২০ বছর জেল খেটে ১২২ জন মুসলিম নির্দোষ—দাবিটি বিভ্রান্তিকর

বুম দেখে ওই ব্যক্তিদের ২০০১ সালের ডিসেম্বর মাসে গ্রেফতার করা হলেও গত ২০ কারাবাসে ছিলেন না।

একটি ভাইরাল গ্র্যাফিকে দাবি করা হয়েছে যে, গুজরাটের (Gujarat) একটি কোর্ট ১২২ (122) জন মুসলিম (Muslims) পুরুষকে ২০ বছর পর নির্দোষ বলে জেল থেকে মুক্তি দিয়েছে, কিন্তু দাবিটি বিভ্রান্তিকর। স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অফ ইন্ডিয়া-র (Student's Islamic Movement of India- SIMI) এসআইএমআই তথা সিমি'র সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁদের গ্রেফতার (Arrested) করা হয়েছিল।

বুম দেখে যে, ঠিকই, ২০০১-এ সিমি'র সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে গ্রেফতার-হওয়া ১২২ মুসলিম পুরুষকে, ৬ মার্চ গুজরাটের একটি কোর্ট নির্দোষ ঘোষণা করে। কিন্তু এমন নয় যে তাঁরা ২০ বছর জেলেই কাটান, যদিও তেমনটাই দাবি করা হয়েছে সোশাল মিডিয়ায়। তাঁরা সকলেই জামিনে বাইরে ছিলেন। ডিসেম্বর ২০০১-এ, সিমি'র এক কথিত জনসভায় যোগ দেওয়ার অভিযোগে, ভারতের বিভিন্ন দিক থেকে আসা ১২৭ জনকে গ্রেফতার করে সুরাটের পুলিশ। বিচার চলা কালে
তাঁদের মধ্যে পাঁচ জন মারা যান

ভাইরাল গ্র্যাফিকটিতে, এক দল মুসলিম পুরুষের একটি ছবি রয়েছে। আর লেখা হয়েছে, "কোনও অপরাধ না করা সত্ত্বেও, ২০ বছর জেলে কাটালেন। নিষিদ্ধ সংগঠন সিমি'র সদস্য হওয়ার অভিযোগে ইউএপিএ আইনের অধীনে তাঁদের ২০০১ সালে সুরাটে গ্রেফতার করা হয়। গুজরাটের কোর্ট তাঁদের বেকসুর খালাস করে দিয়েছে। কোর্ট বলে, "তাঁরা যে সিমি'র সদস্য, প্রসিকিউটার তা প্রমাণ করার জন্য, 'নির্ভরযোগ্য ও সন্তোষজনক তথ্য পেশ করতে পারেনি।' এই ভাবেই গণতন্ত্র চলে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে।"
পোস্টটি নীচে রয়েছে। আর্কাইভ দেখুন এখানে


পোস্টটি টুইটারফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর গ্র্যাফিকটি টুইট করেন। আর ক্যাপশনে লেখেন, "বিষয়টা সহজ করে বলি। সন্ত্রাসের মিথ্যে অভিযোগে, একশ'রও বেশি মুসলমান বিচারাধীন হয়ে ২০ বছর জেলে কাটান। ২০ বছর!!! সেটা যেন মাথায় ঢোকে।"

তথ্য যাচাই

গুজরাটের ওই রায় সংক্রান্ত বেশ কিছু সংবাদ প্রতিবেদন দেখে বুম।
৭ মার্চ, ২০২১ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়, সুরাটের একটি কোর্টের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শনিবার ১২৭ জনকে বেকসুর খালাস করেন। নিষিদ্ধ সংগঠন সিমি'র আয়োজিত একটি সভায় যোগ দেওয়ার অভিযোগে, ২০০১ সালে তাঁদের আনলফুল অ্যাক্টিভিটিস (প্রিভেনশন) অ্যাক্টে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কোর্ট বলে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পেশ করা প্রমাণগুলি 'যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য ও সন্তোষজনক নয়'। এমনটাই লেখা হয় ওই কাগজে।
"১২৭ জনের মধ্যে ১১১ জন শনিবার কোর্টে হাজির ছিলেন। সাত জন মারা গেছেন। পাঁচ জন অন্যান্য অভিযোগের কারণে জেলে আছেন। আর চারজন শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন। তাঁদের প্রায় সকলেই ১০ মাস থেকে এক বছর জেলে ছিলেন। তারপর গুজরাট হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর, তাঁরা ছাড়া পান," বলা হয়
এক্সপ্রেস
-এর রিপোর্টে।
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্টে বলা হয় যে, জামিন পাওয়ার আগে সব অভিযুক্তই প্রায় ৯ মাস জেলে ছিলেন।

৮ মার্চে প্রকাশিত ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয় যে, ২০০১-এ গ্রেফতার হওয়ার প্রায় এক বছরের মধ্যে অভিযুক্তরা জামিন পান। রিপোর্টটিতে আরও বলা হয় পাঁচ জন ছাড়া, অভিযুক্তদের সকলেই জামিনে জেলের বাইরে ছিলেন। ওই পাঁচজন অন্য অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে জেলে বন্দি আছেন।
যদিও অভিযুক্তরা জেলে আটক ছিলেন না, রিপোর্টে বলা হয় তাঁরা আর্থিক অনটনের মধ্যে ছিলেন ও সামাজিক ভাবে তাঁদের একঘরে করে রাখা হয়
মামলাটি কী নিয়ে?
২৮ ডিসেম্বর ২০০১-এ, সুরাট পুলিশ ১০ টি রাজ্য থেকে আসা ১২৭ জনকে গ্রেফতার করে। ওই শহরের রাজশ্রী হলে অল ইন্ডিয়া মাইনরিটি এডুকেশন বোর্ডের একটি সভায় যোগ দিয়েছিলেন তাঁরা। ৯ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসবাদী হানার প্রায় দু'মাস পরে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
অবশেষে, ৬ মার্চ ২০২১-এ ওই দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষ হয়।
Claim Review :   দোষ না করেও ২০ বছর হাজতে ১২২ জন মুসলিম ব্যক্তি ছাড়া পেল
Claimed By :  Social Media Posts
Fact Check :  Misleading
Show Full Article
Next Story