ধর্ষণে অভিযুক্তকে গণপ্রহারের ভিডিও মিথ্যে সাম্প্রদায়িক দাবিতে ভাইরাল

বুম দেখে ভিডিওর অভিযুক্ত ব্যক্তি এক কারখানার শ্রমিক দীপেশকে দিল্লি পুলিশ গ্রেফতার করেছিল।

দিল্লিতে (Delhi) এক নাবালিকাকে ধর্ষণের (minor rape) অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে স্থানীয় লোকেরা পেটায় (beating)। সেই ঘটনার ভিডিও এই মিথ্যে দাবি সমেত শেয়ার করা হচ্ছে যে, অভিযুক্ত হলেন আক্রম খান (akram khan) নামের এক মুসলমান (muslims)।

ভিডিওটির সঙ্গে দেওয়া হিন্দি ক্যাপশনে বলা হয়েছে, "করলবাগে এক চার বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। সে হল আম আদমি পার্টি'র বিধায়ক দীনেশ মোহানিয়ার সমাজ মাধ্যম সমন্বয়কারী। ভগবানের দয়ায়, লোকেরা মেয়েটিকে ঠিক সময়ে বাঁচাতে পারে। পেটানোর পর শুয়োরটাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।"

(হিন্দিতে লেখা ক্যাপশন: करोलबाग चार साल की बच्ची से बलात्कार करने की कोशिश कर रहा था यह नराधम दिल्ली आम आदमी पार्टी के विधायक दिनेश मोहनिया का सोशल मीडिया कॉडिनेटर *अकरम खान* है , वह तो ईश्वर की कृपा हुई कि लोगों ने बच्ची को समय रहते बचा लिया, पिटाई के बाद उस सूअर को पुलिस के हवाले कर दिया)


তথ্য যাচাই

ভিডিওটির প্রধান ফ্রেমগুলি দিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে, ৩১ অগস্ট ২০২১, এনডিটিভি'র একটি প্রতিবেদন দেখতে পাই আমরা। তাতে বলা হয়, দিল্লির বাপা নগরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করার অভিযোগে এক কারখানার শ্রমিককে গ্রেফতার করা হয়।

ওই প্রতিবেদনে অভিযুক্তের ছবিও ছাপা হয়। তাঁকে স্থানীয় লোকেরা ও বাচ্চা মেয়েটির পরিবারের সদস্যরা পেটায়। ভাইরাল ভিডিওটিতে যাঁকে মার খেতে দেখা যাচ্ছে, তাঁর সঙ্গে এই ছবিটি মিলে যায়।


এনডিটিভি'র প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমরা 'দিল্লির বাপা নগরে নাবালিকা ধর্ষিত' কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করি। তার ফলে, ওই ঘটনার ওপর ইন্ডিয়া টুডে, জি নিউজ, আজ তকটাইমস নাও'এর রিপোর্ট আমাদের সামনে আসে। ইন্ডিয়া টুডে'র খবর অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিকে দীপেশ নামে শনাক্ত করা হয়। বলা হয় ওই এলাকায় একটি জিনস প্রস্তুতকারক সংস্থার শ্রমিক তিনি। প্রসাদ নগর থানা তাঁকে গ্রেফতার করে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে দিল্লি পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, "ভাইরাল ভিডিওটিতে যে দাবি করা হয়েছে, সেটি মিথ্যে। অভিযুক্তের নাম দীপেশ। তিনি কোনও রাজনৈতিক পার্টির সঙ্গে যুক্ত নন। উনি একজন দিনমজুর। মেয়েটিকে চকোলেট দিয়ে কারখানার মধ্যে নিয়ে গিয়ে সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন।" তিনি আরও বলেন, "ঘটনাটির সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার কোনও যোগ নেই। পসকো আইনের আওতায় লোকটিকে গ্রেফতার করা হয়েছে ও মামলা রুজু করা হয়েছে।"

আরও পড়ুন: জলমগ্ন ঘরের ভেতর এক দম্পতির সাঁতার কাটার ভিডিও পশ্চিমবঙ্গের নয়

Show Full Article
Next Story