২০০৬'র যুদ্ধ বিরোধী প্রতিবাদে কফিনের ছবিকে ইরানের মিসাইল হামলা বলা হচ্ছে

বুম যাচাই করে দেখেছে ছবিটি ২০০৬ সালের মার্চ মাসে হলিউডের রাস্তায় প্রতিবাদের সময়ের।

সোশাল মিডিয়ায় যুদ্ধ বিরোধী প্রতিবাদের পুরনো ছবি শেয়ার করে দাবি করা হয়েছে সেগুলি ইরানের মিসাইলের হামলায় মৃত মার্কিন সেনাদের ছবি।

মার্কিন সেনা হতাহত হওয়ার খবরটি ২০০৬ সালের সম্পর্কহীন ছবি সহ শেয়ার করা হচ্ছে। সে বছরের মার্চ মাসে হলিউডের রাস্তায় যুদ্ধ বিরোধী প্রতিবাদে এই নকল কফিনগুলো সাজানো হয়।

৩ জানুয়ারি ২০২০ আমেরিকার হানায় ইরাকি মিলিটারি জেনারেল কাসেম সুলেইমানির মৃত্যুর পর আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত। ইরান পাল্টা হানা চালাচ্ছে ইরাকে থাকা আমেরিকার সেনা ঘাঁটি গুলিতে। বিস্তারিত পড়ুন এখানে

ভাইরাল হওয়া পোস্টে ক্যাপশন লেখা হয়েছে, ''এ পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী ইরানের ১৫ টি মিসাইল হামলায় অন্তত ৯৭ জন মার্কিন সৈন্য নিহত এবং ৫ শতাধিক আহত হয়েছে যাদেরকে হেলিকপ্টারে করে চিকিৎসার জন্য নেয়া হচ্ছে। একই সাথে ১২টিরও অধিক হেলিকপ্টার ও ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে''

ওই পোস্টের সঙ্গে ৮ জানুয়ারি বুধবার প্রকাশিত দ্য ডিজিট্যাল বাংলেদেশ নামে একটি ভুঁইফোড় পোর্টালের প্রতিবেদনও শেয়ার করা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে শিরোনাম লেখা হয়েছে, ''ইরানের ১৫ টি মিসাইল হামলায় ৯৭ জন মার্কিন সৈন্য নিহত আহত ৫ শতাধিক''

এই একই বয়ানে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে ছবি ও ভুয়ো খবরটি।


তথ্য যাচাই

বুম যাচাই করে দেখেছে ইরানি মিসাইলের হামলায় মৃত মার্কিন সেনাদের ছবি বলে বলে দাবি করা সারি সারি কফিনের ছবিটি ২০০৬ সাল থেকে ইন্টারনেটে রয়েছে।

আমেরিকার পতাকা মোড়ানো নকল কফিন বাক্সের ছবিটি ২০০৬ সালের মার্চ মাসের। ইরাকে আমেরিকা সেনার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ও যুদ্ধ বিরোধী প্রতিবাদে শান্তিকামী মানুষজন ওই কফিন বাক্সে গুলি সাজিয়ে হলিউডের রাস্তায় প্রতিবাদে সামিল হন। ৩১ মার্চ ২০০৬ তারিখে তোলা ছবিটি দেখা যাবে এখানে


ইরানের মিসাইল হামলায় কোনও আমেরিকার ও ইরাকের মানুষের প্রাণহানি ঘটেনি হোয়াইট হাউসের তরফে এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরাকি বায়ুসেনা ঘাঁটিতে ইরানের মিসাইল হানার পর নানা গুজব ছড়িয়েছে। সে ব্যাপারে পড়া যাবে এখানে

Claim Review :  ইরাকের মিসাইল হানায় ৯৭ জন মার্কিন সৈন্য নিহত এবং ৫ শতাধিক আহত হয়েছে
Claimed By :  Facebook Pages
Fact Check :  False
Show Full Article
Next Story