না, বদরুদ্দিন আজমল বলেননি ভারত একটি ইসলামিক রাষ্ট্র হবে

বুম দেখে ভাইরাল ভিডিওটি ২০১৯ সালে অসমের বরপেটায় এক জনসভায় বদরুদ্দিন আজমলের ভাষণের জোড়াতালি অংশ।

অসমের অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (All India United Democratic Front) নেতা মৌলানা বদরুদ্দিন আজমলের (Badruddin Ajmal) ২০১৯ লোকসভার পূর্বে প্রকাশ্যে জনসভার একটি বক্তব্যের কাটছাঁট করা ভিডিও ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর দাবি সহ সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়েছে। পোস্টেগুলির সম্পাদনা করা ভিডিও ক্লিপটিতে বদরুদ্দিন আজমলকে মোঘল শাসনের প্রসঙ্গ তুলে ভারতকে ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত করা হবে বলতে শোনা যায়।

বুম দেখে ভাইরাল পোস্টের দাবিগুলি ভুয়ো, ভিডিওটি আজমলের একটি দীর্ঘ নির্বাচনী বক্তৃতার জোড়াতালি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। মূল ভিডিওটি ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল অসমের বরপেটায় মৌলানা বদরুদ্দিন আজমলের একটি নির্বাচনী জনসভার।

২০২১ সালের মার্চ মাসে ভারতের পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাডুর, পুদুচেরি সাথে উত্তরপূর্বের সবথেকে জনবহুল রাজ্য অসমে বিধানসভা নির্বাচন। বর্তমানে রাজ্যের শাসনভার রয়েছে বিজেপি দলের হাতে। প্রধান প্রতিপক্ষ হতে পারে কংগ্রেস, এআইইউডিএফ, বরো পিপল ফ্রন্ট, বামপন্থী, সিপিআইএমএল ও আঞ্চলিক গণ মোর্চার মহাজোট। বর্তমানে অসাম বিধানসভায় মৌলানা বদরুদ্দিন আজমলের এআইইউডিএফ দলের ১৪ জন বিধায়ক রয়েছে। বাংলা ভাষাভাষী অধ্যুষিত বরাক থেকে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার
অহমিয়া
ভাষী অঞ্চলে প্রভাব রয়েছে এআইইউডিএফ-এর। এআইইউডিএফ প্রথম দফা নির্বাচনের জন্য ১৬ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।
এরই প্রেক্ষিতে মৌলানা বদরুদ্দিন আজমলের একটি বক্তৃতার অংশকে জোড়াতালি দিয়ে ৩৬ সেকন্ডের একটি ক্লিপ সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল করা হয়েছে। ওই ক্লিপে আজমলকে বলতে শোনা যায়, "এ ভারতবর্ষে আটশ বছর মুঘল বাদশাহরা শাসন করেছে, রাজত্ব করেছে। এই দেশকে ইসলামিক রাষ্ট্র করবো। মিনিস্ট্রি কার হবে? আমাদের মহাগটবন্ধনের হবে। ইউপিএ মহা গটবন্ধন মিলাইয়া অইখানে সরকার হইবো ইনশাআল্লাহ। আর এই সরকারের মাঝে আপনাদের দল ইউডিএফ তালা চাবির ভাগিদারী থাকবে। সমগ্র ভারতবর্ষে কোন একজনও হিন্দু মানুষ থাকবে না, সবাইকে মুসলমান বানিয়ে দেবো।"
অহমীয় সংবাদ চ্যানেল নিউজ লাইভেও এই জোড়াতালি ক্লিপ নিয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন করা হয়। এই প্রতিবেদনে বলা হয় লিগেল রাইটস অবজার্ভেটরি নামক সংস্থার টুইটের সূত্রে নিউজ লাইভ এই প্রতিবেদন করেছে।
নিউজ লাইভের ফেসবুক পেছে এই ভুয়ো খবরের প্রতিবেদনের বর্ণনায় লেখা হয়, "অসমকে ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করছে বদরুদিন আজমল। অসমকে ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত করার নিকৃষ্ট ষড়যন্ত্র AIUDF এর প্রধান বদরুদ্দিন আজমলের। চাঞ্চল্যকর ভিডিও প্রকাশ লিগাল রাইটস অবজার্ভেটরি নামক সংস্থার"
পোস্ট দেখা যাবে এখানে
। আর্কাইভ করা আছে এখানে
টুইটারে অনুসন্ধান করে বুম লিফেল রাইটস অবজার্ভেটরি টুইটটিও খুঁজে পায়।
টুইটটি দেখা যাবে এখানে। আর্কাইভ করা আছে এখানে
এই পোস্টটি ফেসবুকেও নেটিজেনরা ভাইরাল করেছে।
পোস্টটটি দেখা যাবে এখানে

তথ্য যাচাই

বুম এই এই ভাইরাল পোস্টের ভিডিও নিয়ে তথ্য যাচাই করে দেখে এআইইউডিএফ প্রধান বদরুদ্দিন আজমলের বক্তৃতার ভিডিও ক্লিপটি জোড়াতালি দেওয়া। মূল ভিডিওতে বদরুদ্দিন আজমলকে ভারতকে বা অসমকে ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত করার মতো কোনও কথা বলতে শোনা যায়না। বদরুদ্দিন আজমল এই বক্তৃা দেন ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল অসমের বরপেটাতে এক নির্বাচনী জনসভায়।
বুম ইউটিউবে কিওয়ার্ড দিয়ে খোঁজ করে এবং বদরুদ্দিন আজমলের মূল বক্তৃতার কয়েকটি ভিডিও খুঁজে পায়। বুম ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল ই
উটিউবে আপলোড করা একটি ভিডিও
দেখতে পায়। ২১ মিনিট ২৩ সেকেন্ড দীর্ঘ মূল ভিডিওটির শিরোনাম, "বরপেটায় মৌলানা বদরুদ্দিন আজমলের বক্তৃতা, এম পি নির্বাচন ২০১৯"

এই ভিডিওর ৫ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড থেকে ৭ মিনিট ২২ সেকেন্ড পর্যন্ত সময়ে বদরুদ্দিনকে মোঘল শাসন ও ইসলামিক রাষ্ট্র নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। তাঁকে বলতে শোনা যায়, "এই ভারতবর্ষে আটশ বছর মোঘলরা রাজত্ব করেছে, শাসন চালিয়েছে, কোনওদিন এই স্বপ্ন দেখার হিম্মৎ হয়নি যে এই দেশকে, ভারতকে ইসলামিক রাষ্ট্র তৈরি করবে। যদি তাঁরা এইরকম ভাবত তবে ভারতে কোনও হিন্দু মানুষ থাকত না সবাইকে মুসলমান বানিয়ে দিত। তাঁরা কি বানিয়েছে? তাঁরা সে চেষ্টাও করেনি, সেই সাহসও ছিল না। তারপর ২০০ বছর ইংরেজরা এই দেশকে শাসন করেছে কিন্তু তারাও এই দেশকে খ্রিস্টান রাষ্ট্র বানানোর স্বপ্ন দেখেনি। কংগ্রেসের নেহেরু থেকে শাস্ত্রী, রাজীব গাঁধী, নরসিংহ রাও, মনমোহন সিংহ কেউ বলেনি ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র বানাতে হবে। তাই মোদীজি এই স্পপ্ন দেখবেন না, আপনার স্পপ্ন মিথ্যে হয়ে যাবে।"
Updated On: 2021-03-10T21:04:23+05:30
Claim Review :   পোস্টের দাবি মৌলানা বদরুদ্দিন আজমল বলেছে ভারতকে ইসলামিক রাষ্ট্র বানাতে চায় ও সব হিন্দুকে মুসলমানে পরিণত করতে চায়
Claimed By :  Social Media Posts
Fact Check :  False
Show Full Article
Next Story