পুরুষের জননাঙ্গে দেওয়া হবে COVID-19 টিকা? ভাইরাল হল ভুয়ো CNN স্ক্রিনশট

বুম দেখে CNN-এর লোগোটি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ব্যবহার করে মিথ্যে দাবি করা হয়েছে শিশ্নে Covid-19 টিকা প্রয়োগ কার্যকরী।

চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণ করে বলেছেন পুরুষ রোগীদের ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ (nCOVID-19) এর প্রতিষেধক (COVID-19 Vaccine) শিশ্নে (Penis) প্রয়োগ করলে নাকি এই প্রতিষেধক শীঘ্রই সমস্ত শরীরে পৌঁছে যায়এইরকম বিভ্রান্তিকর দাবি সহ আন্তর্জাতিক ইংরেজি সংবাদ চ্যানেল সিএনএনের (CNN) একটি ব্রেকিং নিউজ স্ক্রিনশট সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। বুম যাচাই করে দেখেছে এই দাবিটি অসত্য এবং ভিত্তিহীন। এই গ্রাফিক ছবিটি একটি অনলাইন মিম জেনারেটরের সাহায্যে বানানো হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের (New York Times) তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ৬৪ টি প্রতিষেধক দিয়ে মানুষের উপর পরীক্ষা চলছে, যার মধ্যে ২০ টি ভ্যাক্সিন তাদের নিরীক্ষার অন্তিম পর্যায়ে রয়েছে এবং অন্তত ৮৫ টি ভ্যাক্সিন দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে পশুদের উপর গবেষণা চলছে।
ভারতে ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারী কোভিডের জন্য দুটি প্রতিষেধক ব্যবহারের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। একটি হচ্ছে অক্সফোর্ড এস্ট্রাজেনকা (Oxford/AstraZeneca) এবং সিরাম ইন্সটিটিউটের (Serum Institute) তৈরী করা প্রতিষেধক যা কোভিশিল্ড (Covishield) এই নামে পাওয়া যাবে এবং অন্যটি হল ভারত বায়োটেকের (Bharat Biotech) প্রস্তুত করা কোভ্যাক্সিন (COVAXIN)।
ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া গ্রাফিকে সিএনএন নিউজ ওয়েবসাইটের ইন্টারফেসের স্ক্রিনশট দেখা যাচ্ছে। সংবাদ শিরোনামে লেখা রয়েছে, "চিকিৎসকরা শিশ্নে কোভিড ভ্যাক্সিন দিতে সুপারিশ করেছেন।" (Doctors encourage covid-19 vaccine injections in penis.) ভাইরাল গ্রাফিকের মধ্যে দেখা যাচ্ছে গলায় স্টেথোস্কোপ লাগানো একজন চিকিৎসকের ছবি রয়েছে এক পাশে এবং শিশ্নে ইঞ্জেকশন দেওয়ার একটি রেখাচিত্র রয়েছে অন্য পাশে, যেখানে নির্দেশ করে লেখা রয়েছে "ইনজেকশন দেওয়ার নিরাপদ জায়গা" (safe area for injection)। নীচে আবার বর্ণনায় লেখা রয়েছে চিকিৎসকরা আবিষ্কার করতে পেরেছে যে, পুরুষ রোগীদের শিশ্নে প্রতিষেধক দিলে সবথেকে তাড়াতাড়ি প্রতিষেধক সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। আরও উল্লেখ রয়েছে এই তথ্যটি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫০০ পুরুষের মধ্যে করা একটি গবেষণা থেকে উঠে এসেছে।
এই পোস্টের ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, "করোনার ভ্যাক্সিন কেউ নেবেন নাকি?"
পোস্ট দেখা যাবে এখানে এবং আর্কাইভ করা আছে এখানে
টুইটারে ভাইরাল
টুইটটি আর্কাইভ করা আছে এখানে
টুইটটি আর্কাইভ করা আছে এখানে

তথ্য যাচাই

বুম যাচাই করে দেখে পুরুষের জননাঙ্গে কোভিড ভ্যাক্সিন দেওয়ার ব্যাপারে চিকিৎসকদের অভিমতের তথ্যটি ভুয়ো এবং অসত্য। বুম গণমাধ্যম সিএনএনের ওয়েবসাইটে খোজ করে পুরুষাঙ্গে কোভিড ভ্যাক্সিন দেওয়া নিয়ে কোন সংবাদ খুজে পায়নি।
বুম যদিও ভাইরাল হওয়া গ্রাফিকের সাথে সিএনএনের সংবাদের আসল ইন্টারফেসের কিছু অসামঞ্জস্য খুঁজে পায়। ভাইরাল প্রতিবেদনে প্রতিবেদকের নাম ও প্রতিবেদন প্রকাশের তারিখ দেওয়া নেই। সিএনএন-এর আসল ওয়েবসাইট এবং ভাইরাল ছবির মধ্যে ব্যবহার করা ফন্টের মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে।
বুম দেখে ইন্টারনেটে অনেকগুলি ব্রেকিং নিউজ মিম জেনারেটোর রয়েছে, যার মধ্যে সিএনএনের ইন্টারফেসও রয়েছে। যদিও বুম নিশ্চিত হতে পারেনি ঠিক কোন অ্যাপ দিয়ে এই ভাইরাল গ্রাফিকটি বানানো হয়েছে।
নিচে সিএনএন-এর আসল এবং ভাইরাল প্রতিবেদনের তুলনা করা হল।

বাম দিকে: আসল সিএনএন খবরের স্ক্রিনশট; ডানদিকে: ভুয়ো সিএনএন খবরের স্ক্রিনশট

বুম গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ভাইরাল গ্রাফিকে থাকা চিকিৎসককে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। বুম দেখে ব্যক্তিটি মার্কিন নিবাসি একজন পেশাগত চিকিৎসক, তাঁর নাম মোহিতকুমার আদারশানা এমডি। বায়োটে মেডিকেল
ওয়েবসাইট দেখে বুম জানতে পারে যে মোহিতকুমার ক্যালিফোর্নিয়ার ক্লারমোন্টের একজন চিকিৎসক, বুম মোহিতকুমারের সাথে এই ভাইরাল সোশাল মিডিয়া পোস্ট নিয়ে যোগাযোগ করলে মোহিতকুমার জানান, "পোস্টটি সম্পূর্ণ মিথ্যে, কেউ আমার ছবি হেক করে নিয়ে ভুয়ো ছবিটি বানিয়েছে।"

বুম তারপর যাচাই করে কোভিডের স্বীকৃত প্রতিষেধক গুলি মানব শরীরের কোন জায়গা দেওয়া হবে, এই বিষয়ে কোভিড প্রতিষেধক প্রস্তুতকারক সংস্থা ফাইজার-বায়োএনটেক Pfizer-BioNTech এর বুলেটিন খুজে পায় এবং দেখে এই প্রতিষেধক বয়স, পুরুষ ও মহিলা বিচার করে করে গ্রাহকের বাহুর ডেলটয়েড মাংসপেশীতে
প্রয়োগ করা হয়। তার ফলে প্রতিষেধকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াকে প্রশমন করা যায়। চিকিৎসা সংক্রান্ত ওয়েবসাইট গুলিতে উল্লেখ রয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষেধক হাতে অথবা উরুতে প্রয়োগ করতে হয়।
শিশ্ন গঠিত হয় স্পঞ্জী কলা ও রক্তবাহ ধমনি দিয়ে। চিকিৎসাশাস্ত্র অনুয়ায়ী টিকা প্রয়োগের উপযুক্ত স্থান নয়।
Claim Review :   ছবির দাবি CNN গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে কোভিড প্রতিষেধক পুরুষের জননাঙ্গে কার্যকর
Claimed By :  Social Media Posts
Fact Check :  False
Show Full Article
Next Story