Connect with us

রাজ্য সরকারি ব্রতচারী পাঠ্যপুস্তকে নামাজের শিক্ষাদান?

রাজ্য সরকারি ব্রতচারী পাঠ্যপুস্তকে নামাজের শিক্ষাদান?

পোস্টের দাবি – দ্বিতীয় শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে কোরান এবং ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষাদান চলছে সরকারি স্কুলগুলিতে।

ফেসবুক ইউজার কিশোর বর্মণের একটি ভাইরাল পোস্ট দাবি করে যে পশ্চিমবঙ্গের মমতা ব্যানার্জি সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ভাবে সাম্প্রদায়িক রঙে রাঙিয়ে দিয়েছেন। শুধুমাত্র রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িকতা নয়, তার বীজ বপন হয়েছে ক্লাসরুমেও। পোস্টের দাবি – দ্বিতীয় শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে কোরান এবং ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষাদান চলছে সরকারি স্কুলগুলিতে।

পোস্টটি ৪ জানুয়ারী শেয়ার করা হয় এবং ইতিমধ্যে ৮০র ও বেশিবার শেয়ার করা হয়েছে। বর্মণ তাঁর ফেসবুক পেজে দাবি করেন যে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্য যুগ্মসাধারণ সম্পাদক (সংগঠন)।পোস্টটি এক ঝলক এখানে দেখে নিন এবং আর্কাইভ দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

আরেকজন ফেসবুক ইউজার, রজনী ঠুক্রাল, যিনি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মেম্বার, অনুরূপ দাবি করেছেন।

আর্কাইভ দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

বুম পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষা কাউন্সিলের সচিব, মানিক ভট্টাচার্যের সাথে যোগাযোগ করে, যিনি বলেন, “নামাজের প্রস্তাবিত পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের সাথে ফেসবুক পোস্টে আপলোড করা হয়েছে। এটি একটি উদাহরণ মাত্র।একই অধ্যায়ে ছাত্রদের প্রভু যীশুর জন্যে প্রার্থনাও তুলে ধরা হয়েছে। এই পোস্টটি ইচ্ছাকৃত ভাবে সরকারের মুসলমান তোষণ প্রকল্প বলে চালানো হচ্ছে।এই বইটি ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয় এবং ২০১৮ সাল থেকে, এই বইটি সব রাজ্য পরিচালিত স্কুলের ক্লাস ২ এর পাঠক্রমে রাখা হয়েছে।”

স্বাস্থ্য ও শরীরশিক্ষা নামক বইটির একটি পিডিএফ ফরম্যাটেও বুম সংগ্রহ করেছে। এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পাঠ্যপুস্তকগুলির মধ্যে একটি অন্যতম পুস্তক যেখানে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন নিজেদের সুস্থ রাখতে শেখানো হয়েছে। বইটির সপ্তম অধ্যায় “ব্রতচারীতে”, দেখানো হয় যে, কীভাবে ছাত্ররা প্রতিটি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে পারে। এই অধ্যায়ে, প্রথম ছবিতে ছাত্ররা নামাজের প্রস্তাব দেয় এবং দ্বিতীয় ছবি দেখায় ছাত্ররা প্রভু যীশু কে প্রার্থনা করছে। পরের পৃষ্ঠায় বিভিন্ন দেব দেবীকে আরাধনার পদ্ধতি রয়েছে।

পরের পৃষ্ঠায় একটি ছবি রয়েছে যা দেখায় যে কিভাবে হিন্দু দেব দেবীরা প্রার্থনা করতে পারে।এবং কিভাবে তারা শারীরিক অনুশীলনের করতে পারে – যেটি দেখানোর জন্য একটি ছবিও দেওয়া আছে।

বুম রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তাঁর মতামতের জন্যে এবং তাঁর দল এই দাবির সঙ্গে সম্মত কিনা, তা জানতে। তিনি বলেন, “ফেসবুক পোস্টে কি আপলোড করা হয়েছে তা দেখতে হবে এবং তারপরে আমি মন্তব্য করতে পারি।বর্তমানে আমি বাংলায় বিভিন্ন সমাবেশে ব্যস্ত।আমি এই বিষয়ে কিছু মন্তব্য করার আগে পোস্ট চেক করতে হবে।"

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top