বিহারের বন্যায় কি কুমির দেখা গেল? না, গুজরাটের ভিডিও পাটনার বলে চালানো হচ্ছে

বুম দেখে ভিডিওটি দু’মাস আগে গুজরাটে তোলা। সেই সময় একটি কুমির চলে এসেছিল একটি বসতি এলাকায়।

গুজরাটের বন্যাকবলিত বদোদারা শহরে একটি কুমির এসে পড়লে, সেটিকে উদ্ধার করার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। কিন্তু মিথ্যে দাবি করা হয়েছে যে, বিহারে সাম্প্রতিক বন্যার সময় প্রাণীটিকে নাকি দেখা গেছে পাটনা শহরে।

বিগত ৪৮ ঘন্টায়, বিহারের তিন জেলায় প্রবল বৃষ্টিপাত হয়। ওই বর্ষণের ফলে একাধিক দুর্ঘটনায় অন্তত পক্ষে ২৯ জন মারা যান। ২০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি বুমের হোয়াটস্যাপ নম্বরে (৭৭০০৯০৬১১) যাচাই করার জন্য আসে।

হোয়াটঅ্যাপ বার্তার স্ক্রিনশট।

‘শিক্ষা পয়েন্ট’ নামের এক ফেসবুক পেজ ভিডিওটি শেয়ার করে। সঙ্গে ক্যাপশনে লেখে, “ভারি বর্ষণের সময় পাটনায় কুমির।” এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত, ভিডিওটি ১৪,০০০ বার দেখা হয়েছিল।

পোস্টটি দেখা যাবে এখানে। পোস্টটি আর্কাইভ করা আছে এখানে

‘বিহারে কুমির দেখা গেছে’—এই শিরোনামে ভিডিওটি একাধিক ফেসবুক পেজে ভাইরাল হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টটির স্ক্রিনশট।

‘এবিপিনিউজ’ ভাইরাল ভিডিও সম্প্রচার করে

এবিপি নিউজের ভিডিওর স্ক্রিনশট।

পোস্টটি দেখা যাবে এখানে। পোস্টটি আর্কাইভ করা আছে এখানে

এবিপি নিউজ তাদের ‘সুপার ৪০’ সংবাদ বুলেটিনে ফেসবুকে আপলোড করা ভিডিও ক্লিপটি ৪৫ সেকেন্ডের মাথায় দেখায়।

তথ্য যাচাই

বুম ভিডিওটিকে কয়েকটি প্রধান ফ্রেমে ভেঙ্গে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে। তার ফলে, ‘এনডিটিভির’ একটি সংবাদ বুলেটিন আমাদের সামনে আসে। সেটি এ বছর অগস্ট ৩ তারিখে ইউটিউবে আপলোড করা হয়েছিল।

এনডিটিভির সংবাদ বুলেটিনে ওই ভাইরাল ভিডিওর দৃশ্যটি ১০ সেকেন্ডের মাথায় দেখা যায়।

এই বছর অগস্ট মাসে গুজরাটে বন্যার সময় ওই ফুটেজ তোলা হয়।

এনডিটিভিতে ভিডিওটির বিবরণে বলা হয়, “গুজরাটে জলমগ্ন রাস্তায় কুমির উদ্ধারের হাড় হিমকরা কাজ।” আরও বলা হয়, “এ সপ্তাহে বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত গুজরাটের বদোদারায় এক নাটকীয় উদ্ধার কাজ চালানো হয়। না, বাড়তে থাকা জলে আটকে-পড়া কোনও ব্যক্তি বা পোষ্য নয়—একটা কুমির। গুজরাটের বদোদারায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হলে, চারজন মারা যান এবং কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যেতে হয়। ২৪ ঘন্টায় ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয় বদোদারায়। নদীর জল উপচে পড়ায়, কুমির ভেসে চলে আসে শহরের রাস্তায়। ফলে, বাসিন্দাদের কাছে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।”



‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’ তাদের ৩ অগস্ট ২০১৯ তারিখের রিপোর্টে লেখে, “একটি ১০ ফিট লম্বা কুমির বসতি এলাকায় চলে আসে। ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ফোর্স আর বন দপ্তরের যৌথ চেষ্টায় সেটিকে উদ্ধার করা হয়।”

৫ অগস্ট ২০১৯ তারিখে, টাইমস অফ ইন্ডিয়ার আপলোড করা ভিডিওতেও অন্য অ্যাঙ্গেল থেকে তোলা একই ঘটনার ছবি দেখা যায়।



বসতি এলাকায় কুমির ঢুকে পড়ার ভিডিও বুম আগেও যাচাই করে দেখেছিল।

আরও পড়ুন: না, এই ভিডিওর কুমির ভর্তি নদীটি গুজরাটের বিশ্বমিত্রী নদী নয়

Claim Review :  বিহারের পাটনায় বন্যায় কুমীর
Claimed By :  FACEBOOK POSTS
Fact Check :  FALSE
Show Full Article
Next Story