Connect with us

দুটাকা কেজি চাল প্রকল্প কারা প্রথম চালু করেন? তৃণমূল না বিজেপি

দুটাকা কেজি চাল প্রকল্প কারা প্রথম চালু করেন? তৃণমূল না বিজেপি

সমাবেশের রেকর্ডিংএর একটি অংশে, অমিত শাহ বলেন যে পশ্চিমবঙ্গে সকল দারিদ্র সীমার নীচে থাকা ব্যাক্তিদের দু টাকা কেজি চাল বিলি করা হয়েছে

বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে, তাঁর সমাবেশে দাবি করেন যে, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার দরিদ্র সীমার নীচে বসবাসকারীদের দুটাকা কেজি চাল, দিয়েছে। সমাবেশের রেকর্ডিংএর একটি অংশে, অমিত শাহ বলেন যে পশ্চিমবঙ্গে সকল দারিদ্র সীমার নীচে থাকা ব্যাক্তিদের দু টাকা কেজি চাল বিলি করা হয়েছে।

ভি19:38 থেকে 19:54 পর্যন্তের মধ্যে শাহ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে নরেন্দ্র মোদি সরকার সকল মানুষের জন্যে ২ টাকা কেজি প্রতি রুপ চাল দিয়েছে”; শাহ তাঁর দাবিতে উল্লেখ করেছেন যে তৃণমূল সরকার নরেন্দ্র মোদি সরকারের পরিকল্পনার অনুরূপ করছে এবং আঞ্চলিক নাম দিয়ে, তাদের নিজেদের প্রকল্প হিসাবে চালাচ্ছে।

অমিত শাহ আরও বলেন, “নরেন্দ্র মোদি বেটি বাচাও বেটি পড়াও শুরু করেছেন, আর মমতা দিদি এই প্রকল্পটি কন্যাস্রী হিসাবে এখানে চালাচ্ছেন। নরেন্দ্র মোদি খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্প শুরু করেছেন, মমতা সেই প্রকল্পটির নাম খাদ্য সাথি দিয়েছেন এবং রাজ্য সরকারের বলে চালাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম স্মারক পরিকল্পনা, প্রধানমন্ত্রীর আওয়াজ পরিকল্পনা ও স্বচ্ছ ভারতও শুরু করেছেন। প্রকল্পগুলির নাম বাংলার মমতা ব্যানার্জি সরকার দ্বারা পরিবর্তিত হয়েছে এবং এটি যথাক্রমে বাংলা গ্রাম স্মারক পরিকল্পনা, বাংলা আওয়াজ যোজনা এবং নির্মল বাংলা প্রদান করে, রাজ্য সরকারের বলা হচ্ছে। মোদিজি টয়লেট সুবিধা, নির্মিত সড়ক, জনগণকে খাদ্য সরবরাহ প্রদান করেছেন এবং মমতা দিদি এই প্রকল্পগুলি ‘হাইজ্যাক’ করছেন এবং দাবি করছেন যে তিনি এই প্রকল্পগুলি শুরু করেছেন।“

ফুড সিক্যুরিটি আক্ট 2013 সালে সংসদে পাস করা হয়। উল্লেখ্য যে পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (পিডিএস) এর অধীনে সুবিধাভোগী প্রতি মাসে প্রতি ব্যক্তির 5 কেজি খাদ্যশস্য বরাদ্য।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়, রাজ্য সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রীর মতে, পিডিএস কর্তৃক সরবরাহকৃত খাদ্যশস্য ছাড়া খাদ্য সাথি প্রকল্পে প্রতি মাসে প্রতি ব্যক্তিকে প্রতি কিলোগ্রাম চালের অতিরিক্ত 2 টাকা প্রদান করা হয়। শাহ বলেন, “মমতা ব্যানার্জী জনগণকে জানাতে চান না যে তাঁদের কাছে ২ টাকা কেজি চাল আসছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন মোদি সরকারএর কাছথেকে।“

রাজ্য সরকার সূত্রে বুম জানতে পারে যে, ২6 জানুয়ারি ২013, মমতা ব্যানার্জী সরকার পশ্চিমবঙ্গে খাদ্যসাথি প্রকল্প চালু করে। এই প্রকল্পের অধীনে, উপজাতীয় গোষ্ঠী, বন্ধ চা বাগান শ্রমিকদের, ফুটপাতে থাকা বাসিন্দাদের, আইলা ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ, পুরুলিয়ার খরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এবং দার্জিলিং ও জঙ্গলমহল উপজাতীয়রা ২ টাকা কেজি চাল পাবেন। এই প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো বিপিএল কার্ডধারীদের খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা। প্রায় 8.5 কোটি মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী, বলে জানা গেছে।

জনসভায় অপমানজনক বিবৃতি দেওয়ার জন্য বিজেপি সভাপতি অমিত শাহকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। চন্দ্রীমা ভট্টাচার্য, এমওএস স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে শাহকে তার বেআইনি বিবৃতির জন্য একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছি। তিনি জনসভায় বলেছেন, চিট ফান্ড কোম্পানির মালিকদের কাছে তার পেইন্টিং বিক্রি করে মমতা ব্যানার্জি কোটি কোটি টাকা পেয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি কোন প্রমাণ দেখাতে পারেননি। তাঁর এই বিষয়ে প্রমাণ বা জনসমক্ষে তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করা উচিত। এমনকি শাহের দাবি যে জনগণকে প্রতি কেজি চালের জন্য ২ টাকা প্রদান করেছে সেটি বিভ্রান্তিকর।

দাবিটি বিভ্রান্তিকর এবং মিথ্যা; “খাদ্য সাথি প্রকল্প 27 জানুয়ারি 2016 আনুষ্ঠানিকভাবে মমতা ব্যানার্জি সরকার দ্বারা চালু করা হয়েছিল।“ পার্থ চট্টোপাধ্যায় রাষ্ট্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, “আমি মঙ্গলবার অমিত শাহের কথা শুনেছি এবং তাঁর দাবি যে নরেন্দ্র মোদি সরকার ২ কেজি চাল সরবরাহ করেছে মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর। বিজেপি এখনো তাদের ভোটকেন্দ্র বাংলায় বাড়িয়ে তুলতে পারেনি, তারা মিথ্যা প্রচারণার উপর নির্ভর করছে এবং মমতা ব্যানার্জির পরিকল্পনাগুলি অনুরূপ করার চেষ্টা করছে, যা ইতিমধ্যে বাংলায় শুরু হয়েছে।“

(BOOM is now available across social media platforms. For quality fact check stories, subscribe to our Telegram and WhatsApp channels. You can also follow us on Twitter and Facebook.)


Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top