“ইউপি-তে কিছু মহিলা হপ্তায়-হপ্তায় বাচ্চার জন্ম দেয়”: রাহুল গান্ধী কি এ কথা বলেছেন?

বুম দেখে যে, ২০১১ সালে রাহুল গান্ধীর এক জনসভার ভিডিও কাটছাঁট করা হয়েছে। তাঁর ভাষণে রাহুল গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এক প্রকল্পে দুর্নীতির কথা বলছিলেন।

একটি কাটছাঁট-করা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা হচ্ছে। তাতে দাবি করা হয়েছে যে, রাহুল গান্ধী বলেছেন, “ইউপির মহিলারা বছরে ৫২ বাচ্চার জন্ম দেয়।”

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি।

ভিডিওটি বুম-এর হোয়াটসঅ্যাপ হেল্পলাইনে (৭৭০০৯০৬১১১) আসে। জানতে চাওয়া হয় যে ভিডিওটি আসল কিনা। ওই ভিডিওতে রাহুল গান্ধীকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “ইউপিতে এমন মহিলা আছেন যাঁরা প্রতি সপ্তাহে একটি বাচ্চার জন্ম দিতে পারে। আর বছরে ৫২ টি। (यूपी में ऐसे महिलाएं हैं जो हर सप्ताह एक बच्चा पैदा कर सकती है, ऐसे महिला है जो साल में 52 बच्चे दे रही है).
ভিডিওটিতে ‘ইন্ডিয়া টিভি’র লোগো দেখা যাচ্ছে। সঙ্গে হেডলাইনে দেখানো হচ্ছে ‘রাহুল গান্ধী লাইভ’ আর তার তলায় টিকারে স্ক্রোল করা হচ্ছে, “ইউপির যে দিকেই তাকাও, সেদিকেই দুর্নীতি” [(उत्तर प्रदेश में जिधर भी देखो भ्रष्टाचार हैं) এবং “থানায় কেস নিতে পুলিশ টাকা চায়” (थाने में केस दर्ज करवाने के लिए पुलिस पैसा मांगती है)]।
বুম দেখে ওই ক্লিপটি একই ক্যাপশন সহ ফেসবুক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ক্লিপ।

‘চৌকিদার রূপা মুর্তি’ নামের এক টুইটার ব্যবহারকারী ওই একই বিভ্রান্তিকর ক্লিপটি টুইটারে শেয়ার করেন। সঙ্গে লেখেন, “জেনে ভাল লাগল যে ইউপি’র কিছু মহিলা প্রতি সপ্তাহে বাচ্চার জন্ম দেন, আর বছরে ৫২টির। এই মহিলারা যেই হোন না কেন, এর জন্য পুরো ক্রেডিট নেহরুজির পাওয়া উচিৎ।”
তুলে নেওয়ার আগে পর্যন্ত, ওই টইটটি ১,২০০ বার রিটুইট করা হয়েছিল, আর লাইক পেয়েছিল ২,৫০০।

ট্যুইটারে শেয়ার-করা বিভ্রান্তিকর ক্লিপ।

ক্লিপটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

তথ্য-যাচাই

বুম দেখে ক্লিপটির বাঁ-কোণে, ‘ইন্ডিয়া টিভি’-র লোগো আছে। সেটি ইঙ্গিত করে যে, ভিডিওটি ওই চ্যানেলের ইউটিউব পেজে রয়েছে।
১১ সেকেন্ডের ওই ক্লিপে ‘টিকার’ (ভিডিওর সামনের চলমান লেখা) চলছিল। তার থেকে বুম কয়েকটি শব্দবন্ধ ব্যবহার করে। সেটির স্ক্রিনে যা লেখা ছিল তা হল, “ইউপির যেদিকেই তাকাও, সেদিকেই দুর্নীতি।” তার থেকে বাছা হয় ‘দুর্নীতি’ আর ‘ইউপি।’
পরের টিকারে লেখা ছিল, “পুলিশ স্টেশনে কেস নথিবদ্ধ করার জন্য পুলিশ টাকা চায়।” এই টিকার থেকে যে শব্দ বাছা হয় তা হল, ‘পুলিশ স্টেশন।’ আর শিরোনাম থেকে নেওয়া হয়, ‘রাহুল গান্ধীর জনসভা।’
‘ইউপি’, ‘রাহুল গান্ধী র‍্যালি’, আর ‘দুর্নীতি’ — এই প্রধান-শব্দগুলি সমেত সার্চ করলে এক সাত বছরের পুরনো ভিডিও বেরিয়ে আসে। এবং সেটি ওই ভাইরাল ভিডিওর সঙ্গে মিলে যায়।

ইউটিউবে ইন্ডিয়া টিভি সংক্রান্ত সার্চের ফলাফল।

২০১১ সালের ১১ নভেম্বর ৫টা ২৬ মিনিটে ইন্ডিয়া টিভি আট মিনিট ১১ সেকেন্ডের ওই ভিডিও, আপলোড করে। ওই ভিডিওয়, ইউপিতে জননী সুরক্ষা প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন রাহুল গান্ধী। প্রকল্পটি জাতীয় গ্রামীণ স্বাস্থ্য মিশনের আওতায় পড়ে। এই প্রকল্পে, গরিব গর্ভবতী মহিলাদের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে প্রসব করানোকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য ১,৪০০ টাকা ভাতা দেওয়া হয়।



কাটছাঁট না-করা ভিডিও।

রাইট টু ইনফরমেশন(আরটিআই) বা তথ্যের অধিকার আইন অনুযায়ী এক আবেদন করা হয়েছিল। তার ভিত্তিতে পাওয়া তথ্য উদ্ধৃত করে রাহুল গান্ধী বলেন, “আমরা আরটিআই অনুযায়ী একটি আবেদন করি। তার একটা উত্তরও পাই। ইউপিতে এমন সব মহিলা আছেন যাঁরা, সপ্তাহে একটি করে সন্তান প্রসব করতে পারেন। সেই মহিলারা বছরে ৫২ শিশুর জন্ম দিতে পারেন। তাঁদের সকলের একই নাম। সপ্তাহে ১,৪০০ টাকা তাঁদের পকেটে। এ রকম কেবল একজন নয়। কয়েক হাজার আছেন।”
(हमने आरटीआई मांगा आरटीआई में जो हमें रिपोर्ट मिली, यूपी में ऐसे महिलाएं हैं जो हर सप्ताह एक बच्चा पैदा कर सकती है, ऐसे महिला है जो साल में 52 बच्चे दे रही है, एक ही नाम है, Rs 1400 हर सप्ताह उनकी जेब में, और ऐसी 1 महिला नहीं है हजारों महिलाएं)
বিচ্ছিন্ন করে দেখলে, রাহুল গান্ধীর বক্তব্য বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে। রাহুল গান্ধী প্রকল্পটিতে দুর্নীতির কথা বলছিলেন। বলছিলেন যে, আরটিআই-এ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, একই মহিলারা সরকারি উৎসাহ-ভাতার টাকা প্রতি সপ্তাহে পেয়ে আসছেন।
“ইউপিতে এমন সব মহিলা আছেন যাঁরা, সপ্তাহে একটি করে সন্তান প্রসব করতে পারেন। সেই মহিলারা বছরে ৫২ শিশুর জন্ম দিতে পারেন” — রাহুল গান্ধীর ভাষণের এই অংশটুকু প্রসঙ্গ থেকে আলাদা করে বার করে নিয়ে বিভ্রান্তিকর ভাবে প্রচার করা হচ্ছে।
‘দৈনিক ভাস্কর’ ও ‘অল্ট নিউজ’ আগেই এ বিষয়ে তথ্য-যাচাই করেছিল (দেখার জন্য এখানে, এখানে ক্লিক করুন)।

Claim Review :  ভিডিওর দাবি রাহুল গান্ধী বলেছেন উত্তর প্রদেশের মহিলারা বছরে ৫২ টি বাচ্চার জন্ম দেয়
Claimed By :  FACEBOOK POSTS
Fact Check :  FALSE
Show Full Article
Next Story