আগামী বছর মহালয়ার ৩৫ দিন পর কী দুর্গাপুজো শুরু হবে?

বুম জেনেছে, নৈমিত্তিক পূজার্চনায় এর প্রভাব পড়লেও বারোয়ারি কিংবা সর্বজনীন দুর্গা পুজোয় পরের বছরে হওয়া মলমাস আশ্বিনের কোনও প্রভাব পড়বে না।

সোশাল মিডিয়াতে একটি নিউজপ্রিন্টের স্ক্রিনশট ছড়িয়েছে যেখানে দাবি করা হয়েছে পরের বছর ১৮২৭ বঙ্গাব্দে দুর্গাপূজা মহালয়ার ৫ দিন পরেই হবে; কিছুদিন আগে সোশাল মিডিয়ায় একটি নিউজ প্রিন্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করা দাবি করা হয়েছিল পরের বছর আশ্বিন মাস মলমাস হওয়ায় মহালয়ার ৩৫ দিন পরে শুরু হবে দুর্গোৎসব।

সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় ছড়ানো নিউজ প্রিন্টটির লেখার সারাংশে বলা হচ্ছে, "আগামী বছর আশ্বিন মাস, মলমাস ঠিকই। তাই কার্তিক মাসেই দুর্গাপুজা হবে। কিন্তু মল মাসে তর্পণ করতে কোনও বাধা নেই। নিয়ম অনুযায়ী পুজোর ১ সপ্তাহ আগেই মহালয়া হবে। ফলে পুজোর ৩৫ দিন আগে মহালয়া হবে বলে যে প্রচার করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভুল। ১৬ অক্টোবর মহালয়া হবে। ২৩ অক্টোবর সপ্তমী ও দশমী হবে ২৬ অক্টোবর। কিন্তু বিভিন্ন সোশাল সাইটে ঘুরছে পুজোর ৩৫ দিন আগে মহালয়া হয়ে যাবে। কেউ বলছেন ১৫ সেপ্টেম্বর মহালয়া আবার কেউ বলছেন মহালয়া পড়েছে ১৭ সেপ্টেম্বর। কিন্তু সবটাই ভুল ও অপপ্রচার। ফলে সপ্তমীর ৭ দিন আগেই মহালয়ার দেবীপক্ষের সূচনা হবে।’’

পুরাণবিদ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ীকে এই স্ক্রিনশটে উদ্ধৃত করা হয়েছে। বুমের পক্ষে অবশ্য এটি কোন সংবাদপত্রের অংশ যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সম্প্রতি ছড়ানো নিউজপ্রিন্ট যেখানে বলা হচ্ছে মহালয়া ও পুজো হবে নিয়মমাফিক।

পরের বছর আশ্বিন মাস মলমাস হওয়ায় মহালয়ার ৩৫ দিন পরে শুরু হবে দুর্গোৎসব এরকম ভাইরাল হওয়া আগের ফেসবুক পোস্ট বুম খঁজে পেয়েছে।

এরকম একটি বার্তায় লেখা হয়েছিল, ‘‘মহালয়ার ৩৫ দিন পর পুজো। কলকাতা: আগামী বছর মহালায়ার ৩৫ দিন পর পুজো। মহালয়া পড়েছে ১৭ সেপ্টেম্বর। আর ষষ্ঠী ৩৫ দিন বাদে ২২ অক্টোবর। দুটি অমাবস্যা পড়ায় আগামী বছর আশ্বিন মাস মল মাস। সেই কারণেই পুজো পিছিয়ে কার্তিক মাসে চলে গিয়েছে। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত ও গুপ্তপ্রেস দুই পঞ্জিকা মতেই এটা ঘটেছে। অতীতে কখনও এইরকম ঘটনা দেখা যায়নি।"

পোস্টটি দেখা যাবে এখানে। পোস্টটি আর্কাইভ করা আছে এখানে

বুমের হোয়াটসঅ্যাপ হেল্পলাইনে (৭৭০০৯০৬১১১) আমাদের একজন পাঠক এই সংক্রান্ত একটি বার্তা পাঠিয়ে বিষয়টির সত্যতা জানতে চেয়েছিলেন।

বুমের হোয়াটসঅ্যাপ হেল্পলাইনে আসা বর্তাটি।

বাংলা ক্যালেন্ডার বা পঞ্জিকা তৈরি হয় চন্দ্রমাস অনুযায়ী। বাংলাতে পঞ্জিকার গণনা চলে সূর্য সিদ্ধান্ত ও দৃকসিদ্ধান্ত রীতিতে। কোনও মাসে দুটি অমাবস্যা থাকলে তাকে বলা হয় ‘মলমাস’।

প্রথা অনুযায়ী মলমাসে কোনও শুভকাজ অনুষ্ঠিত হয়না। ১৪২৭ বঙ্গাব্দে এরকম একটি মলমাস হবে আশ্বিন। এবং পর্যায়ক্রমে এই চন্দ্র মাস পেরলে কার্তিক মাসে হবে পুজো।

"বিশ্বকর্মা পুজোর পরের দিন থেকে শুরু হচ্ছে আশ্বিন মাস। মলমাস যে কোনও মাসই হতে পারে। এনিয়ে কোনও বিতর্ক নেই। দুর্ভাগ্যবশত পরের বছর আশ্বিন মাস হচ্ছে মলমাস। মহালয়ার পরেই শুরু হচ্ছে মলমাস।"

অরিজিৎ রায় চৌধুরি, কর্ণধার, গুপ্ত প্রেস

পরের বছর ১৪২৭ সালে ১ আশ্বিন মহালয়ার পিতৃতর্পন হবে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রথম অমাবস্যায়। আশ্বিনের দ্বিতীয় অমাবস্যা হবে তার ২৯ তম দিনে ১৬ অক্টোবর।

নৈমিত্তিক পুজো বা শুভকাজের নির্ঘন্টে রদবদল হলেও, সর্বজনীন কিংবা বারোয়ারি দুর্গা পুজোয় এই ধরনের মলমাসের কোনও প্রভাব নেই। কারন ওই সব পুজোয় দুর্গা দেবীর আরাধনা শুরু হয় মহাষষ্ঠীতে।

২০০১ ও ১৯৯৮ সালে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

Claim :   মহালায়ার ৩৫ দিন পর দুর্গাপুজো
Claimed By :  FACEBOOK POSTS AND NEWS ARTICLE
Fact Check :  MISLEADING
Show Full Article
Next Story
Our website is made possible by displaying online advertisements to our visitors.
Please consider supporting us by disabling your ad blocker. Please reload after ad blocker is disabled.