Connect with us

দুবাইয়ে রাহুল গান্ধীর গোমাংস-সহ ব্রেকফাস্টের খবর কি সত্যি?

দুবাইয়ে রাহুল গান্ধীর গোমাংস-সহ ব্রেকফাস্টের খবর কি সত্যি?

ব্যবসায়ী সানি ভারকি-র বাড়িতে তাঁর সঙ্গে রাহুল গান্ধীর প্রাতঃরাশ বৈঠকের ছবি ভুয়ো ক্যাপশন দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে যে, এটা নাকি দুবাইয়ের একটি পাঁচতারা হোটেলের ঘটনার ছবি

দুবাইয়ে রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক সফরের সময় সেখানকার এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে প্রাতঃরাশ খাওয়ার ছবি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এই ভুয়ো বিবরণ দিয়ে যে, রাহুল নাকি এক পাঁচতারা হোটেলে খুব দামি এক ভোজনে ব্যস্ত । ভোজ্যসামগ্রীর তালিকায় গোমাংসও রয়েছে বলে কোনও-কোনও পোস্টে দাবি করা হয়েছে ।

সোশাল মিডিয়ার পোস্টগুলিতে দেখানো হয়েছে প্রাতঃরাশের টেবিলে স্যাম পিত্রোদা ও ব্যবসায়ী সানি ভারকির সঙ্গে রাহুল বসে রয়েছেন । দাবি করা হচ্ছে, এই প্রাতঃরাশের দাম অনেক—অন্তত ১৫০০ পাউন্ড । শুধু তাই নয়, টেবিলে যে পাতলা মাংসের স্লাইস দেখা যাচ্ছে, সেগুলো আসলে গরুর মাংসের এবং রাহুল তা খাচ্ছেনও ।

সংবাদ প্রতিদিন এই বিষয় একটি প্রতিবেদন ও ছেপেছে। প্রতিবেদনটি এখানে দেখুন। প্রতিবেদনের আর্কাইভ ভার্সন এখানে পাবেন।

Related Stories:

জনৈক ঋষি বাগরি তাঁর টুইটারে দাবি করেছেন, রাহুল গান্ধী প্রবাসী ভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি স্যাম পিত্রোদার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দারিদ্র্য নিয়ে আলোচনা করার সময় হিলটন হোটেলের এই বিলাসবহুল দেড় হাজার পাউন্ডের প্রাতঃরাশ খাচ্ছিলেন । বাগরি মশায়ের এই টুইট ২০০০ জন পুনরায় টুইট করেছে আর ৫০০০ জন লাইক দিয়েছে ।

বাগরি অতীতেও অনেক ভুয়ো ছবি বা বার্তা শেয়ার করেছেন । অথচ টুইটারে তাঁর অনুগামীদের মধ্যে রয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধৃতি ইরানির মতো রাজনীতিকরা । আলোচ্য পোস্টটি ফেসবুকেও ভাইরাল হয়েছে । সেখানেও একই রকম ভুয়ো ক্যাপশন দিয়ে লেখা হয়েছে, স্যাম পিত্রোদার সঙ্গে হিলটন হোটেলের ব্যাংকোয়েটে রাহুল গান্ধী প্রাতঃরাশ খেতে-খেতে দারিদ্র্য নিয়ে আলোচনা করছেন (যে প্রাতঃরাশের মাথা-পিছু ব্যয় ১৫০০ পাউন্ড বা ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা)।

এখানে আর্কাইভ দেখুন।

তথ্য যাচাই

বুম দুবাইয়ে রাহুল গান্ধীর সফরকালের বিভিন্ন খবরের রিপোর্ট খতিয়ে দেখে, যাতে স্পষ্ট, অনাবাসী ভারতীয় ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রাতঃরাশ টেবিলের ছবিটি হোটেল হিল্টনে তোলা নয়, ব্যবসায়ীটির নিজের বাড়িতে তোলা । জেমস এডুকেশন এবং ভার্কি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সানি ভারকির দুবাইয়ের বাড়িতেই এই প্রাতঃরাশ আয়োজিত হয় । বৈঠকটিতে লুলু গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ইউসুফ আলির মতো অগ্রণী ব্যবসায়ীরা যেমন হাজির ছিলেন, তেমনই ছিলেন স্যাম পিত্রোদা ও মিলিন্দ দেওরার মতো কংগ্রেস নেতারাও ।


বুম ইউসুফ আলির দফতরে যোগাযোগ করে জানতে পারে যে, এ ধরনের একটি প্রাতঃরাশ বৈঠক হয়েছিল বটে, তবে তা সানি ভারকির বাড়িতে, কোনও হোটেলে নয় । আলির এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং লুলু গোষ্ঠীর সংযোগ রক্ষাকারী ম্যানেজার ভি নন্দকুমারও এই বক্তব্য সমর্থন করেন । কংগ্রেস দলের মুখপাত্রও জানান, হিল্টন হোটেলে এমন কোনও বৈঠক হয়নি, তবে ভার্কির নিজের বাড়িতে একটি প্রাতঃরাশ হয়েছিল বটে ।১১ জানুয়ারী কংগ্রেসের সরকারি টুইটার হ্যান্ডেল এ সংক্রান্ত ছবিটি পোস্টও করে দেয়:

অন্যান্য কংগ্রেস কর্মীদের পাঠানো পোস্ট থেকেও স্পষ্ট যে, প্রাতঃরাশ বৈঠকটি কোনও বিলাসবহুল হোটেলের ব্যাংকোয়েট হলে নয়, কোনও ব্যক্তির নিজের বাড়িতেই হচ্ছে ।

উপরন্তু বাগরি মশায়ের টুইটে যেমনটা দাবি করা হয়েছে—দুবাইয়ের মুদ্রা কিন্তু পাউন্ড নয়, দিরহ্যাম ।জনৈক টুইটার ব্যবহারকারী পোস্টের ছবির একটি অংশকে তুলে ধরে দেখানোর চেষ্টা করেছেন যে প্রাতঃরাশ টেবিলের প্লেটে সাজানো মাংসেরটুকরোগুলো গোমাংসের। এই বিশেষ পোস্টটি ১০০০ বার পুনঃটুইট হয় ।

আর এই ছবিটাই ফেসবুক ও হোয়াট্স্যাপে ভাইরাল হয়েছে এই ক্যাপশন দিয়েঃ তথাকথিত দত্তাত্রেয় কল ব্রাহ্মণ রাহুল গান্ধী দুবাইয়ে বসে গোমাংস খাচ্ছেন । এ ব্যাপারে আর কিছু বলার আছে!ক্যাপশনটিতে আরও দাবি করা হয়েছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি যেহেতু একটি ইসলামি রাষ্ট্র, তাই ওদের পক্ষে তো আর শুয়োরের মাংস সেবন করা সম্ভব নয়, অতএব ওটা নিশ্চয় গোমাংসই ছিল ।

বুম কংগ্রেসের এক নেতাকে যোগাযোগ করে যিনি জানান, সে দিন ওই প্রাতঃরাশে কোনও গোমাংসই পরিবেশন করা হয়নি lটেবিলে যে মাংসের ছবি দেখা যাচ্ছে, ওটা টার্কির মাংস l তা ছাড়া, রাহুল ওই প্রাতঃরাশের সময় কমলালেবুর রস ও একটু ডিম ছাড়া আর কিছু চেখে দেখেননি l

(বুম হাজির এখন বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে। উৎকর্ষ মানের যাচাই করা খবরের জন্য, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের টেলিগ্রাম এবং হোয়াটস্‍অ্যাপ চ্যানেল। আপনি আমাদের ফলো করতে পারেনট্যুইটার এবং ফেসবুকে|)


Continue Reading

A former city correspondent covering crime, Nivedita is a fact checker at BOOM and works to stop the spread of disinformation and misinformation. When not at work, she escapes into second-hand bookstores, looking for magic or a mystery.

Click to comment

Leave a Reply

Your e-mail address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

Recommended For You

To Top