বেঙ্গালুরুর ঘটনা বলে মিথ্যে করে ছড়াল পশ্চিমবঙ্গের বিক্ষোভের ভিডিও

বুম দেখে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় এবছরের জুলাই মাসে ওই প্রতিবাদ বিক্ষোভ দেখানো হয়েছিল।

জুলাই ২০২০ তে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলায় ব্যাপক বিক্ষোভের ভিডিওকে কর্ণাটক বেঙ্গালুরুর ঘটনা বলে চালানো হচ্ছে।

বুম দেখে, ওই ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের ৩১ নং জাতীয় সড়ক অবরোধ করতে দেখা যাচ্ছে। ওই জেলার চোপড়া অঞ্চলে এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সেখানে ধুমধুমার বেধে যায়।

বেঙ্গালুরুতে এ মাসের প্রথম দিকে যে মারদাঙ্গা হয়, তারই পরিপ্রেক্ষিতে মিথ্যে দাবি সহ ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে।

১১ অগস্ট সন্ধ্যায়, বেঙ্গালুরুর ডিজে হাল্লি এলাকায় এক উত্তেজিত জনতা বেশ কয়েকটি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার পর দু'টি থানায় আগুন ধরানর চেষ্টা করে। ফেসবুকে নবী মোহম্মদ সংক্রান্ত এক অবমাননাকর ছবি পোস্ট করার অভিযোগে, কংগ্রেস বিধায়ক অখন্ড শ্রিনিভাসা মুর্তির আত্মীয় টি নবীনকুমারকে গ্রেফতার করার দবি করছিল ওই জনতা।

ভাইরাল পোস্টটি এখানে দেখা যাবে; আর্কাইভ সংস্করণ এখানে

আরও পড়ুন: ইসলাম নিয়ে আমির খানের ভুয়ো সাক্ষাৎকার শেয়ার করলেন কঙ্গনা রানাউত

তথ্য যাচাই

বেঙ্গালুরুতে হাঙ্গামা ১১ অগস্ট সন্ধ্যের সময় শুরু হয় এবং অনেক রাত পর্যন্ত তা চলে। কিন্তু ভাইরাল ভিডিওটিতে দিনের বেলার ঘটনা দেখানো হচ্ছে।

আমরা দেখি, ওই একই ভিডিও ২৩ জুলাই ২০২০ তারিখে ইউটিউবে আপলোড করা হয়েছিল। বাংলায় লেখা ক্যাপশনে বলা হয়, "১৬ বছরের রাজবংশী কিশোরীকে গণধর্ষণের প্রতিবাদে এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ. NTK Bangla"।

প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করলে, ওই ঘটনা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি সংবাদ প্রতিবেদন সামনে আসে।

বুম দেখে, বৈদ্যুতিন সংবাদ সংস্থা এএনআই ১৯ জুলাই ওই একই ভিডিও টুইট করে।

ওই ঘটনার যে ক্লিপ হিন্দুস্তান টাইমস প্রকাশ করে (এএনআই-এর ভিডিওটি একই) এবং এনডিটিভির দেখানো ভিডিওতে আমরা ভাইরাল ক্লিপের দৃশ্যটিই দেখতে পাই।

ওই ঘটনার ওপর এনডিটিভির প্রতিবেদন নীচে দেখা যাবে।

ভাইরাল ভিডিও ও হিন্দুস্থান টাইমস-এ প্রকাশিত ভিডিওর ফ্রেমগুলি আমরা মিলিয়ে দেখি।

হিন্দুস্থান টাইমস-এর রিপোর্টে বলা হয়, ঘটনাটি ১৯ জুলাই উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় ঘটে।

"একটি ১৫ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যা করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে, রবিবার দুপুরে উত্তর বঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। কিন্তু পুলিশ বলে যে, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট অনুযায়ী মেয়েটি বিষক্রিয়ায় মারা যায়।

সংবাদ প্রতিবেদনটিতে বলা হয় যে, স্থানীয় লোকজন ভাঙ্গচুর করে এবং দু'টি সরকারি বাস ও দু'টি পুলিশের গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়।

২০ জুলাই প্রকাশিত ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতীয় জনতা পার্টির নেতারা অভিযোগ করেন যে, মৃত ব্যক্তি তাঁদের পার্টির এক স্থানীয় নেতার বোন ছিলেন। এবং এক তৃণমূল নেতা তাঁকে ধর্ষণ ও হত্যা করে। ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস অস্বীকার করে সব অভিযোগ।

ওই ঘটনা সম্পর্কে আরও পড়ুন এখানে এখানে

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সরকারি টুইটার হ্যান্ডেল থেকেও ওই ঘটনার বিবরণ টুইট করা হয়।

আরও পড়ুন: মালয়েশীয় দম্পতির ছবি অপব্যবহার করে অজাচারের ভুয়ো দাবি

চোপড়ায় মেয়েটির মৃত্যুর পরের দিন একটি ছেলের মৃতদেহ পাওয়া গেলে, ঘটনাটি অন্য দিকে মোড় নেয়।

টাইমস অফ ইন্ডিয়া'র প্রতিবেদনে বলা হয়, ছেলেটির পোস্টমর্টেম রিপোর্ট থেকে জানা যায় যে, বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয় তারও। মেয়েটির পোস্টমর্টেম রিপোর্টেও তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে বিষক্রিয়ার কথাই উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই দু'জনের মধ্যে একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল সম্ভবত, বলা হয় ওই প্রতিবেদনে ।

Updated On: 2020-08-25T18:07:08+05:30
Claim Review :   ভিডিও দাবি করেছে যে মুসলমানরা বেঙ্গালুরুতে সহিংসতার আশ্রয় নিচ্ছে
Claimed By :  Social Media Posts
Fact Check :  False
Show Full Article
Next Story