২০২১ এর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের একবার পশ্চিমবঙ্গে ভোটের প্রচারে এলেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে বুধবার রাতে কলকাতা আসেন অমিত শাহ।

বৃহঃস্পতিবার সকালে রাসবিহারী অ্যাভিনিউতে ভারত সেবাশ্রম সংঘের আশ্রম পরিদর্শন করে দিনের কর্মসূচী শুরু করেন অমিত শাহ।

৬ ফেব্রুয়ারি বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা নবদ্বীপ থেকে প্রথম দফার পরিবর্তন যাত্রা শুরু করেন। ৯ ফেব্রুয়ারি বীরভূম ও ঝাড়গ্রাম থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফার যাত্রা শুরু হয়। গত ১১ ফেব্রুয়ারি কোচবিহার থেকে ৪র্থ দফার যাত্রা সূচনা করতে রাজ্যে এসেছিলেন অমিত শাহ।

দুপুর ১২ টা ৪৫ নাগাদ গঙ্গাসাগরে পৌঁছান অমিত শাহ। কপিল মুনির আশ্রমে পুজো দেন। পরে জনসভায় বলেন, “আজ আমার জন্য সৌভাগ্যের দিন, গঙ্গাসাগরের পবিত্র স্থানে উপস্থিত হতে পেরে আমি ভাগ্যবান। এই জন্য কথায় বলে, সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার।”

গঙ্গার পৌরাণিক প্রসঙ্গ টেনে অমিত শাহ বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার তৈরি হলে এখানেও ‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্পের কাজ হবে।" প্রতিশ্রুতি দেন ক্ষমতায় এলে গঙ্গাসাগরের মেলাকে আন্তর্জাতিক মেলা ঘোষণা করবে বিজেপি।

বেলা দেড়টা নাগাদ নামখানার ইন্দিরা ময়দানে পৌঁছান অমিত শাহ। এই সমাবেশে অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগদান করেন। হিরণ তৃণমূলের যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন।

নামখানায় অমিত শাহের বক্তৃতা চলার সময় ব্যরিকেডে উঠে দাঁড়িয়ে এক মহিলা কালো পতাকা দেখিয়ে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। মহিলাকে টেনে নামানোর চেষ্টা করেন বিজেপি কর্মীরা। পরে কর্তব্যরত মহিলা পুলিশকর্মীরা তাঁকে সভা থেকে বের করে দেন। শাহ অভিযোগ করেন ‘এসব মমতাদির পদ্ধতি।’
বিজেপি বাংলাতে ক্ষমতায় এলে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা হবে বলেন—অমিত শাহ। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতিও দেন অমিত।
শাহ বলেন, ‘‘কেন্দ্রের ‘কৃষক সম্মান নিধি’ প্রকল্পের আদলে ‘মৎস্যজীবী সম্মান নিধি’ প্রকল্প চালু করা হবে। প্রায় ৪ লাখ মৎস্যজীবী বছরে ৬ হাজার টাকা করে পাবেন।’’ এ ছাড়াও বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছের ন্যায্য দাম পেতে ‘মৎস্যজীবী প্রডিউস অর্গানাইজেশন’ তৈরি করা হবে।

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কাকদ্বীপের নারায়নপুর গ্রামে সুব্রত বিশ্বাসের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারেন অমিত শাহ। টোটো চেপে সেখানে পৌঁছান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তারপর কাকদ্বীপে রোড শো করে সন্ধ্যায় কলকাতার শেক্সপিয়ার সরণীতে অরবিন্দ ভবনে যান তিনি।