কাশ্মীরের লাল চকে ভারতের তেরঙ্গা উত্তোলনের ভাইরাল ছবিটি ফোটোশপ করা

চিত্র সাংবাদিক মুবাসসির মুস্তাক যিনি আসল ছবিটি তুলেছিলেন, তিনি ভাইরাল ছবিটিকে ভুয়ো ও সম্পাদিত বলেছেন।

ফটোশপে সম্পাদনা করা একটি ছবি শেয়ার করে ভুয়ো দাবি করা হচ্ছে যে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে শ্রীনগরের লাল চকের ওয়াচ টাওয়ারের উপর ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বুম কাশ্মীরের স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছে যে লাল চকে ভারতীয় পতাক তোলা হয়নি। ওই সাংবাদিক আরও জানান যে, লাল চক এলাকা ঘন পুলিশি টহলের মধ্যে আছে এবং শ্রীনগরের শের-ই-কাশ্মীর ময়দানে স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়েছে।

বুম সেই চিত্রসাংবাদিককের সাথেও যোগাযোগ করেছে যাঁর আসল ছবিকে সম্পাদনা করে ভুয়ো ছবিটি তৈরি করে দাবি করা হয়েছে লাল চকে ভারতের তেরঙ্গা পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ওই সাংবাদিক ছবিটিকে দেখে বলেছে ছবিটি, "নিঃসন্দেহে ফটোশপে বানানো।"
সম্পাদিত ছবিকে ভুয়ো ক্যাপশনের সাথে শেয়ার করেছেন ভারতীয় জনতা দলের নেতা কপিল মিশ্র, কিরণ খের এবং লাদাখের সাংসদ জামিয়াং সেরিং নামগিয়াল।
২০১৯ সালের ৫ অগস্ট কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ভারতীয় সংবিধান থেকে ৩৭০ নং ধারাকে বাতিল ঘোষণা করে জম্মু-কাশ্মীরকে রাজ্যের বিশেষ মর্যাদাকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং জম্মু-কাশ্মীরকে ভাগ করে দুটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে পরিনত করা হয়।
৩৭০ নং ধারার উচ্ছেদের সাথে সাথে জম্মু কাশ্মীর রাজ্যের সমস্ত যোগাযোগের মাধ্যমকে বন্ধ করে দেওয়া হয়, ফলে অসন্তোষ আরও ছড়াতে থাকে। এই বছর ধারা ৩৭০ বাতিল করার বর্ষপূর্তির সময়ে রাজ্যে আবার ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করতে হয় এবং কাশ্মীরের নানান জায়গায় স্বাধীনতা দিবসের কথা মাথায় রেখে রাজ্যে কারফিউ জারি করা হয়।
বিজেই নেতা কপিল মিশ্র ছবিটি টুইটারে পোস্ট করে লিখেছেন, "লাল চকে তেরঙ্গা"
চণ্ডীগড়ের বিজেপি সাংসদ কিরণ খের এই ছবি টুইট করে লিখেছেন, "লাল চকে তেরঙ্গা, জয় হিন্দ"
লাদাখের বিজেপি সংসদ জামিয়াং সেরিং নামগিয়াল এই সম্পাদিত ছবি টুইট করে লিখেছেন, "৫ অগস্ট ২০১৯ এর পর থেকে কি পরিবর্তন হয়েছে? শ্রীনগরের লাল চক, যা ভারতবিরোধী প্রদর্শনের একটি চিহ্ন হিসেবে ছিল বংশ পরম্পরার রাজনীতিবিদদের এবং জিহাদিদের, এই লাল চক এখন জাতীয়তাবাদের মুকুটে পরিণত হয়েছে, #মোদীহেতোমুমকিনহে দেশবাসীকে ধন্যবাদ নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহকে নির্বাচন করার জন্য #মোদীসরকার"
টুইটগুলি আর্কাইভ করা আছে এখানে, এখানে এবং এখানে
ছবিটিকে ফেসবুকেও শেয়ার করা হয়েছে। ফেসবুকে লাল চকের দুটি ছবিকে তুলনা করা হয়েছে। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে কিছু মানুষ টাওয়ারে ইসলামিক পতাকা লাগাচ্ছেন এবং অন্য সম্পাদিত ছবিতে দেখা যায় টাওয়ারে একটি তেরঙ্গা পতাকা লাগানো আছে।



ফেসবুক পোস্টগুলির আর্কাইভ করা আছে এখানে, এখানে, এখানে এখানে এবং এখানে
তথ্য যাচাই
বুম ভাইরাল ছবিটি নিয়ে রিভার্স ইমেজ অনুসন্ধান করে এবং পুরনো ছবিটি খুঁজে পায় যেখানে ভারতের তেরঙ্গা পতাকাটি নেই।
ফ্রিলান্স সাংবাদিক মুবাসসির মুস্তাকের ব্লগ সানডে জেন্টেলম্যান এ বুম আসল ছবিটি খুঁজে পায় যেখানে ভারতীয় পতাকাটি নেই। ব্লগ পোস্টটির শিরনাম ছিল "প্যারাডাইস লস্ট?" এবং এটি প্রকাশ করা হয়েছিল ২০১০ সালের ২২ জুন। এই ব্লগ পোস্টের ছবিতে ভারতের পতাকা ছিল না। এই ছবিটি পরবর্তীতে অনেকগুলি সংস্থা ব্যবহার করেছে যার মধ্য অন্যতম ২০১৭ সালের পিটিআই এর একটি প্রতিবেদন যা ইন্ডিয়া টিভিতে প্রকাশিত হয়েছিল।
নীচে মুবাসসির মুস্তাকের ব্লগ থেকে নেওয়া আসল ছবি (ডান দিকে) এবং সম্পাদিত ছবির (বাঁ দিকে) স্ক্রিনশটের তুলনা করা হল।

বুম মুস্তাকের সাথে যোগাযোগ করেলে, তিনি বুমকে জানান যে ছবিটি ২০১০ সালের। মুস্তাক বলে, "২০১০ সালে কাশ্মীরে ছুটিতে গিয়ে আমি লাল চকে ছবিটি তুলেছিলাম। তারপর আমি ছবিটিকে আমার কাশ্মীর সম্পর্কিত ব্লগে ব্যবহার করেছি।" মুস্তাক আরও জানায় যে কপিল মিশ্রের টুইট সম্পর্কে সে অবগত রয়েছে। "আমাকে বলা হয়েছে আমার ছবিতে একটি ভারতের পতাকা জুড়ে দেইয়া হয়েছে, এটি নিঃসন্দেহে ফটোশপে বানানো।"
বুম এরপর কাশ্মীরের স্থানীয় একজন সাংবাদিকের সাথে যোগাযোগ করে তিনি আমাদেরকে এবছরের ১৫ অগস্ট অর্থাৎ আজকে লাল চকের একই জায়গার একটি ছবি তুলে আমাদের পাঠান। এই ছবিটিতে সেই ওয়াচ টাওয়ারের উপর ভারতের পতাকা দেখা যাচ্ছে না।

নীচে ছবিটির এক্সিফ ডেটা দেওয়া হয়েছে যেখানে দেখা যায় ছবিটি ২০২০ সালের ১৫ অগস্ট বেলা ১১ টা ৫ মিনিটে তুলা হয়েছে।

নিউজ এজেন্সি ইউএনআই এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা সোনাওয়ারে শের-ই-কাশ্মীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারতের ৭৪ তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।

Updated On: 2020-09-09T17:17:04+05:30
Claim Review :   ছবি দেখায় শ্রীনগরের লাল চকের ক্লক টাওয়ারে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে
Claimed By :  Kapil Mishra
Fact Check :  False
Show Full Article
Next Story