Connect with us

না, এটি পুণের পবনা বাঁধ নয়

না, এটি পুণের পবনা বাঁধ নয়

বুম দেখেছে, এই ভিডিওটি চিনের ইয়েলো রিভারের উপর অবস্থিত শ্যালাংডি বাঁধের।

চিনের ইয়েলো রিভারের একটি বাঁধ থেকে বেরিয়ে আসা বিপুল জলস্রোতের একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এই ভুয়ো দাবি নিয়ে যে, পবনা বাঁধের ফ্লাডগেট এভাবে খুলে দেওয়ার ফলেই পুণে শহর প্লাবিত হয়েছে।

অবিরাম বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন স্থানে জল জমে যাওয়ায় পুনে শহর পঙ্গু হয়ে পড়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে ভরে যাওয়া মুলা, মুথা ও পবনা নদীতেও জল ছাড়তে হয়েছে, যার ফলে পুনে ও তার আশপাশের এলাকায় বন্যা-পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

১৪ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপটিতে বিপুল তোড়ে জল ছাড়ার দৃশ্য রয়েছে, যার পিছনে জোরে সাইরেন বাজার ধ্বনি এবং কিছু লোকের দাঁড়িয়ে দেখার দৃশ্য।

হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও টুইটারে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে এই ক্যাপশন দিয়ে যে, এটি পবনা বাঁধের জল ছাড়ার ছবি।

এই লেখার আগে পর্যন্ত ৩৫ হাজার জন ভিডিওটি দেখে ফেলেছে, টুইট করে বলা হয়েছে—“পুণের চারটি জলাধারের একটির ফ্লাডগেট খুলে দেওয়া হয়েছে।”

Related Stories:
টুইটটি আর্কাইভ করা আছে এখানে
টুইটটি আর্কাইভ করা আছে এখানে

তথ্য যাচাই

বুম খেয়াল করেছে, জনৈক টুইটকারী ভিডিওটিকে চিনের বলে শনাক্ত করেছেন।

তিনি টুইটে লিখেছেন, ভিডিওটিকে ভুলবশত সোশাল মিডিয়ায় পবনা বাঁধের জল ছাড়ার ছবি বলে চালানো হচ্ছে, কিন্তু আদতে ছবিটি চিনের।

এর পর বুম ৩৭ সেকেন্ডের একটি দীর্ঘতর ভিডিও শনাক্ত করে, যেখানে দৃশ্যটি চলতি বছরের ৬ মে তারিখে টুইট করা হয়েছিল এবং সেখানে এটিকে চিনের ইয়েলো রিভারের উপর অবস্থিত শ্যালাংডি বাঁধ থেকে জল ছাড়ার ছবি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর পর বুম ‘শ্যালাংডি বাঁধ’ এবং ‘ইয়েলো রিভার’ এই শব্দদুটি দিয়ে সন্ধান চালিয়ে দেখে, ইউটিউবে অবিকল এই ভিডিওটিই আপলোড হয়েছে এবং সেটি চিনের দৃশ্যই।

এই দৃশ্যটির ভিডিও আমরা কোনও সংবাদ-মাধ্যমে এ পর্যন্ত খুঁজে পাইনি, কিন্তু চিনা গণমাধ্যম শ্যালাংডি বাঁধ থেকে তোড়ে জল ছাড়ার বেশ কয়েকটি ভিডিও আপলোড করেছে, যেগুলো আমাদের নজরে এসেছে।

শ্যালাংডি জলাধারটি চিনের হেনান প্রদেশে ইয়েলো রিভার নদীর উপর অবস্থিত। এই জলাধারটি প্রচুর পরিমাণে বালি জমার জন্য বিখ্যাত এবং এর জল ছাড়ার বিস্ফোরক বিপুলতা দেখতে পর্যটকরাও এখানে ভিড় জমায়। এ ব্যাপারে আরও পড়তে এখানে এবং এখানে ক্লিক করুন।

ভাইরাল হওয়া ক্লিপের ছবি এবং ইউটিউবে ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই নিউ চায়না টিভির আপলোড করা ক্লিপে দেখানো জলাধারের কাঠামোর তুলনা করলে দুটির মধ্যে অনেক সাদৃশ্যই চোখে পড়ে।

বাঁধের গঠনের তুলনা। রয়েছে সদৃশ্য।

(বুম হাজির এখন বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে। উৎকর্ষ মানের যাচাই করা খবরের জন্য, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের টেলিগ্রাম এবং হোয়াটস্‍অ্যাপ চ্যানেল। আপনি আমাদের ফলো করতে পারেনট্যুইটার এবং ফেসবুকে|)

Claim Review : পুনের পবনা বাঁধে প্রবল জলোচ্ছাসের ভিডিও

Fact Check : FALSE


Continue Reading

Sk Badiruddin is a Kolkata-based journalist and a fact-checking staff at Boom’s Bangla desk. Earlier, he was a translator for TRID India, news desk assistant of Onkar News, science news contributor for AIR Kolkata and culture writer for a small scale newspaper.

Click to comment

Leave a Reply

Your e-mail address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

Recommended For You

To Top