চা শ্রমিকদের বিদ্যালয় চাওয়ার দাবিতে ভূমি আধিকারিকের পা ছুঁয়ে আকুতির ছবিকে সাম্প্রদায়িক রূপ

ওই ছবিতে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিটি বাংলাদেশের হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)। চা বাগানের শ্রমিকরা তার পা ছুঁয়েছিলেন স্কুলের দাবিতে।

ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপ থেকে কয়েকজন মহিলার এক ব্যক্তির পা ছোঁয়ার ছবি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে সেটি বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ছবি। ছবিটিতে এক ব্যক্তির পা ছুঁয়ে রয়েছেন কয়েকজন মহিলা। তাদের হাতে শাঁখার বালা রয়েছে। একজন পুরুষও পা ছুঁয়ে রয়েছেন। অদূরে কয়েকজন মহিলা দাঁড়িয়ে রয়েছেন।

এরকম একটি ফেসবুক পোস্টে ক্যাপশন লেখা হয়েছে, ‘‘সত্যি কিছু ছবি কথা বলে তাতে নতুন কিছু লেখার দরকার পরেনা। এই ছবিটা আজ আমার চোখ থেকে জল নামিয়েছে। এই ছবিটা আমার চোখে জল নামিয়েছে। জানিনা ওদের কি অবস্থা হয়েছে হে প্রভূ তুমি ওদের রক্ষা করো। কে বলল, হিন্দুরা নির্যাতনের শিকার? কে বলল, হিন্দুরা বাংলাদেশে সুরক্ষিত নয়? আসুন আর দেখুন আমরা বেশ আছি বাংলাদেশে! ফ্যক্টঃ- ছবি কথা বলে।’’

পোস্টটি দেখা যাবে এখানে। পোস্টটি আর্কাইভ করা আছে এখানে

ফেসবুকে ভুয়ো দাবি সহ পোস্ট।

তথ্য যাচাই

বুম রিভার্স সার্চ করে জেনেছে এই ছবিটি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

ঘটনাটি ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসের। ওই ছবিতে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিটি বাংলাদেশের হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)। সেখানের হতদরিদ্র চা বাগানের শ্রমিকরা চাঁদায় গড়ে তোলা স্কুল টিকিয়ে রাখার আকুতি জানাচ্ছিলেন তাকে। আবার অনেকের মতে স্কুল টিকিয়ে রাখার আশ্বাস পেয়ে তারা তাকে প্রণাম করছে। বিস্তারিত পড়া যাবে এখানে। (আর্কাইভ লিঙ্ক)

২০১৮ সালে ৬ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ত্রিনশট।

বুম বাহুবল হবিগঞ্জের বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করে খবরটির সত্যতা যাচাই করেছে।

"চা বাগানের শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী তাদের পছন্দমতো জায়গায় স্কুল প্রতিষ্ঠার সাথে একমত পোষণ করায়, খুশি হয়ে প্রনাম করে। তবে সহকারী কমিশনার বিব্রত বোধ করায়, তার অনুরোধে শ্রমিকরা পা ছাড়ে।
এটাকে মিথ্যে তথ্য দিয়ে ফেসবুকে ভাইরাল করা হয় । তবে যারা ভাইরাল করেছে, তারা পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে সত্য ঘটনা জেনে ভুল স্বীকার করেছে।"

রফিকুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি), বাহুবল, হবিগঞ্জ

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন: সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ

ছবিটি এমন এক সময় ভাইরাল হয়েছে যখন বাংলাদেশের নাগরিক প্রিয়া সাহা আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে থেকে ৩ কোটি ৭০ লক্ষ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন।

১৭ জুলাই ২০১৯ হোয়াইট হাউসের ইউটিউব চ্যানেলে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিদের কথপকথনের ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। ১:৪২ সময় থেকে দেখা যাবে প্রিয়া সাহার কথপকথনের অংশটি।



প্রিয়া সাহা বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি আমেরিকান হিন্দু কনসার্ণ সংগঠনের তরফে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেন। বালাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুত্র ও দেশের প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় অবশ্য ফেসবুক পোস্টে বাংলাদেশস্থিত আমেরিকার দূতাবাসকে এক হাত নেন।

বংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হারিয়ে যাওয়ার কারন বিষয়ে বিবিসি বাংলার সাম্প্রতিক প্রতিবেদন নীচে দেওয়া হল।



প্রিয়া সাহার আত্মপক্ষ সমর্থনের ভিডিওটি দেখা যাবে এখানে

Show Full Article
Next Story
Our website is made possible by displaying online advertisements to our visitors.
Please consider supporting us by disabling your ad blocker. Please reload after ad blocker is disabled.