Connect with us

সিয়াচেনের এই ছবিটি কি আদৌ সত্যি?

সিয়াচেনের এই ছবিটি কি আদৌ সত্যি?

ছবিটি অবশ্যই আমাদের মধ্যে দেশাত্মবোধক ভাবনা জাগিয়ে তোলে। কিন্তু আদৌ কি ছবিটি সিয়াচেনের?

 

ফেসবুকে একটি ‘ভারতীয় সেনার’ ছবি পুনরায় ভাইরাল হচ্ছে। ছবিটি The India পেজে পোস্ট করা হয়েছে এবং ইতিবধ্যেই ৩৫০০ এরও বেশি বার শেয়ার করা হয়েছে। ছবিটিতে দুজন সেনাকে দেখা যায় যারা ভয়াবহ তুষারপাতের মধ্যে একটি যুদ্ধের ট্রেঞ্চে বসে আছেন এবং শুয়ে আছেন, নীচে লেখা – হ্যাঁ, এইভাবেই এত কষ্ট করে সিয়াচেনে রাত্রি কাটাতে হয় ভারতীয় সেনাদের। আমরা কেবল দেখেই কেঁপে যাচ্ছি। তাহলে ভাবুন ওনারা কি অবস্থ্যায় ওখানে থাকে।

 

ছবিটি অবশ্যই আমাদের মধ্যে দেশাত্মবোধক ভাবনা জাগিয়ে তোলে। কিন্তু আদৌ কি ছবিটি সিয়াচেনের?

Related Stories:

 

এটি প্রথমবার নয় যে এইরকম ছবি ভাইরাল হয়েছে।

 

ছবিটি আসলে রাশিয়ান সেনা বাহিনীর।

 

বুমের একটি ফ্যাক্ট চেক সেটি প্রমাণ করে ২০১৭ সালে। ছবি ১৬ ডিসেম্বরের পূর্বে পুনরায় ভাইরাল হয়েছে বলে মনে হয়। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় পাকিস্তানে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বিজয়কে চিহ্নিত করার জন্য ‘বিজয় দিবস’ হিসাবে স্মরণ করা হয়েছিল। যেটি অবশেষে বাংলাদেশ গঠনে সাহায্য করে।

 

বিজেপির সাংসদ কিরণ খের একই ছবি টুইট করেন ডিসেম্বর ১৭, ২০১৭। “সিয়াচেন হিমবাহে ভারতীয় সৈন্যদের রাত্রিতে থাকার জায়গা। সম্মান এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সেলাম। এই ছবি শেয়ার করার জন্য গর্ব বোধ করি,” ছবিতে লেখা ছিল।

 

কিরণ খেরের টুইট এখানে দেখে নিন।

 

 

ইউজাররা অসংখ্য কমেন্ট করেন যে ছবিটি ভারতের নয়, অথচ খের এখনও তার টুইট ডিলিট করেননি।

 

অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুরও একই ছবির সাথে একটি ম্যাসেজ শেয়ার করেন – They freeze to make sure that we are warm. They protect to make sure that we feel safe. Can never thank you Jawaans enough. (তারা ঠাণ্ডায় জমে যায় আমাদের সুরক্ষিত রাখার জন্যে। তারা আমাদের রক্ষা করে। আমরা ভারতীয়ে জাওয়ানদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। )

 

 

এমনকি সোনাম মহাজনও ছবিটিকে নিয়ে লিখতে ছাড়েননি। তিনি আবার টুইট করেন জাওাহারলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের কটাক্ষ করে। ‘আমাদের স্বাধীনতা এখান থেকে আসে। আমাদের সেনারা এসব অতিক্রম করে, যাতে আমরা শান্তিতে ঘুমতে পারি। পরের বার কনও নেতা বা জে এন ইউ গুন্ডা তাদের ওপর প্রশ্ন তুললে, প্রহার দিতে তৈরি থাকুন।’

 

শুধু এই নয়, সৈয়দ আতা হাসানাইন, ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেলও ছবিটি শেয়ার করেন।

 

যদিও বুম ছবিটির আসল সুত্র খুঁজে পায়নি, ২০১২ সাল থেকে এটি ইন্টারনেটে রয়েছে এবং রাশিয়ান ও ইউক্রেনীয় দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে এটি ব্যবহার করা হয়েছে বলে আমরা প্রচুর প্রমাণ পেয়েছি। ২০১৪ সালে ওয়েবসাইট stopfake.org ইউক্রেনীয় সৈন্য হিসাবে ভাইরাল হওয়া ছবি মিথ্যা প্রমাণ করে।

 

ছবিটির একটি অংশ রাশিয়ান সোশ্যাল মিডিয়াতে পাওয়া গেছে। লিঙ্ক দেখে নিন এখানে।

 

 

 

দ্বিতীয় ছবির অংশটি ভূমিকা প্রচারের ব্লগে দেখা যাবে। নীচে রাশিয়ান থেকে টেক্সটের একটি রূপান্তর।

 

 

 

 

ভারতে টুইটার ইউজারদের কাছে যাওয়ার আগে ছবি রাশিয়ান সাইটে অনেক আগে থেকেই আছে।

(বুম হাজির এখন বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে। উৎকর্ষ মানের যাচাই করা খবরের জন্য, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের টেলিগ্রাম এবং হোয়াটস্‍অ্যাপ চ্যানেল। আপনি আমাদের ফলো করতে পারেন ট্যুইটার এবং ফেসবুকে|)


Continue Reading

Krutika Kale is BOOM's video producer and works on stories through the intelligent use of images, text, and video. She is also the producer of our flagship show Fact Vs Fiction.

Click to comment

Leave a Reply

Your e-mail address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

Recommended For You

To Top