জম্মু-কাশ্মীর: মালগাড়িতে করে ফৌজি ট্যাঙ্ক নিয়ে যাওয়ার পুরনো ভিডিও আবার জিইয়ে তোলা হয়েছে

একটি ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, শ্রীনগর উপত্যকায় সাম্প্রতিক সংকটের প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী কাশ্মীরে ট্যাঙ্ক মোতায়েন করছে। বুম দেখেছে, এই ভিডিওটি গত ফেব্রুয়ারি থেকেই সোশাল মিডিয়ায় রয়েছে।

মালবাহী ট্রেনে ফৌজি ট্যাঙ্ক বয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি পুরনো ভিডিও শেয়ার করে ভুয়ো দাবি জানানো হয়েছে, সেনাবাহিনী কাশ্মীরে অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠাচ্ছে।

একটি ভিডিওতে বিচ্ছিন্নতাবাদী কাশ্মীরি নেতা আফজল গুরুকে উদ্দেশ করে ক্যাপশন দেওয়া হয়েছেঃ “আফজল, আমরা এসে গেছি। তুমি কি আমাদের স্বাগত জানাবে না?” আফজল গুরু হলেন সেই নেতা, যাঁকে সংসদভবনে হামলার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় ২০১১ সালে এবং ২০১৩ সালে যাঁকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।

ভিডিওটি এমন একটা সময় জিইয়ে তোলা হল, যখন সরকার জম্মু-কাশ্মীরের মানচিত্রই নতুন করে আঁকতে চলেছে। ৫ অগস্ট কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যসভাকে জানালেন, জম্মু-কাশ্মীরকে স্বায়ত্তশাসন দানকারী সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ করা হচ্ছে। কাশ্মীরে ইন্টারনেট ও টেলিফোন পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে এবং শ্রীনগরে প্রকাশ্য জমায়েত নিষিদ্ধ করতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

ভিডিওটি নীচে দেখা যাবে। আর্কাইভ করা আছে এখানে

তথ্য যাচাই

বুম ভিডিওটির খোঁজখবর চালিয়ে দেখেছে, এটি ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকেই সোশাল মিডিয়ায় রয়েছে, তবে সেখানে তার ক্যাপশন অন্যরকম। সেই ক্যাপশনে পাকিস্তান লাগোয়া আন্তর্জাতিক সীমান্তের দিকে ট্যাঙ্ক পাঠানোর কথা রয়েছে, যার লক্ষ্য পুলওয়ামা হামলার মুখের মতো জবাব দেওয়া।

পোস্টের দাবি 'আটালরি ট্যাঙ্ক জম্মু কাশ্মীর আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর সরানো হচ্ছে।ভারতীয় সেনা পাকিস্তানের পুলওয়ামা সন্ত্রাসী হামলার উত্তর দিতে প্রস্তুত।'

টুইটারেও ভিডিওটি শেয়ার হয়েছিল পাকিস্তান সীমান্তের অভিমুখে ভারতীয় সেনা ট্যাঙ্ক পাঠাচ্ছে, এই ক্যাপশন দিয়ে:





টুইটের দাবি 'ভারতীয় সেনা পাকিস্তান সীমান্তে ট্যাঙ্ক পাঠাচ্ছে।'

ফেব্রুয়ারি মাসে একই দাবি সহ ইউটিউবেও ভিডিওটি শেয়ার হয়।



দাবি ভারত পাকিস্তান ‍অস্থিরতা: জম্মু কাশ্মীর স্টেট স্টেশনে।

এই সবকটি ভিডিওই গত ফেব্রুয়ারি মাসেই সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার হয়। উল্লেখ্য, পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার জবাবে ওই ফেব্রুয়ারি মাসের ২৬ তারিখেই ভারতীয় বায়ুসেনা পাকিস্তানের বালাকোটে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের ঘাঁটিতে বোমারু হামলা চালায়।

বুম নিবিড়ভাবে ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে, একেবারে শেষ দিকে ক্যামেরা একটি মোটরসাইকেলের উপর ফোকাস করছে, যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর 'জেকে-০২' সেটিকে জম্মু শহরের গাড়ি হিসাবে শনাক্ত করায়।

নম্বর প্লেটের রেজিস্ট্রেশন নম্বর 'জেকে-০২'

ওই ফেব্রুয়ারি মাসেই যখন ভিডিওটি সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার হয়, তখন জম্মুর এক স্থানীয় লোককে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “এটি জম্মুর সাম্বা এলাকার বিজয়পুর মোড়ের ছবি। এবং ছবিটি সম্প্রতিই তোলা হয়েছে।” ঠিক কোন এলাকায় ভিডিওটি তোলা হয়েছে, সেটা বুম যদিও নিজে নির্দিষ্টভাবে খুঁজে বের করতে পারেনি। তবে ভিডিওটি  যে ফেব্রুয়ারি মাসের পুরনো এবং জম্মু-কাশ্মীরের বর্তমান সংকটের সঙ্গে যে তার কোনও সম্পর্ক নেই, সেটা বুম নিশ্চিতভাবেই প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

Claim Review :   সেনাবাহিনী কাশ্মীরে ট্যাঙ্ক সরাচ্ছে
Claimed By :  FACEBOOK PAGES
Fact Check :  FALSE
Show Full Article
Next Story