ছবিটি পুলওয়ামা হামলার কয়েক ঘন্টা আগে তোলা সিআরপিএফ জওয়ানদের ছবি নয়

বাসের ভিতর জওয়ানদের ঘুমন্ত অবস্থার এই ছবিটি পুরনো এবং জানুয়ারি মাস থেকেই এটা ভাইরাল হয়েছে l বুম দেখেছে, নিহত জওয়ানদের সঙ্গে এই ছবির জওয়ানদের কোনও সাদৃশ্য নেই l

বাসের ভিতর সৈন্যদের ঘুমন্ত অবস্থার একটি ছবি ভুয়ো ক্যাপশন দিয়ে ভাইরাল করে বলা হচ্ছে, পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার কিছুক্ষণ আগেই জওয়ানদের এই ছবিটি তোলা হয়েছে । ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ছবিটির হিন্দি ক্যাপশনে বলা হয়েছে— শহিদ হওয়ার ৯ ঘন্টা আগে দেশের জওয়ানদের ছবি । পোস্টটিতে দাবি করা হয়েছে, জওয়ানদের নিয়ে যাওয়া এই বাসটিই কিছু ক্ষণ পরে জঙ্গি হানার কবলে পড়ে ।

ক্রিকেট টাইমস নামে একটি পেজ শনিবার এটি পোস্ট করে এবং ইতিমধ্যেই ১০০০ জন পোস্টটি শেয়ার করে ফেলেছে ।

অন্যান্য সোশাল মিডিয়াতেও পোস্টটি ভাইরাল হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই ৪০০০ প্রতিক্রিয়া ও ৩০০টি শেয়ার পেয়ে গেছে । ফেসবুকে অবশ্য এই মুহূর্তে আর পোস্টটি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না ।

তথ্য যাচাই

বুম ছবিটির সন্ধান চালিয়ে দেখেছে, ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই অন-লাইনে ছবিটি ছিল । যেমন ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশংসা করতে এই ছবি ব্যবহৃত হয়েছিল ।

গুগল প্লাস অ্যাকাউন্টে প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন এই ছবিটি পোস্ট করে ক্যাপশন দেওয়া হয়েছিল—“এটা দেখে ভাল লাগছে যে, যাঁরা আমাদের সকলের নিরাপদে ঘুমনো নিশ্চিত করেন, তাঁরাও শান্তিতে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারছেন ।”

ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের খুঁজে বের করার একটি ওয়েব প্রোগ্রাম ওইনো (oino) তেও এই একই ছবি আত্মপ্রকাশ করেছে ।

পুলওয়ামা হামলার তিন সপ্তাহ আগে ২৭ জানুয়ারি ছবিটি আপলোড করা হয়েছিল ।
একই ভাবে ইনস্টা স্টকার নামের একটি ওয়েবসাইটেও ২৭ জানুয়ারি ছবিটি প্রকাশিত হয় ।

বুম এই ছবির জওয়ানদের সঙ্গে সিআরপিএফের নিহত জওয়ানদের সরকারিভাবে প্রকাশিত ছবির তালিকা মিলিয়ে-মিলিয়ে দেখেছে, একটি মুখের সঙ্গেও নিহত জওয়ানদের চেহারার কোনও সাদৃশ্য নেই । নিহত জওয়ানদের নাম, তাঁরা কোন রাজ্যের বাসিন্দা, বাহিনীতে তাঁদের পদ কী ছিল—সবই এই দলিলটিতে পাওয়া যাবে । বুম ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে, ছবির জওয়ানরা আদৌ তাঁদের বাহিনীর সদস্য কিনা জানতে ।

Claim Review :   Picture depicting Pulwama martyrs 9 hours before the attack
Claimed By :  Facebook page
Fact Check :  FALSE
Show Full Article
Next Story