না, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জাল্লিকাট্টু উৎসব দেখতে আসছেন না

‘অপইন্ডিয়া’ ও ‘মাই নেশন’ ভুল খবর দিয়ে বলে যে, রুশ প্রেসিডেন্ট ও নরেন্দ্র মোদী ২০২০ সালে তামিলনাড়ু যেতে পারেন।

মিথ্যে দাবি করে বলা হয়েছে যে, আগামী বছর ষাঁড়কে বশে আনার খেলা জাল্লিকাট্টু  দেখতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তামিল নাড়ু আসবেন। দাবিটি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট ওই কথা রিপোর্ট করে। ‘ওয়ান ইন্ডিয়া তামিল’, ‘অপইন্ডিয়া’ ও ‘মাই নেশন’ দাবিটি ফেসবুক ও টুইটারে শেয়ার করে।

টুইটারে ভাইরাল



টুইটটি দেখা যাবে এখানে। টুইটি আর্কাইভ করা আছে এখানে



টুইটটি দেখা যাবে এখানে। টুইটি আর্কাইভ করা আছে এখানে

মিডিয়ায় ভুল রিপোর্ট

ওয়ান ইন্ডিয়া তামিল-এ প্রকাশিত রিপোর্ট উদ্ধৃত করে দক্ষিণপন্থী ওয়েবসাইট অপইন্ডিয়া জানায়, “ষাঁড়কে বশে আনার উৎসব জাল্লিকাট্টু দেখতে পুতিন জানুয়ারি ২০২০ তে তামিলনাড়ুর মাদুরাইতে আসতে পারেন।”

অপইন্ডিয়ার রিপোর্ট।

পরে অবশ্য তারা শিরোনামটা পাল্টে খবরটিকে আপডেট করে। লেখা হয়, “এখন জানা যাচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জাল্লিকাট্টু দেখতে মাদুরাই আসবেন বলে মিডিয়ায় যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেটি ভুল। সেরকম কোনও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি।”

মাই নেশনে প্রকাশিত রিপোর্ট

মাই নেশন ভুল খবর দিয়ে বলেছিল, “রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অভ্যর্থনা জানাতে তামিলনাড়ু প্রস্তুত। সব রিপোর্ট যদি সত্যি হয়, তা হলে ২০২০’র জানুয়ারিতে, পুতিন তামিলনাড়ু আসছেন।”

তথ্য যাচাই

গুজরাটের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো টুইটারের মাধ্যমে খবরটি উড়িয়ে দেয়। সেটিকে “মিথ্যে খবর” বলে বর্ণনা করে তারা।



সংবাদ সংস্থা এএনআই-ও জানায় ওই রকম কোনও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি।



জাল্লিকাট্টু তিন দিন ব্যাপী পোঙ্গাল উৎসবের অঙ্গ। জালিকাট্টু নামটি এসেছে দুটি তামিল শব্দ থেকে—‘সালি’ (মানে টাকা) আর ‘কাট্টু (মানে ঝোলা)। খেলাটিতে ষাঁড়ের সিঙে বেঁধে দেওয়া হয় টাকা ভর্তি ঝোলা। প্রতিযোগীদের ষাঁড়ের সিং থেকে সেই টাকার ব্যাগ ছাড়িয়ে নিতে হয়।

এই প্রথাটিকে সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ সালে বেআইনি ঘোষণা করে। পশু অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন কিছু সংস্থা সেটির বিরুদ্ধে মামলা করলে, কোর্ট ওই রায় দেয়। পরে সরকার একটি অরডিন্যান্স জারি করে, কোর্টের নির্দেশ খারিজ করে দেয়।

বুম প্রধানমন্ত্রীর অফিস এবং বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে, এই প্রতিবেদনটি সংস্করণ করা হবে।

Show Full Article
Next Story