডের এক টুইটার ব্যবহারকারী @
papakrab ভিডিওটি টুইট করেন। টুইটটির থাই ভাষা থেকে অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, "কাল ঘটনাটি ঘটেছে
খাও খেও মুক্ত চিড়িয়াখানায়।"(থাই ভাষায় মূল টুইট: "เหตุเกิดเมื่อวานนี้ ณ สวนสัตว์เปิดเขาเขียว") ওই টুইটার ব্যবহারকারী নিজের পরিচিতি হিসেবে প্রোফাইলে ডুসিট চিড়িয়াখানার সহ-অধিকর্তা উল্লেখ করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে থাই ওয়েবসাইট "দ্য থাইজার" ও "খাওসোড" এর প্রতিবেদন পড়া যাবে এখানেএখানে

Updated On: 2020-06-12T15:56:37+05:30
Claim Review :   পোস্ট দাবি করে রাস্তায় অজগরের হরিণ শিকারের দৃশ্যটি শিলিগুড়ির
Claimed By :  Facebook Pages & Bengali News Websites
Fact Check :  False
Show Full Article
Next Story