বিজেপির মতে দুর্গা এবং সরস্বতী পূজা উদযাপনের বাধা বাংলায়?

জানুয়ারি, স্মৃতি ইরানী, ইউনিয়ন টেক্সটাইল মন্ত্রী একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাদেরকে রাজ্যে দুর্গা পূজা ও সরস্বতী পূজা পালন করতে দেয়নি।

গত এক সপ্তাহের মধ্যে, ভারতীয় জনতা পার্টির পশ্চিমবঙ্গের একাংশ মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন টিএমসি সরকারের বিরুদ্ধে কিছু গুরুতর অভিযোগ আনে। বিজেপির দুটি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জ্যেষ্ঠ নেতা এবং বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ এবং কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি - তাঁরা তৃণমূল শাসিত সরকারের উপর আঙুল তোলেন সংখ্যালঘুদের প্রতি তোষণের অভিযোগ নিয়ে এবং বেশিরভাগ হিন্দুকে উপেক্ষার জন্যে।

২২ শে জানুয়ারি, বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ মালদহে একটি সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন যেখানে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের বাসিন্দাদের সরস্বতী পূজা ও দুর্গা পূজা উদযাপন করার অনুমতি দেয়নি। ২৪ জানুয়ারি, স্মৃতি ইরানী, ইউনিয়ন টেক্সটাইল মন্ত্রী একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাদেরকে রাজ্যে দুর্গা পূজা ও সরস্বতী পূজা পালন করতে দেয়নি।

নীচে অমিত শাহের ভিডিওটি দেখে নিন:

ভিডিওটি অমিত শাহের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া হয়েছে। এই ভিডিওটিতে শাহ বলেন, "দিদি জনগণকে দুর্গা পূজা ও সরস্বতী পূজা উদযাপন করতে দিচ্ছে না।" নীচে স্মৃতি ইরানির ভিডিওর লিঙ্ক।

প্রায় 4:40 মিনিটের ভিডিওতে ইরানি বাংলাতে বলছেন, "দিদি জনগণকে দুর্গা পূজা ও সরস্বতী পূজা উদযাপন করতে দিচ্ছেন না। দিদি অনুপ্রবেশকারীদেরকে বাংলায় প্রবেশ করতে দিচ্ছে।"

আসলে কি ঘটছিল:

২০১৭ সালে মমতা ব্যানার্জী শাসিত পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি আদেশ জারি করে যে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য ১ লা অক্টোবর মোহরমের দিনে দুর্গা পুজার বিসর্জন অনুষ্ঠিত হবে না। সেই বছর দশমী ৩০ শে সেপ্টেম্বর পরে এবং মুখ্যমন্ত্রীর আদেশ অনুযায়ী ৩০ শে সেপ্টেম্বর অথবা ২রা অক্টোবরের পর প্রতিমা নিরঞ্জনের ব্যাবস্থা রাখা হয়।

২০১৭ সালে যেহেতু বিজয়া দশমীর একদিন পর মোহরম পালিত হওয়ার কথা হয়, মুখ্যমন্ত্রী জনগণকে একে অপরকে সহযোগিতা করার জন্য আবেদন করেন এবং সাম্প্রদায়িক শান্তি বজায় রাখার অনুরোধ করেন।

সব পূজা কমিটির সাথে বৈঠককালে ব্যানার্জী বলেন, "কিছু চতুর্থাংশ জনগণকে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য প্ররোচিত করার চেষ্টা করতে পারে এবং এতে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহণের চেষ্টা করতে পারে।"

এই সিদ্ধান্তের পর, বিজেপি কলকাতা হাইকোর্টের দারস্ত হয়, এই আবেদন নিয়ে যে দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জন এবং মোহরম যাতে একই দিনে ১লা অক্টোবর পালন করা জেতে পারে।
এ বিষয়ে তিনটি পিআইএলও দাখিল করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাই কোর্ট ৩০ সেপ্টেম্বর বিজয়দসমি থেকে সমস্ত দিন দুর্গা মূর্তিগুলি নিমজ্জিত করার অনুমতি দেয় মোহারমের দিন সহ। পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাকেশ তিওয়ারি ও বিচারপতি হরিশ টন্দনের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। বেঞ্চ যথাক্রমে হিন্দু ও মুসলমানদের জন্য নিমজ্জন ও তাজিয়া প্রক্রিয়াকরণের জন্য মনোনীত রুটগুলি খোলার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ করে।

যদিও রাজ্য প্রশাসনের দ্বারা এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। কলকাতা হাইকোর্ট আদেশ দেয় যে, হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী দুর্গা প্রতিমা নিমজ্জন ৩০ শে সেপ্টেম্বর থেকে সমস্ত দিন হবে।

যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার সাথে একই দিনে মূর্তি নিমজ্জন ও মোহরম রাখার আদেশ দেয়ায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার সব প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করে যাতে উভয় উৎসবের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকে এবং শান্তিপূর্ণভাবে হয়।

বুম সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, যিনি বলেন, "আমরা দুর্গা মূর্তি নিমজ্জন করার অনুমতি পালন করেছি এবং ২০১৭ সালে আমরা যথাযথ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনা করেছি। বিজেপি বাংলার জনগণকে মিথ্যা বলছে, বাঙালি সরকার তাদের দুর্গা পূজা উদযাপন করার অনুমতি দিচ্ছে না।“ এদিকে কিছু সাম্প্রদায়িক গুজবের কারণে ২০১৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের দুটি রাজ্য স্কুলগুলিতে সরস্বতী পূজা ও নবী দিবস অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। ২০১৭ সালে একই দিনে নবী দিবস ও সরস্বতী পূজা পরার ফলে ইসলামপন্থী গোষ্ঠী ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মধ্যে হাওড়ায় তেহট্ট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সরস্বতী পূজা উদযাপনে প্রতিরোধ করা হয়। পরিস্থিতি অস্থির হয়ে যাওয়ার ফলে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষ হস্তক্ষেপ করে এবং সাম্প্রদায়িক রেষারেষি থেকে বিরত থাকার জন্য স্কুলটি কয়েক দিনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।

রাজারহাটের একটি স্কুলে অনুরূপ উত্তেজনা রিপোর্ট করা হয় যেখানে কিছু মুসলমান ছাত্র এবং ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর একটি অংশ দাবি করে যে, সরস্বতী পূজা উদযাপনের আগেই নবী দিবস পালন করা উচিত। স্কুল বন্ধ ছিল এবং তারপর এটি দুদিনের পর পুনরায় খোলা ছিল। বিষয়টি রাজ্য পুলিশ বিভাগ কর্তৃক নেওয়া হয়েছিল এবং তারা বিষয়টি সমাধান করে আবার স্থানীয় জনগণের সাথে কথা বলে স্কুলটি পুনরায় চালু করে। বিজেপি দাবি করে যে, মমতা ব্যানার্জি সরকার স্থানীয় স্কুলে অধ্যয়নরত ছাত্রদের দুর্দশার অবহেলা অব্যাহত রেখেছে, যদিও তৃণমূল কংগ্রেস সরকার রাজ্যে সাম্প্রদায়িক ক্ষোভকে কমিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেছে।

২০১৮-তে, সরস্বতী পূজা সকল সরকারি স্কুলগুলিতে পালিত হয়। দুর্গা পূজাও শান্তিপূর্ণ ভাবে পালন করা হয়।

Next Story