বাংলাদেশে ছাত্রহত্যায় প্রধান অভিযুক্তের ছবিটি ভুল ভাবে মুর্শিদাবাদের খুনির ছবি বলে চালানো হয়েছে

বুম দেখলো, ছবিটি আসলে বাংলাদেশের বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত মেহেদি হাসান রাসেলের।

বাংলাদেশে বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্তের ছবি সোশাল মিডিয়ায় এই ভুয়ো বিবরণী সহ প্রকাশিত হয়েছে যে, এটি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে একই পরিবারের তিনজনকে হত্যা করায় অভিযুক্তের ছবি।

অনেক ফেসবুক পোস্টেই বাংলাদেশি ছাত্র আবরারের হত্যাকারীর ছবিকে মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে নৃশংসভাবে নিহত বন্ধুপ্রকাশ পাল, তাঁর স্ত্রী বিউটি পাল এবং ছয় বছরের শিশুপুত্রের খুনির ছবি বলে ভুল করে চালানো হয়েছে। পোস্টগুলির ক্যাপশনে লেখা, ‘’এই হচ্ছে আল্লার আদর্শ অনুগামী, যে একটি গোটা পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে”

(হিন্দিতে মূল পোস্টটি : यह वही अल्लाह का नेक बंदा है जिसने पूरे परिवार को ख़त्म कर दिया)

পোস্টটি আর্কাইভ করা আছে এখানে

মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে ৮ অক্টোবর বন্ধুপ্রকাশ পালের গোটা পরিবারকে কুপিয়ে খুন করা হয়। সেই থেকেই সোশাল মিডিয়ায় গুজব ছড়াতে থাকে যে, বন্ধুপ্রকাশ ও তাঁর পরিবারকে আরএসএস ও বিজেপির সঙ্গে সংশ্রবের কারণেই প্রাণ দিতে হয়েছে। অথচ এই দুই সংগঠনই এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে রাজনীতির যোগাযোগের কথা উড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশ ওই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত উত্তম বেহরাকে গ্রেফতার করেছে।

আরও পড়ুন: জিয়াগঞ্জে নৃশংস খুনের ঘটনা: আরএসএস-বিজেপির নেতারা কোনও রাজনৈতিক যোগ দেখছেন না

ছবিটতে শাদা কুর্তা পরা একজনকে লাল কালিতে গোল করে দাগানো আছে, যার বর্ণনা বাংলায় লেখা হয়েছে, ‘খুনি ও তার বাবা’

তথ্য যাচাই

বুম এই ছবিটির খোঁজ চালিয়ে দেখেছে, বহু সংবাদ-প্রতিবেদনে এটি ব্যবহৃত হয়েছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বুয়েট)-র ছাত্র আবরার ফাহাদকে খুনের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসাবে। ছবিতে নীল কুর্তা পরা ব্যক্তিটি বুয়েট-এর ছাত্র লিগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেল।

আবরারের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নিযুক্ত কমিটির সুপারিশক্রমে ছাত্র লিগ নেতৃত্ব রাসেলকে বহিষ্কার করে।

বাংলাদেশের একটি সংবাদ-প্রতিবেদনের অংশবিশেষঃ “সোমবার সকালে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির (বুয়েট) ২১ বছর বয়সী ছাত্র আবরার ফাহাদকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলের সিড়িতে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার সঙ্গে বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র শিবিরের যোগাযোগ আছে সন্দেহ করে ছাত্র লিগের কিছু নেতা রবিবার রাত্রে হস্টেলের ডরমিটরির ২০১১ নম্বর ঘরে তাকে বেধড়ক মারধর করে।” আবরারের মৃত্যুর পর অনেক প্রতিবাদ সংগঠিত হয়েছে।

আমরা এরপর রাসেলের ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখি এবং সেখানে বাবার সঙ্গে তোলা এই ছবিটিই খুঁজে পাই, যেটি এ বছর ইদের সময় তোলা। ছবিটির নীচে ক্যাপশনঃ “আমার অনুপ্রেরণা—আমার বাবা”

গত সপ্তাহে রাসেল এবং আরও ৯ জন ছাত্রকে পুলিশ হেফাজতে নেয়।



Show Full Article
Next Story