ইঁট হাতে উর্দিধারীর পুরনো ছবিকে দিল্লিতে পুলিশি জুলুম বলা হল

দু'হাতে ইঁট-পাটকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক পুলিশ কর্মীর এই ছবিটি কিন্তু সাম্প্রতিক দাঙ্গার আগে থেকেই অনলাইনে ছিল।

দুই হাতে পাথর নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের উর্দি পরা একটি লোকের পুরনো ছবিকে উত্তর-পুর্ব দিল্লির সাম্প্রতিক গোলযোগের সময়ের দৃশ্য বলে সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করা হয়েছেl বুম দেখেছে, ছবিটি অন্তত ২০১৫ সাল থেকে অনলাইনে রয়েছে, অথচ দিল্লিতে 'পুলিশের সমর্থনে ঘটা হিংসার নমুনা' হিসাবে ছবিটিকে ভাইরাল করা হয়েছেl এই হিংসায় দিল্লি পুলিশের এক হেড-কনস্টেবল সহ সর্বশেষ অন্তত ৪০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং দেড় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে।

ছবিটির হিন্দি ক্যাপশনের অনুবাদ করলে দাঁড়ায়: "এদের জন্যেই আজ দিল্লির পরিস্থিতি এমন খারাপ হয়েছে।"

ফেসবুকে এই ছবিটি রবীশ কুমার পেজ-এ শেয়ার করা হয়েছে এবং এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত দেড় হাজার জন এটি শেয়ার করে ফেলেছে।

ফেসবুক পোস্টটি নীচে দেখুন:



পোস্টটি আর্কাইভ করা আছে এখানে। একই ক্যাপশন দিয়ে অন্য অনেকগুলি পোস্টও ফেসবুকেও ভাইরাল হয়েছে।

বুম দেখেছে, এই ছবি ও তার ক্যাপশন টুইটারেও ভাইরাল হয়েছে। টুইটারে শেয়ার হওয়া ছবিগুলির ক্যাপশনে আরও এক ধাপ এগিয়ে লেখা হয়েছে: "দিল্লি পুলিশ নিজেরাই পাথর ছুঁড়ছে আর তারপর দোষ দিচ্ছে যারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছে, তাদের উপর।"

২৩ ফেব্রুয়ারি এই অশান্তির সূত্রপাত, যেদিন নাগরিকত্ব আইনের বিরোধী ও সমর্থকরা ভজনপুরা, কারওয়াল নগর, চাঁদবাগ প্রভৃতি এলাকায় পরস্পরের উপর চড়াও হয়। তারা দোকানপাটে আগুন লাগিয়ে দেয়, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং তাণ্ডব চালাতে থাকে। সশস্ত্র জনতা খোলা রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াতে থাকে এবং গোলমাল শুরু হওয়ার দুদিন পরেও হিংসা থামার কোনও লক্ষণ না থাকায় দিল্লি পুলিশ যথেষ্ট কড়া ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্য সমালোচিত হতে থাকে। কেউ-কেউ এমনও ইঙ্গিত দেন যে, পুলিশ হানাদারদের প্রশ্রয় ও সমর্থন দিচ্ছে।

তথ্য যাচাই

বুম খোঁজখবর নিয়ে দেখে, পাথর হাতে পুলিশের এই ভাইরাল হওয়া ছবিটি দিল্লির সাম্প্রতিক হাঙ্গামার অনেক আগেকার ছবি। ছবিটার উত্স বুম খুঁজে পায়নি, কিন্তু এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে যে, এমনকী ২০১৫ সালেও এই ছবিটি সোশাল মিডিয়ায় দেখা গেছে।

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে তামিলনাড়ুতে জাল্লিকাট্টুর সমর্থকদের বিক্ষোভের মোকাবিলায় পুলিশকে এ ভাবে পাথরে সজ্জিত হয়ে দেখানো ছবিটা প্রথম ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি টুইটারে আত্মপ্রকাশ করে। জাল্লিকাট্টু তামিলনাড়ুর একটি ঐতিহ্যবাহী বাত্সরিক ষাঁড়ের লড়াইয়ের উত্সব। ২০১৭ সালে পশুদের প্রতি নৈতিক আচরণ করার সংগঠন পেটা-র একটি আবেদনের উত্তরে সুপ্রিম কোর্ট জাল্লিকাট্টুকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে গোটা তামিলনাড়ু জুড়ে তার প্রতিবাদ ওঠে।


তবে শুধু সে সময়েই যে ছবিটি অনলাইনে ভাইরাল হয়েছে, এমন নয়। তার আগে, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরেও বুম একটি টুইটে ছবিটির খোঁজ পেয়েছে।

Updated On: 2020-03-02T20:17:59+05:30
Claim Review :  ছবির দাবি দিল্লি পুলিশ উত্তর পূর্বের শহরে হিংসাতে অংশ নিয়েছে
Claimed By :  Facebook page 'Ravish Kumar Page'
Fact Check :  False
Show Full Article
Next Story