সেনাবাহিনীর হেফাজতে আং সান সু চি কাঁদছেন বলে পুরনো ছবি ভাইরাল

বুম দেখে ছবিটি সাম্প্রতিক নয়, ২০১৭ সালে তোলা সু চি'র ছবিটি রয়েছে এএফপি এবং গেট্টি ইমেজের সংগ্রহে।

কালো কাঁচ একটি গাড়িতে অশ্রু-সজল চোখে বসে আছেন মায়ানমারের জননেত্রী আং সান সু চি (Aung San Suu Kyi) – এরকম একটি ২০১৭ সালের ছবিকে ফেসবুকে ভুয়ো দাবিতে শেয়ার করা হচ্ছে। এই ছবিটিকে বলা হচ্ছে এটি সু চির জন্য একটি দৈব বিচার কেননা আং সান সু চি রোহিঙ্গা গণহত্যার (Rohingya Genocide) বিষয়কে তখন উপেক্ষা করেন এবং এখন সু চি নিজে সেনাবাহিনীর ১৪ দিনের রিমান্ডে আছেন এবং গাড়িতে বসে কাঁদছেন।

বুম দেখে এই ছবিটি সাম্প্রতিক নয়, ছবিটি তুলা হয়েছিল ২০১৭ সালে। সু চি'র রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি'র (National League for Democracy) প্রাক্তন সভাপতি আং শয়ে'র (Aung Shwe) শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার সময়ে এই ছবিটি তোলা হয়েছিল।
২০২০ সালের সাধারন নির্বাচনে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মায়ানমারে অভ্যুত্থানের (Coup) মাধ্যমে সেনাবাহিনী (Military) দেশের রাষ্ট্রেীয় ক্ষমতা দখল করে এবং এক বছরের জন্য দেশে জরুরী (Emergency) অবস্থা জারী করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আটক করতে শুরু করে । গ্রেফতার করা হয় মায়ানমারের ডি-ফ্যাক্টো নেত্রী নোবেল জয়ী (Nobel Peace Prize) আং সান সু চি'কে এবং তাঁকে ১৪ দিনের রিমান্ডে গৃহবন্দী রাখা হয়।
২০১৭ সালে মায়ানমারের পশ্চিমের (Rakhaine) অঞ্চলে বসবাসকারী রোহিঙ্গা জাতি গোষ্ঠীর
(অধিকাংশ ধর্মে মুসলমান) মানুষের উপর সে'দেশের সেনাবাহিনী জঙ্গি ও মৌলবাদ দমনের নামে তীব্র দমন পীড়ন শুরু করে। ফলে প্রায় ৭ লক্ষ রোহিঙ্গা জনজাতির লোক রাখাইন ত্যাগ করে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশের (Bangladesh) চট্টগ্রাম অঞ্চলে ঠাঁই নেয়।
এই ঘটনার জন্য মায়ানমারকে রাষ্ট্রসংঘে গনহত্যার জন্য অভিযুক্ত করা হয়
২০১৯ সালে রাষ্ট্রসংঘে আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা বিষয়ে শুনানির সময়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আইকন আং সান সু কি মায়ানমারের রোহিঙ্গা সংকটের জন্য মায়ানমার সেনাবাহিনীর হয়ে সাফাই দিয়েছেন
১৯৯১ সালে আউং সান সু চি'কে নোবেল শান্তি পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়, কিন্তু রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে আং সান সু চি'র ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিশ্বজুড়ে তার সমালোচনা শুরু হয়। পশ্চিমি দেশগুলি ও বিভিন্ন সংস্থা সু চি'কে দেওয়া
সাম্মান কেড়ে নিতে থাকে

সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া তিনটি ছবির একটি সেট ভাইরাল হয়েছে, যেখানে সু চি'কে একটি গাড়ির ভেতরে বিষন্নভাবে বসে থাকতে দেখা যায়।
পোস্টের ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, "সেই দিন রোহিঙ্গা মুসলমানদের আর্তনাদে চোখের পানিতে আরশ কেপেছিল। আর শরীরের রক্তে নাপ নদী রঞ্জিত হয়েছিল। এখনো বেশী দিন হয়নি আজ সেই শান্তির নেত্রী আজ অশান্তিতে!! ১৪দিনের রিমান্ডে! কষ্টে চোখের পানিতে বুক বিজে এটা ও একটা শিক্ষা প্রতিবেশীদের জন্য। আল্লাহ আপনি বড়ই বিচারক।।" (বানান অপরিবর্তিত)
পোস্ট দেখা যাবে এখানে। আর্কাইভ করা আছে
এখানে

তথ্য যাচাই

বুম যাচাই করে দেখে আং সান সু চি'র ছবিটি ২০১৭ সালের। সাম্প্রতিক সেনা অভ্যুত্থান এবং ১৪ দিনের সেনা রিমান্ডের ঘটনাবলীর সাথে এই ছবির সম্পর্ক নেই।
বুম ছবিটির রিভার্স ইমেজ সার্চ করে জানতে পারে ছবিটি তুলেছিলেন এজেন্সে ফ্রেন্সে প্রেসে (AFP) এর চিত্র সাংবাদিক আউং কাউ হটেট। ছবিটি গেট্টি ইমেজের সংগ্রহেও রয়েছে।
রিভার্স ইমেজ সার্চে বুম সু চি'র এই ছবি সহ ২০১৭ সালের বিবিসি ইন্দোনেশিয়া এবং গার্ডিয়ান'র প্রতিবেদন দেখতে পায় যেখানে ছবিটির স্বত্ব দেওয়া রয়েছে এএফপি এবং গেট্টি ইমেজকে।
গেট্টি ইমেজে ছবির বর্ণনায় লেখা রয়েছে, "ইয়াঙ্গুন, অগস্ট ১৭, ২০১৭, মায়ানমারের কাউন্সিলর আং সান সু চি ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) দলের প্রাক্তন সভাপতি আং শোয়ের শেষকৃত্য থেকে যাচ্ছেন /এএফপি ফটো/ আউং কাউ হটেট (ছবির স্বত্ব পড়া হবে আউং কাউ হটেট/ এ এফ পি ভায়া গেট্টি ইমেজ)"
এএফপির সংগ্রহে ছবিটি দেখতে পাবেন এখানে
মায়ানমারের সরকারী গণমাধ্যম দ্যু গ্লোবাল নিউ লাইটেও এনএলডি দলের প্রাক্তন সভাপতি আউং শোয়ে এর মৃত্যুর খবর প্রকাশ করা হয়
। শোয়ে এনএলডি দলের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং ১৯৯১ – ২০১০ অবধি সভাপতি ছিলেন।
নীচে ভাইরাল ছবি (বাম দিকে) ও আসল ছবির (ডান দিকে) তুলনা করা হল
Updated On: 2021-02-06T00:01:16+05:30
Claim Review :   ছবি দেখায় সেনাবাহিনীর হাতে বন্দী আং সান সু চি গাড়িতে বসে কাঁদছেন
Claimed By :  Facebook Posts
Fact Check :  False
Show Full Article
Next Story