শ্লীলতাহানির অভিযোগে প্রহৃত ইউপির শিক্ষককে মিথ্যে করে বিজেপির বিধায়ক বলা হচ্ছে

বুম দেখেছে যে ভাইরাল হওয়া ক্লিপে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরের এক প্রাথমিক শিক্ষক, যাকে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানি করার জন্য মারধর করা হয়।

একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একদল মহিলা এক জন শিক্ষককে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানি করার অভিযোগে মারধর করছেন। যাকে মারা হচ্ছে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির বিধায়ক অনিল উপাধ্যায় বলে মিথ্যে দাবি করে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে।

অনিল উপাধ্যায় সম্বন্ধে এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কহীন বহু ভিডিওর তথ্যও যাচাই করেছে বুম। অনিল উপাধ্যায় নামে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা বিধায়কের আদৌ কোনও অস্তিত্বই নেই। ভুয়ো রাজনৈতিক নেতা অনিল উপাধ্যায় সম্পর্কে বুমের তথ্য যাচাইগুলি পড়তে পারেন এখানে

৩২ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপটির সঙ্গে দেওয়া ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, "বিজেপির বিধায়ক অনিল উপাধ্যায়কে মারধর করার ছবি দেখতে কিছুটা সময় ব্যয় করুন। খুব বড় কোনও কারণ না থাকলে মহিলারা কোনও পুরুষের উপর হাত তোলে না। তবু আমি এই ধরনের কাজের নিন্দা করি।"

(হিন্দিতে লেখা ক্যাপশন,थोड़ा BJP के अनिल उपाधियाय जी का कुटाई का वीडियो भी देख लीजिए। लेकिन कोई बहुत बड़ा कारण रहा होगा वरना लेडीज किसी मर्द पर इस तरह हाथ नहीं उठाती। फिर भी मैं इसकी कड़ी निंदा करता हूँ। )

এই একই ভিডিও টুইটারেও ছড়িয়ে পড়েছে।


তথ্য যাচাই

বুম এই ভিডিও ক্লিপটির উৎস জানার জন্য রিভার্স ইমেজ সার্চ চালায়। আমরা দেখতে পাই, এক জন টুইটার ইউজার এই একই ভিডিও পোস্ট করেছেন এবং দাবি করেছেন যে তিনি জৌনপুরের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, এবং তাঁকে একটি মেয়েকে নিগ্রহ করার অভিযোগে মারধর করা হয়।

বুম অনুসন্ধান করে জেনেছে যে ভিডিওতে যাকে মারধর করার দৃশ্য দেখানো হয়েছে, তিনি উত্তরপ্রদেশের এক প্রাথমিক শিক্ষক এবং তাকে শৈলেন্দ্র দুবে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জৌনপুর পুলিশ এই কেসের বিষয়ে কোনও তথ্য পোস্ট করেছে কিনা তা জানতে আমরা টুইটারে কিওয়ার্ড সার্চ করি। আমরা দেখতে পাই ২০২০ সালের ২৪ জানুয়ারি জৌনপুরের এসএসপি রুরাল সঞ্জয় রাই নিগৃহীতাদের বাবাদের দায়ের করা অভিযোগের বিষয়ে একটি ভিডিও বাইট দিয়েছেন।

ওই ভিডিও বাইটে সঞ্জয় রাই বলেন, "আমরা একটা তথ্য পাই যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক মেয়েদের নিগ্রহ করেছেন। ওই মেয়েদের বাবারা অভিযোগ দায়ের করার পর ঘটনাটি সম্পর্কে জানা যায়। আমরা এই বিষয়ে খোঁজ খবর করছি এবং ওই ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়েছি।"

তিনি আরও জানান, "আমরা তদন্তের ফলাফল শিক্ষা দফতরকেও জানাব।"

দৈনিক ভাস্করের প্রতিবেদনে ওই ব্যক্তিকে শৈলেন্দ্র দুবে নামের এক সহশিক্ষক হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এবিপিনিউজ এবং হিন্দি দৈনিক দৈনিক ভাস্করে এই ঘটনাটি সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: সিএএ-বিরোধী প্রতিবাদ বানচাল করতে হিন্দু মহিলারা মুসলিম সেজেছে? একটি তথ্য যাচাই

Updated On: 2020-02-05T20:24:09+05:30
Show Full Article
Next Story