মোদীকে নিয়ে আঁকা ব্যঙ্গচিত্রটি মার্কিন শিল্পী বেন গ্যারিসনের তৈরি নয়

বুম দেখে দুটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্রকে বিকৃত করে এই কার্টুনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বিদ্রূপ করে আঁকা একটি পুরনো, ফোটোশপ করা ব্যঙ্গচিত্র জিইয়ে তুলে আগের মতোই দাবি করা হচ্ছে যে, এটি মার্কিন রক্ষণশীল ব্যঙ্গচিত্রী বেন গ্যারিসনের আঁকা।

বুম দেখেছে, ২০১৭ সাল থেকে অনলাইনে থাকা এই রাজনৈতিক কার্টুনটি বেন গ্যারিসনের আঁকা দুটি আলাদা কার্টুনকে মিশিয়ে ফোটোশপ করে তৈরি করেছিলেন ভারতীয় ব্যঙ্গচিত্রী সতীশ আচার্য।

কার্টুনটির নাম দেওয়া হয়: "শুয়োরের ঠোঁটে লিপস্টিক", যাতে নরেন্দ্র মোদীর মুখের আদলে একটি মা-শূকর আঁকা হয়েছে, অনেকগুলি শূকরছানা যার দুধ খাচ্ছে। এই ছানাগুলির গায়ে বিভিন্ন সংবাদ-মাধ্যমের প্রতীক আঁকা রয়েছে। পিছনে দেখা যাচ্ছে একটি বিমূঢ কুকুরকে, যার গায়ে লেখা 'ভাগবত', যা আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতকে বোঝাচ্ছে।

'লিপস্টিক অন আ পিগ" কথাটির দ্বারা বোঝায় প্রসাধনী সংস্কারকে, যা কোনও কুদর্শন চেহারায় কোনও মৌলিক পরিবর্তন আনে না, ওপর-ওপর রঙ চড়ায় মাত্র।

সোশাল মিডিয়া এই ব্যঙ্গচিত্রটি ব্যবহার করছে এটা বোঝাতে, যে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলি সবই নরেন্দ্র মোদীর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

একজন যেমন এই কার্টুনটির ক্যাপশন দিয়েছে: "মার্কিন কার্টুনিস্ট বেন গ্যারিসন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে একটি লিপস্টিক রাঙানো শূকর হিসাবে ব্যঙ্গ করেছেন, সংবাদ-মাধ্যমগুলি যার দুধ খেয়েই বেঁচে আছে।"

পোস্টটি আর্কাইভ করা আছে এখানে

অনেকেই কার্টুনটি শেয়ার করার সময় লিখছেন: "এমনকী মার্কিন ব্যঙ্গচিত্রীরাও ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোকে মোদীর বশংবদ হিসাবেই দেখতে শুরু করেছে।" এ ধরনেরই একটি পোস্টের আর্কাইভ করা আছে এখানে

একজন চিনা আবার কার্টুনটি টুইট করেছেন গালওয়ান উপত্যকায় সংঘটিত সাম্প্রতিক ভারত-চিন সীমান্ত সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে। টুইটটি আর্কাইভ করা আছে এখানে

দ্য ওয়্যার সংবাদসংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এম কে বেণুও এই কার্টুনটিকে শেয়ার করেছেন। টুইটটি আর্কাইভ করা আছে এখানে


তথ্য যাচাই

অনুসন্ধান চালিয়ে আমরা দেখি, বেন গ্যারিসনের আঁকা মূল কার্টুনটি প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৮ মার্চ, যেখানে মা-শূকর রূপী হিলারি ক্লিন্টনকে দেখানো হয়েছিল। ক্লিন্টন শুয়ে তার শাবকদের দুধ খাওয়াতে, যাদের গায়ে 'প্রতারক', 'ভুয়ো পুঁজিবাদ', 'লবি করা লোকজন' এবং 'মিথ্যাচার' এই সব লেবেল সাঁটা ছিল। রূপক বা প্রতীকি অর্থে অঙ্কিত এই কার্টুনটি তখন প্রকাশিত হয়, যখন হিলারি ক্লিন্টন ডেমোক্রাট দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসাবে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন।

গ্যারিসন কার্টুনটির পাশাপাশি 'লিপস্টিক অন আ পিগ: আ বেন গ্যারিসন কার্টুন' নাম একটা ব্লগপোস্টও তখন চালু করেন। তাঁর ওয়েবসাইটে নিজের সম্পর্কে লেখা বিবরণ খুঁটিয়ে পড়লে দেখা যায়, গ্যারিসন ভোটে জেতার আগে থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন এবং পরেও তিনি আমেরিকার সেই বিরল ব্যঙ্গচিত্রী, যিনি ট্রাম্পকে অনুকূল আলোয় এঁকেছেন।

বুম-এর তরফে গ্যারিসনের কাছে এই কার্টুনটির ব্যাপারে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছে, তাঁর জবাব পেলেই প্রতিবেদনটি সংস্করণ করা হবে।


মোদী এবং বেন গ্যারিসন এই দুটি শব্দ বসিয়ে ইন্টারনেটে খোঁজ করে দেখা গেছে, ফোটোশপ করা এই কার্টুনটি অন্তত ২০১৭ সাল থেকে সেখানে রয়েছে। ব্যঙ্গচিত্রী সতীশ আচার্য জানান, তিনি এই কার্টুনটি এঁকেছিলেন ২০১০ সালে, যখন মোদী গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং তাঁর ৬০ বছর বয়ঃপূর্তি উপলক্ষে। তিনি বলেন: "কেউ আমার কার্টুন থেকে মোদীর মুখটি তুলে নিয়ে গ্যারিসনের কার্টুনে ফোটোশপ করে দেয়।"

কে এই অপকর্মটি করে থাকতে পারে, সে কথা সতীশের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন: "সচরাচর এই ধরনের লোককে খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। ব্যঙ্গচিত্রগুলো নিয়মিত ভাইরাল হয় এবং একবার এগুলো ইন্টারনেটে চলে গেলে তার ওপর আমাদের চিত্রীদের কোনও নিয়ন্ত্রণই থাকে না।"

তবে ভারতীয় রাজনীতি নিয়ে আঁকা কার্টুনে এই প্রথম যে বেন গ্যারিসনের সই ফোটোশপ করে জোড়া হল, এমন নয়। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে ভাইরাল হওয়া একটি কার্টুনের অনুসন্ধান চালিয়ে বুম দেখেছিল, সেটাও বেন গ্যারিসনের নামে ফোটোশপ করা হয়েছিল। যেহেতু বেশ কিছু কাল ধরেই কার্টুনটি ইন্টারনেটে ছিল, তাই গ্যারিসন ২০১৭ সালে একটা ব্যাখ্যা দিয়ে বলতে পেরেছিলেন যে ফোটোশপ করা ওই কার্টুনটি তাঁর নয়, এবং তিনি কখনওই ভারতীয় রাজনীতিকদের নিয়ে কোনও ব্যঙ্গচিত্র আঁকেননি।

Updated On: 2020-07-07T17:02:11+05:30
Claim :   আমেরিকার কার্টুনিস্ট বেন গ্যারিসন ভারতীয় গণমাধ্যম ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে কার্টুন এঁকেছেন
Claimed By :  Social Media Post
Fact Check :  False
Show Full Article
Next Story
Our website is made possible by displaying online advertisements to our visitors.
Please consider supporting us by disabling your ad blocker. Please reload after ad blocker is disabled.