হোয়াটসঅ্যাপ পে কি, কি ভাবে টাকা পাঠাবেন: জেনে নিন

আরবিআই-এর কাছ থেকে বহু প্রতীক্ষিত অনুমোদন পাওয়ার এক মাসের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ পেমেন্টস শেষ পর্যন্ত চালু হল।

কয়েক বছর ধরে 'বিটা টেস্টিং' চালানো ও ভারত সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর, হোয়াটসঅ্যাপ শেষমেশ স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, আইসিআইসি ব্যাঙ্ক, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক ও অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের সঙ্গে যৌথ ভাবে তাদের টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা চালু করল। ২ কোটি ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই) ব্যবহারকারী এই পরিষেবার সুবিধা পাবেন।

এই পদক্ষেপের সঙ্গে, ভারতে ডিজিট্যাল মাধ্যমে টাকা পাঠানোর ক্রমবর্ধমান বাজারে প্রবেশ করল ফেসবুক-এর মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ। এখানে তাকে গুগল পে, পেটিএম, ওয়ালমার্টের ফোন পে ও অ্যামাজন পে-র সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।

"স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক ও অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের সঙ্গে যৌথ ভাবে সারা ভারতে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য একটি সহজ অথচ সুরক্ষিত টাকা পাঠানোর ডিজিট্যাল ব্যবস্থা চালু করতে পারায়, আমরা আনন্দিত ও নিজেদের ধন্য মনে করছি। ইউপিআই রূপান্তর ঘটানোর মতো একটি পরিষেবা। এক বিরাট সংখ্যক ব্যবহারকারী, যারা ডিজিট্যাল অর্থনীতি ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সুফল পাননি, আমরা যৌথ ভাবে তাঁদের কাছে সেই সুবিধাগুলি পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পাব," ভারতের হোয়াটসঅ্যাপ প্রধান, অভিজিৎ বোসের এই মন্তব্য উদ্ধৃত করা হয় কম্পানিটির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।

২০১৮ সালে ওই ব্যবস্থাটিকে ভারতে বিটা-টেস্ট করার অনুমতি দেওয়ার পর, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া গত বছর সুপ্রিম কোর্টকে জানায় যে, ভারতে সংগৃহীত তথ্য, স্থানীয় ভাবে রাখার যে নিয়ম ভারতের আছে, হোয়াটসঅ্যাপ পেমেন্টস তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এবং আরবিআই ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়াকে বলে যে, ওই প্ল্যাটফর্মকে ইউপিআই-এর মাধ্যমে লেনদেন করার অনুমতি যেন না দেওয়া হয়। কিন্তু গত এপ্রিলে, ৫.৭ বিলিয়ন ডলার দিয়ে ভারতের টেলিকম শিল্পের বৃহৎ কম্পানি জিও-র ১০% শেয়ার কিনে নেওয়ার কিছু দিনের মধ্যে, হোয়াটসঅ্যাপ ঘোষণা করে যে, তারা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সব নিয়ম মেনে চলবে। ‍

গত মাসে, পিয়ার টু পিয়ার (P2P) ভিত্তিতে হোয়াটসঅ্যাপ পেমেন্টস-এর কাজ শুরু করার অনুমতি পায় ফেসবুক। ২০ মিলিয়ন বা ২ কোটি ব্যবহারকারী নিয়ে কাজ শুরু করে, ক্রমশ সই সংখ্যা বাড়িয়ে নিতে পারবে তারা। হোয়াটসঅ্যাপে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রেজিস্টার করিয়ে নেওয়ার পর, টাকা পাঠানোর কাজটা মেসেজ পাঠানোর মতই সহজ হয়ে যাবে।

তাতে আরও বলা হয় যে, এই নতুন বৈশিষ্ট্যটি ভারতীয় সমাজের ডিজিট্যাল ক্ষমতায়নের যে পরিকল্পনা ভারত সরকার করেছে, তার সঙ্গে সেটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিজ্ঞপ্তিটিতে বলা হয়, "হোয়াটসঅ্যাপ ও ইউপিআই-এর বিশেষ কাঠামো যৌথভাবে, আজকের দিনের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলিকে অতিক্রম করার লক্ষ্যে এগোবে। যেমন, ডিজিট্যাল অর্থনীতিতে গ্রামের মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ব্যাঙ্ক ও আর্থিক পরিষেবা থেকে যাঁরা এতদিন বঞ্চিত ছিলেন, তাঁদের কাছে ওই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া।"

হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কীভাবে টাকা পাঠাব?

২ কোটি ব্যবহারকারীর মধ্যে আপনার যদি এই সুবিধাটি থেকে থাকে, তাহলে আপনি এখনই শুরু করতে পারেন। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে গেলে, প্রথমে ইউপিআই-এর মারফত নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ওই অ্যাপটিতে রেজিস্টার করতে হবে। ঠিক যেমন গুগল পে বা ফোন পে-র ক্ষেত্রে করতে হয়।

হোয়াটসঅ্যাপে নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নথিভুক্ত করতে হলে:

১। হোয়াটসঅ্যাপ খুলুন; ডান দিকের কোণে যে তিনটি ফুটকি আছে, সেগুলির ওপর ক্লিক করুন।

২। যে ড্রপ-ডাউন মেনু আসবে, সেখানে পেমেন্টস-এ ক্লিক করুন।

৩। 'অ্যাড পেমেন্ট মেথড'-এর ওপর ক্লিক করুন।

৪। এরপর আপনাকে নির্দেশ দেওয়া হবে আপনার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে আপনি যে ব্যাঙ্কটি নথিভুক্ত করাতে চান সেটিকে চিহ্নিত করার।


৫। আপনার ব্যাঙ্ক সিলেক্ট করা হয়ে গেলে, হোয়াটসঅ্যাপ আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যুক্ত করার আগে, একটি এককালীন পাসওয়ার্ড (OTP) পাঠিয়ে আপনার ফোন নম্বরটি যাচাই করে নে্বে।

৬। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যুক্ত করা হয়ে গেলে, আপনাকে আবার প্রথম ধাপে ফিরে যেতে হবে। এবং সেখানে 'পেমেন্টস'-এর ওপর ক্লিক করতে হবে।

৭। এবার আপনি দেখতে পাবেন যে, আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আপনার হোয়াটসঅ্যাপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। এবার আপনি 'নিউ পেমেন্টস'-এ (নতুন পেমেন্টস) ক্লিক করতে পারেন।

৮। এবার আপনি ইউপিআই আইডেনটিটি যোগ করে বা QR কোড স্ক্যান করে, অথবা হোয়াটসঅ্যাপে আপনার কোনও 'কনট্যাক্ট'কে (যাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট হোয়াটসঅ্যাপের সঙ্গে যুক্ত করা আছে), আপনি টাকা পাঠাতে পারেন। একটি ইউপিআই পিন ব্যবহার করে ট্রানজ্যাকশনের বৈধতা যাচাই করে নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: ১৫ বছর ধরে ভুয়ো তথ্য প্রচার ভারতীয় সংস্থার, কি বলছে ইউরোপীয় তদন্ত

Updated On: 2020-12-17T12:17:14+05:30
Show Full Article
Next Story