দৈনিক ১৭৮ টাকা মজুরি, ৮ ঘন্টা করে খাটনি: ভিডিওটি বাংলাদেশের চা-শ্রমিকের
বুম ভাইরাল ভিডিওর মূল সংস্করণে দেখে ভিডিওটি বাংলাদেশের সিলেটের শ্রীমঙ্গলের একটি চা বাগানে তোলা।

দৈনিক ১৭৮ টাকার মজুরিতে (wages) পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) এক চা-শ্রমিক ২৩ কেজি চা পাতা (tea leaves) তুলছেন দাবি করে সম্প্রতি এক ভিডিও ভাইরাল হয় সমাজমাধ্যমে।
ভাইরাল ওই ভিডিওয় এক চা শ্রমিককে গ্রীন টি-র পাতা দেখিয়ে বলতে শোনা যায়, তার স্ত্রী দিনে ৮ ঘণ্টা কাজ করে ২৩ কেজি পাতা তুললে তবেই পুরো মজুরি পান। নির্ধারিত পরিমাণের থেকে চা পাতা তোলা কম হলে মজুরি থেকে ৭ টাকা কেটে নেওয়া হয় বলেও উল্লেখ করেন সেই শ্রমিক।
বুম ভাইরাল ভিডিওর মূল ও দীর্ঘতর সংস্করণে দেখে, বাংলাদেশের সিলেটের শ্রীমঙ্গল এলাকার এক চা বাগানে ভিডিওটি তোলা হয়েছিল।
ভাইরাল দাবি
এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন, "তৃণমূল বিজেপির এই ভাগাভাগি রাজনীতি ছেড়ে এই লোকটার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখুন, পৃথিবীর নির্মম সত্যকে মেনে নিয়েছে যেনো তার চোখগুলো! পরিশ্রম এবং শ্রমের দাম বলার সময় শরীর কাঁপছে ওনার! সারাদিনে ১৭৮ টাকা ইনকাম! বাস্তব এতটাই কঠিন হয়।। লাল ঝান্ডার লড়াই এই মানুষগুলি রুটি রুজির দাবিতে .... সিদ্ধান্ত আপনার, আপনি কোন পক্ষ নেবেন।"
পোস্টটি দেখুন এখানে, আর্কাইভ দেখুন এখানে।
অনুসন্ধানে আমরা কী পেলাম
ভিডিওটি বাংলাদেশের: বুম ভাইরাল ভিডিওর কিফ্রেমকে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে এক ইউটিউব ব্যবহারকারীর চ্যানেলে ভিডিওটি দেখতে পায়। ভিডিওর বর্ণনায় ঘটনাস্থল বাংলাদেশের সিলেট বলে উল্লেখ করা হয়।
এর থেকে সূত্র নিয়ে কিওয়ার্ড সার্চ করে আমরা শর্ট স্টোরিজ নামক এক ফেসবুক পেজে একই ভিডিও খুঁজে পাই যেখানে ঘটনাস্থল সিলেটের শ্রীমঙ্গল এলাকা বলে জানানো হয়। এছাড়াও ওই পোস্টে ভিডিওর কৃতিত্ব স্মাইল উইথ শিহাব বলে একটি বাংলাদেশি ফেসবুক পেজকে দেওয়া হয়।
এরপর আমরা দেখি, ভিডিওটি উক্ত ফেসবুক পেজে ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখ পোস্ট করা হয়। যিনি ভিডিওটি তুলেছেন তিনি বাংলাদেশের কুমিল্লার বাসিন্দা শিহাব বলে নিজের পরিচয় দেন। শিহাব ভিডিওয় জানান, তিনি শ্রীমঙ্গল এলাকার একটি চা বাগানে এসে ওই চা-শ্রমিকের সাথে কথা বলেন।
ওই শ্রমিককে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, তার নাম রাজকুমার এবং তিনি বর্তমানে পরিবার নিয়ে বাংলাদেশে ওই চা বাগানের কাছেই থাকেন। তার আসল বাড়ি ভারতের উড়িষ্যার জগন্নাথপুরে। ভিডিওর শেষে আমরা আদি নীলকণ্ঠ টি কেবিন নামের এক দোকানও দেখতে পাই। ওই দোকানের নীচে দেওয়া ঠিকানায় শ্রীমঙ্গল, মৌলভিবাজার লেখা দেখতে পাওয়া যায়। এর থেকে স্পষ্ট হয়, ভাইরাল ভিডিওটি বাংলাদেশের, ভারতের নয়।







