দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় ইদের প্রার্থনাকে বাবরি মসজিদে শেষ নামাজ বলে চালানো হচ্ছে

বুম খুঁজে পায় মূল ছবিটি ২০০৮ সালের দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় ইদের নামাজ পাঠের দৃশ্য।

দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা মসজিদে ইদের নামাজের একটি পুরনো ছবিকে এই ভুল ব্যাখ্যা সহ শেয়ার করা হচ্ছে যে, এটি অযোধ্যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়দানের পর শেষ বারের মতো বাবরি মসজিদ চত্বরে নামাজ পড়ার ছবি।

ছবিটি একটি ভাঙাচোরা কাঠামোর উপর থেকে তোলা, যাতে বেশ কয়েকজনকে নামাজের প্রার্থনায় রত দেখা যাচ্ছে।

ছবিটির ক্যাপশন, “এটাই বাবরি মসজিদে শেষ বারের নামাজ। এর পরেই এই মসজিদের এলাকা হিন্দু প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হবে। #অযোধ্যা রায় #বাবরি মসজিদ”

টুইটটি আর্কাইভ করা আছে এখানে

২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে একটি মন্দির বানানোর জন্য সরকারকে একটি ট্রাস্ট গঠন করার নির্দেশ দেয় এবং একই সঙ্গে মসজিদ তৈরির জন্য অন্যত্র ৫ একর জমি ধার্য করতে বলে।

অযোধ্যায় ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত বাবরি মসজিদটি ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর এক হিন্দু জনতা ভেঙে ধূলিসাৎ করে দেয়।

আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্ট রামমন্দির তৈরির পথ সুগম করে দিল, মুসলিমরা অযোধ্যায় বিকল্প জমি পাবে

তথ্য যাচাই

বুম এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পেরেছে যে, ছবিটি বাবরি মসজিদে নামাজ আদায়ের সাম্প্রতিক ছবি হতে পারে না, যেহেতু এই বিতর্কিত স্থানে সব সম্প্রদায়ের জন্যই প্রার্থনার জন্য সমবেত হওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল l তা সত্ত্বেও আমরা ছবিটির খোঁজখবর চালাই এবং দেখি যে, এটি দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা মসজিদে ইদুজ্জোহার নামাজ পাঠের পুরনো ছবি। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ফোটোগ্রাফার গুরিন্দর ওসান এই ছবিটি তুলেছিলেন।

ছবিটির তখন ক্যাপশন দেওয়া হয়েছিল, “দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা মসজিদে মুসলিমরা ইদুজ্জোহার নামাজ পড়ছেন মঙ্গলবার, ২০০৮ সালের ৯ ডিসেম্বর। বিশ্বব্যাপী মুসলিমরা এই দিনটিতে ইদুজ্জোহার পরব পালন করছেন, যা ত্যাগের উৎসব বলে পরিচিত। (এপি, গুরিন্দর ওসান)”

ফিরোজ শাহ কোটলা দুর্গটি দিল্লির সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক নির্মাণ করেছিলেন। বর্তমানে ভেঙেচুরে যাওয়া জামি মসজিদটি এই দুর্গের ভিতরেই তৈরি করা হয়েছিল। দেশের অন্যতম প্রাচীন এই মসজিদটি এখনও নিয়মিত ব্যবহৃত হয়ে থাকে। জামি মসজিদের প্রার্থনাকক্ষকে ঘিরে যে বিশাল চত্বর, সেখান থেকেই ছবিটি তোলা হয়।

Claim Review :   বাবরি মসজিদে শেষ নামাজ। এই প্রার্থনার পর মসজিদের জায়গাটা হিন্দু প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হবে
Claimed By :  TWITTER USER
Fact Check :  FALSE
Show Full Article
Next Story