আমদাবাদে পুলিশের ওপর পাথর ছোঁড়ার ভিডিওকে দিল্লির ঘটনা বলে চালানো হচ্ছে

বুম দেখে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে গুজরাতের আমদাবাদে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মারমুখী হয়ে ওঠার সময় ভিডিওটি তোলা হয়।

আমদাবাদে তোলা তিন মাসের পুরনো একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় আবার প্রচার করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে এই মিথ্যে দাবি করে যে, সেটি নাকি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-পীড়িত দিল্লির ছবি।

ভিডিওটিতে সাইরেন বাজিয়ে এক মারমুখী জনতার মধ্যে দিয়ে একটি পুলিশ জিপকে এগিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে আর সেটিকে লক্ষ্য করে ইঁটপাটকেল ছুঁড়ছে জনতা।

সেনাবাহিনীর প্রাক্তন অফিসার ও বিজেপি সদস্য মেজর সুরেন্দ্র পুনিয়া ভাইরাল ভিডিওটি টুইট করেন এবং মিথ্যে দাবি করে বলেন যে, দিল্লির দাঙ্গার একটি দৃশ্য সেটি।

হিন্দিতে পুনিয়ার টুইটের বাংলা করলে দাঁড়ায়: "ওরা কাশ্মীরকে দিল্লিতে নিয়ে এসেছে। ওরা কেবল পাথর ছুঁড়ছে না, ওরা ভারতকে ভাঙছে।"

টুইটটি আর্কাইভ করা আছে এখানে

পুনিয়া আগেও ভুয়ো খবর ছড়িয়েছেন এবং বুম তা খণ্ডন করেছে।

মিথ্যে দাবি সহ ভিডিওটি অশোক পন্ডিতও শেয়ার করে। তাঁর ছড়ানো ভুয়ো খবর বুম আগেও নস্যাৎ করেছ। (সে সম্পর্কে পড়ুন এখানেএখানে)

টুইটটি আর্কাইভ করা আছে এখানে

ফেসবুকে ভাইরাল

ওই একই ভিডিও, একই ক্যাপশন সহ ফেসবুকেও শেয়ার করা হচ্ছে।


তথ্য যাচাই

ভিডিওটি খুঁটিয়ে দেখলে, গুজরাতি ভাষায় লেখা দোকানের সাইনবোর্ড চোখে পড়ে। তাই থেকে বোঝা যায় যে, ভাইরাল ভিডিওটি গুজরাতে তোলা, দিল্লিতে নয়, যেমনটি দাবি করা হচ্ছে।

'চিরাগ টেলার্স'-এর নাম দেখা যায় ছবিতে।


'চিরাগ টেলার্স' এবং 'আমদাবাদ'—এই দু'টি শব্দ দিয়ে গুগুলে সার্চ করলে দেখা যায়, দোকানটি গুজরাতের আমদাবাদ শহরে শাহ আলম এলাকায় অবস্থিত। গুগুল ম্যাপে দোকানটির যে অবস্থান দেখানো হয়েছে, সেই ম্যাপে অন্য দোকানের অবস্থানও মিলে যায়। যেমন, ভাইরাল ভিডিওতে দেখানো হয় 'ফেমাস চিকেন সাপ্লায়ার্স'-এর অবস্থান।

তাছাড়া, কি-ওয়ার্ড 'আমদাবাদ', 'স্টোন' ও 'পুলিশ' দিয়ে টুইটারে সার্চ করলে দেখা যায়, 'দেশগুজরাত' ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯-এ ভাইরাল ভিডিওটি টুইট করেছিল। ক্যাপশনে বলা হয়, "আমদাবাদের শাহ-এ-আলম এলাকায় সিএবি-র (নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল) বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় জনতা পুলিশের ওপর পাথর ছোঁড়ে। একজন মহিলা পুলিশ সহ দুজন পুলিশ কর্মী আহত হন। একটি পুলিশের গাড়িও আক্রান্ত হয়।"

এই সংক্রান্ত সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯ সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সময়, বিক্ষোভকারীরা মারমুখী হয়ে কয়েকজন পুলিশকে ঘিরে ধরে । ওই ঘটনার আরও বেশ কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়। সেগুলিতে, এক দল লোককে এক পুলিশ অফিসারকে মারতে দেখা যায়। ওই ঘটনার ভিডিও দেখে অনলাইনে ধিক্কার জানান অনেকে।

পিটিআই-এর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায় পুলিশের ওপর আক্রমণের অভিযোগে একজন কংগ্রেস কাউন্সিলর ও আরও ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় ওই সময়।

'টিভি১৯'-এর গুজরাটি প্রতিবেদনেও একই ঘটনাক্রম লক্ষ করা যায়। ওই ভিডিওটি ডিসেম্বর ২০১৯ ইউটিউবে আপলোড করা হয়।

Updated On: 2020-03-01T19:56:47+05:30
Claim Review :   ভিডিওর দাবি প্রতিবাদীরা দিল্লির দাঙ্গায় পাথর ছুঁড়ছে
Claimed By :  Major Surendra Poonia, Facebook Post
Fact Check :  False
Show Full Article
Next Story